রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

অক্টোবরে রেমিট্যান্স ২৮৭ কোটি ডলার ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
অক্টোবরে রেমিট্যান্স ২৮৭ কোটি ডলার ছাড়াল

প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে ২৮৭ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। টাকার হিসাবে এর পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সে অনুযায়ী, চার মাসে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। মাসটির শেষ তিন দিনে (২৯-৩১ অক্টোবর) দেশে এসেছে ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর আগে জুলাই মাসে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কমে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ডলারে নেমে আসে। অক্টোবর মাসে আবারও বাড়তে শুরু করে রেমিট্যান্স প্রবাহ, যা শেষে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসে। অক্টোবরে আবারও তা বেড়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।

অর্থাৎ, চার মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। আগস্টে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলেও পরের মাসে তা কমে যাওয়ায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে অক্টোবরে আয় বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়। আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি, পারিবারিক ভোগব্যয় ও বিনিয়োগেও প্রবাসী আয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবাসী আয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবাসী আয়ের এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে মাসভিত্তিক প্রবাহের ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা বিবেচনায় আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯২৯

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯২৯

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন।

রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪২৭ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে অক্টোবর মাসে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনের তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৯২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে। এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তির হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫৭ জন, খুলনায় ২৫৯ জন, বরিশালে ২২৯ জন, রাজশাহীতে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

জার্মানি

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে বিক্ষোভ, সন্ধ্যার পর সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে বিক্ষোভ, সন্ধ্যার পর সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাট

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতের সহিংসতায় শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জার্মানির বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। দিনের বেলায় অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ, বার্লিন ও কোলনসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং বহু মানুষকে আটক করে।

‘জেন জেড রেগেল্ট’ (Gen Z regelt) নামের একটি তরুণদের উদ্যোগের ডাকে জার্মানির ৩০টিরও বেশি শহরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার, জলবায়ু সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল কর্মসূচির উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর বিরোধিতাও ছিল বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান দাবি।

ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট

শনিবার রাতের সবচেয়ে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ঘটে জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হেসেনশাউয়ের (hessenschau) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনের বেলায় অধিকাংশ সময় শান্তিপূর্ণ থাকা বিক্ষোভ পুলিশ শেষ করে দেওয়ার পর শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মুখোশধারী কয়েকটি দল দোকানের কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে জুতা ও অন্যান্য পণ্য লুট করে। অস্ত্র বিক্রির একটি দোকানেও হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানায়, ওই দোকান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতের সহিংসতায় শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শহরের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক জাইল (Zeil), হাউপ্টভাখে ও কনস্টাবলারভাখে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং জলকামান ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করে। পুলিশের দিকে পটকা, আতশবাজি, পাথর ও বোতল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপের খবর দিয়েছে পুলিশ।

হেসেনশাউয়ের রাতের প্রতিবেদনে শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, দোকানের কাচ ভাঙা এবং লুটপাটের কথা বলা হয়। জার্মানির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির সংবাদ বিভাগ টাগেশশাউও (tagesschau) জানায়, ফ্রাঙ্কফুর্টে বেশ কয়েকটি দোকান লুট হয়েছে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

হামবুর্গে ব্যারিকেডে আগুন, ১২০ জন আটক

উত্তর জার্মানির হামবুর্গে দিনের বেলার বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও সন্ধ্যায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিআর (NDR) জানায়, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় জুংফার্নস্টিগ থেকে শুরু হওয়া মিছিলের পর পুলিশ বিকেল ৫টার দিকে কর্মসূচি শেষ ঘোষণা করে।

এরপর সেন্ট জর্জ এলাকার স্টেইনডাম সড়কে কালো পোশাক পরা ও মুখ ঢাকা কয়েকটি দল পুলিশের দিকে পাথর, বোতল ও পটকা ছোড়ে। নির্মাণকাজের জায়গা থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে রাস্তায় এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আবর্জনার পাত্রেও আগুন লাগানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করে।

সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় জার্মানির বিভিন্ন শহরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা আগেই দোকানের কাচ কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে রাখেন।

এনডিআরের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামবুর্গে মোট ১২০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। শহরের পূর্বাঞ্চলের হামেরব্রুক ও বিলস্টেড এলাকায় গাড়ি ও কাগজের আবর্জনার পাত্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

বার্লিনে ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা আহত

রাজধানী বার্লিনেও বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের কাছে মূল বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রায় নির্বিঘ্নে শেষ হয়। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ শিক্ষা ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, সন্ধ্যায় মিটে এলাকায় রোজেনথালার প্লাৎসকে কেন্দ্র করে পৃথক জমায়েতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পাথর, বোতল, ডিম ও আতশবাজি ছোড়ে। এতে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন। পুলিশ ৫৬ জনকে সাময়িকভাবে আটক করে। ভাঙচুর, শারীরিক হামলা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কোলনেও জলকামান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

পশ্চিম জার্মানির কোলন শহরেও বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআর (WDR) জানায়, বিক্ষোভ মিছিলের কিছু অংশে আতশবাজি ব্যবহার এবং কয়েকজনের মুখ ঢেকে রাখার কারণে পুলিশ নির্ধারিত মিছিল বাতিল করে। সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার সময় সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।

টাগেশশাউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোলনের ক্যাথেড্রাল ও প্রধান রেলস্টেশনের আশপাশেও পুলিশের সঙ্গে ছোট ছোট দলের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি কী?

‘জেন জেড রেগেল্ট’ উদ্যোগের মূল বক্তব্য, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। জার্মানির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট, স্বাস্থ্যসেবার চাপ, সামাজিক সেবায় কাটছাঁট এবং বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতায় জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন তরুণেরা। কয়েকটি শহরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বার্লিনে বলেন, তারা যুদ্ধ ও জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও সহায়তা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন চান তারা।

আয়োজকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিন মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ হাজার। আয়োজকদের দাবি ছিল প্রায় ৩৬ হাজার। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশজুড়ে ৩৪টি শহরে কর্মসূচি হলেও আয়োজকদের প্রাথমিক প্রত্যাশা অনুযায়ী অংশগ্রহণ হয়নি।

আয়োজকদের সহিংসতা থেকে দূরত্ব

দিনের বেলার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পর রাতের সহিংসতার ঘটনায় ‘জেন জেড রেগেল্ট’ উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আয়োজকেরা সহিংসতার দায় অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন এবং কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সংঘটিত ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক অভিযোগ করেছেন, বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর প্রায় ১০০ সদস্য ফ্রাঙ্কফুর্টের বিক্ষোভে মিশে গিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছে। তবে রাতের সহিংসতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা এখনো তদন্তাধীন।

জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠনও ‘জেন জেড রেগেল্ট’ উদ্যোগ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত নয়। আগামী ২০ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের আলাদা কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জার্মানির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে পেনশন ও জনসেবা খাতে ব্যয় বাড়ছে এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে আসছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের ভবিষ্যৎ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি বিনিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

শনিবারের ঘটনাগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ বড় পরিসরে প্রকাশ পেলেও, বিক্ষোভের পর সহিংসতা ও লুটপাট আন্দোলনের মূল দাবিগুলোকে আড়াল করে দিয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন শহরের ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

| তথ্যসূত্র:** হেসেনশাউ, এনডিআর, ডব্লিউডিআর, টাগেশশাউ, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আনাদোলু এজেন্সি

বার্সেলোনার সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরের প্রতিবেদন

২০২৫ সালে স্পেনে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য বেড়েছে ৮০ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
২০২৫ সালে স্পেনে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য বেড়েছে ৮০ শতাংশ

২০২৫ সালের ১৮ জুলাই কাতালোনিয়ার পিয়েরা শহরে মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন চার শতাধিক মানুষ।

স্পেনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ইসলামবিদ্বেষী তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ঘৃণামূলক অপরাধসংক্রান্ত কার্যক্রম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্সেলোনার সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরের (ফিসকালিয়া দে বার্সেলোনা) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বিস্তারকে এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর। একই সময়ে ইহুদিবিদ্বেষ ও সমকামীবিদ্বেষী তৎপরতাও বেড়েছে। তবে যৌন অভিমুখিতা ও জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্যের ঘটনা আগের মতোই রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে দারিদ্র্য এবং রোমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যের ক্ষেত্রেও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘৃণামূলক বক্তব্যের প্রায় সবই ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। এসব বক্তব্য প্রচারে অনেকে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেন। ইসলামবিদ্বেষের ক্ষেত্রে অনলাইনে এমন তৎপরতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

এখানে ইসলামবিদ্বেষ বলতে মুসলিম ধর্ম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে বোঝানো হয়েছে; ইসলামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অনলাইনে বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশকে অনেক সময় কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর অন্যতম কারণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সহযোগিতার অভাব। তবে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রকাশিত তথ্যের সূত্র ধরে কখনো কখনো ছদ্মনামের আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্যের ঘটনা সবচেয়ে বেশি

২০২৫ সালে বার্সেলোনার ঘৃণামূলক অপরাধ ও বৈষম্যবিরোধী সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য নিয়ে। এ ধরনের ঘটনা ছিল ৬১টি, যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় তা কমেছে।

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে বিদেশিবিদ্বেষের ঘটনা ৪২টি এবং ইসলামবিদ্বেষের ঘটনা ২৭টি। এ ছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ১৮টি, লিঙ্গপরিচয়ের কারণে ১৩টি, বর্ণগত কারণে ১১টি এবং প্রতিবন্ধিতার কারণে নয়টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অমুসলিম ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পাঁচটি, ইহুদিবিদ্বেষের কারণে পাঁচটি এবং রোমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে তদন্ত ও বিচার

স্পেনের দণ্ডবিধির ৫১০ ধারার অধীনে ঘৃণা, শত্রুতা, বৈষম্য ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ১৭টি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি ছিল ইসলামবিদ্বেষসংক্রান্ত। মোট ১২টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ইন্টারনেট অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ ছাড়া বৈষম্যমূলক কারণে ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে একই ধারার আরেকটি উপধারায় নয়টি তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনা ঘটেছে সরাসরি সামনাসামনি।

বৈষম্যের কারণে সরকারি সেবা দিতে অস্বীকৃতি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রত্যাখ্যানের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। এসব ঘটনায় প্রতিবন্ধিতা, যৌন অভিমুখিতা ও ইহুদিবিদ্বেষের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এমনকি বৈষম্যের কারণে ট্যাক্সিসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্যে সংঘটিত সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে ৩৪টি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সরাসরি বাস্তব পরিবেশে।

প্রথম পর্যায়ের ২৮টি আদালতের রায়ের মধ্যে ১০টি বিচারের পর দোষী সাব্যস্ত করার রায়, ১৪টি পক্ষগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ এবং চারটি খালাসের রায় ছিল। এসব দণ্ডাদেশের মধ্যে তিনটি ছিল ইসলামবিদ্বেষসংক্রান্ত।

প্রতিবেদনটি স্পেনের কাতালোনিয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য এবং অনলাইন বিদ্বেষের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

সূত্র: এসিএন (কাতালান সংবাদ সংস্থা), বার্সেলোনার সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক