রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি

সাভারের আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসময় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

জানা গেছে, সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম পোশাক কারখানা, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে এসব কারখানার শ্রমিকরা বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ওই ৩ কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

 

এরপর বেলা ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদও জানাচ্ছেন তারা।

 

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, শ্রমিকরা ৩টি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। তবে এ বিষয়ে আজ মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ দাবিতে আজও সড়কে নেমেছেন বলে জানান তিনি।

 

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকাল থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 

৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৭ লাখের বেশি শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম
৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৭ লাখের বেশি শ্রমিক

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডিএমপি, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৩১৮টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি বা উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, এসব কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।

বিজিএমইএর দেওয়া বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার ৮১৬টিতে উৎপাদন চালু রয়েছে। এর বাইরে ডিএমপি এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে ৬৮টি বন্ধ থাকায় ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টির মধ্যে ২২৫টি বন্ধ থাকায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টির মধ্যে ২৫টি কারখানা বন্ধ থাকায় ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখেছেন। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে তাঁদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। এসব কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শ্রমিকেরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মালিকেরা কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে, রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এসব এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তথ্য দিলে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার

লন্ডনে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম
লন্ডনে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ

লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে যাঁদের খুঁজছে পুলিশ। বামে- শওকত আহমেদ (৩১), ডানে- জাহিদুল হাসান জায়গীরদার (৩৪)। ছবি: মেট্রোপলিটন পুলিশ, যুক্তরাজ্য।

দুই বছর আগে পূর্ব লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। তাঁদের নাম ও ছবি প্রকাশ করে অবস্থান শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তাঁদের একজন এখনো যুক্তরাজ্যে রয়েছেন, অন্যজন বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের সন্ধান দিতে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কারের ঘোষণাও রয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি হলেন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ এবং ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। দুজনেরই পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় যোগাযোগ রয়েছে। শওকত আহমেদ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে পুলিশের ধারণা। অন্যদিকে জাহিদুল হাসান জায়গীরদার বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পরে তাঁরা তাঁকে কাছের উইভার্স ফিল্ডস নামের একটি পার্কে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে এক পথচারী কিশোরীটিকে দেখতে পেয়ে সহায়তা করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চালিয়ে আসছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দারা। তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি না আসায় পুলিশ জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে নতুন করে আবেদন জানায়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ছবি প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চায়। ওই আবেদনের পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে অগ্রগতি আনতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর ২৯ অক্টোবর দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে তাঁদের অবস্থান শনাক্তে আবারও জনসাধারণের কাছে আবেদন জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বরের ওই প্রকাশ্য আবেদনের দিনই দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের খুঁজে বের করতে তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তা আনা ডেইটন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে যাঁরা তথ্য দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। দুই ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে যাঁদের কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তাঁদের দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারকেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স এই ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও আদালতে দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করে—এমন তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যদাতারা চাইলে সম্পূর্ণ পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে পারবেন। তথ্যের জন্য তাঁদের নাম বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে হবে না।

ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তাঁর পরিবারের ওপর এর প্রভাব রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে পুলিশ নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করেছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আবেদনে কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকে মেয়েটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং একা চলাফেরা করতে স্বস্তি বোধ করে না। পরিবারের সদস্যরা যথাসম্ভব তাঁর সঙ্গে থাকছেন। স্বাভাবিক কৈশোরের জীবন ও স্বাধীনতা এই ঘটনার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিবার।

পুলিশের সর্বশেষ আবেদনটি শুধু পুরোনো একটি অপরাধের তদন্তের খবর নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি গুরুতর মামলায় নতুন তথ্য পাওয়ার পর তদন্তকে পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ। বিশেষ করে সন্দেহভাজনদের একজন বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা থাকায় বিষয়টি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ—দুই দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পুলিশের অনুসন্ধান ও অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলমান এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে যুক্তরাজ্যের ১০১ নম্বরে ফোন করে ০১/৬৬৮২৯৫/২৪ রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫ ১১১১ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।

সূত্র: লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ, আইটিভি নিউজ, ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর মতে, সনদটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সিরিজ সেমিনারের একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় এসেছিল, তা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ সনদটি চায় কি না, সে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা তখনও বলেছিলাম আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাই। কিন্তু কেউ আর রাজি হলো না। পরে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হলেও আদালত এ দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়নি। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি রাজনৈতিক বিষয়; রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান করতে হবে।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক