রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বার্সেলোনার দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

স্পেনে সক্রিয় ব্লোকাস গোষ্ঠীর ‘নেতা’কে জামিন ছাড়াই কারাগারে প্রেরণ

স্পেন প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম
স্পেনে সক্রিয় ব্লোকাস গোষ্ঠীর ‘নেতা’কে জামিন ছাড়াই কারাগারে প্রেরণ

বার্সেলোনায় গত সপ্তাহের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৩১ অক্টোবর শহরটিতে ব্লোকাস (Blocus) গোষ্ঠীর নামে নতুন কর্মসূচির ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কাতালোনিয়ার পুলিশ। এরই মধ্যে গোষ্ঠীটির স্পেনের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠককে জামিন ছাড়াই সাময়িক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়ার তোরেন্তের একটি আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাটের সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

গার্দিয়া সিভিল শুক্রবার ভ্যালেন্সিয়ার পিকানিয়া এলাকা থেকে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাঁকে স্পেনে ব্লোকাসের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শনিবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁকে বিচারাধীন অবস্থায় জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে তাঁর যোগাযোগের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি কম্পিউটার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। ভ্যালেন্সিয়ার উচ্চ আদালত এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধী সংগঠন গঠন, জনশৃঙ্খলা ভাঙচুরে উসকানি, দোকানে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চুরি এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সহিংসতা সমন্বয়ের অভিযোগ

তদন্তকারীদের দাবি, ওই তরুণ নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে স্পেনে ব্লোকাসের নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন। বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা ও দোকানপাটে লুটপাটের সমন্বয়ে ব্যবহৃত টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো তৈরি ও পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

৩১ অক্টোবর বার্সেলোনার প্লাসা কাতালুনিয়ায় সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্লোকাসের একটি পোস্টার। পোস্টারটিতে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জড়ো হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্লোকাসের নামে আরও কর্মসূচির ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর সম্ভাব্য সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে বার্সেলোনার কেন্দ্রে ৩০০-র বেশি মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে ব্লোকাসের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক বার্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের বার্সেলোনার দাঙ্গায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা কতটা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, মোতায়েন ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য

৩১ অক্টোবর শনিবার ব্লোকাসের নামে বার্সেলোনায় একাধিক সমাবেশের ডাক ছড়িয়ে পড়েছে। প্লাসা কাতালুনিয়া ও পাসেইগ দে লুইস কোম্পানিস এলাকায় বিকেল ৫টায় এবং পাসেইগ দে গ্রাসিয়ায় রাত ৮টায় কর্মসূচির কথা প্রচার করা হয়েছে।

সম্ভাব্য সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাট ঠেকাতে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর ৪ অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। শহরে ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে গণপরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচয় যাচাই এবং তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিপজ্জনক বস্তু ও আতশবাজি জব্দ করাও এ অভিযানের অংশ।

শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার অনেক দোকান তাদের কাচের সামনের অংশ ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করেছে। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে পুলিশ সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়নি।

মাদ্রিদে ৩১শে অক্টোবরের জন্য কর্মসূচি আহ্বান। ছবি- সার্ভিমিডিয়া।

বার্সেলোনার বাইরে কাতালোনিয়ার আরও কয়েকটি শহরেও ব্লোকাসের নামে কর্মসূচির ডাক রয়েছে। লেইদা, বাদালোনা, ইগুয়ালাদা, মাতারো, জিরোনা, তেরাসা, গাভা, ফিগেরেস ও প্লাতজা দারোতে সম্ভাব্য সমাবেশ ঘিরে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহের দাঙ্গায় ১৩৩ জন গ্রেপ্তার

এর আগে ২৪ অক্টোবর শনিবার বার্সেলোনায় একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬০০ জনের বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয়। প্রায় ৩০টি দোকান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়।

এদিকে ব্লোকাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাতালোনিয়ায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে বেলমুন্ট দ’উরজেল ও সান্ত সাদুরনি দ’আনোইয়া থেকে এবং বার্সেলোনা থেকে ১৮ বছর বয়সী আরেক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। ভ্যালেন্সিয়া, টেনেরিফ, মালাগা ও বিলবাওয়েও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, পালমায় ব্লোকাস মায়োর্কা গোষ্ঠীর নামে আয়োজিত কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বার্সেলোনায় নতুন কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি তৎপরতা এবং ব্লোকাসের কথিত সংগঠকের কারাবাসের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি এখন আরও নজরদারিতে রয়েছে। ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচিগুলোতে নতুন করে সহিংসতা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটে কি না, সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনে আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনে আগুন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

 

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশের সহায়তায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের সামনে রেখে পেছনে সরে যান। এ সময় আন্দোলনকারীরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে তাদের ফিরে যেতে হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

 

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিব জানান, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মিরপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশন থেকে জানা যাবে।

 

একই দাবিতে গতকাল শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তাদের অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

একপর্যায়ে শ্রমিকরা মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

 

ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ, মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ, মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ১৮ তলা থেকে পড়ে এক নারী ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত নারীর নাম একতা ভাঙড়ে (৩৩) এবং তাঁর ছেলের নাম মাধব ভাঙড়ে (৬)। তাঁরা পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের থেরগাঁও ওয়াকাড এলাকার অভিজাত আবাসিক কমপ্লেক্স সিগনেচার পার্কে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর ধরে স্বামী মনোজ ভাঙড়ে (৩৫) ও ছেলেকে নিয়ে সেখানে থাকছিলেন একতা।

পরিবারটি ওই আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় থাকত। মনোজ ইয়েরওয়াড়ার একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তিনি কর্মস্থলে চলে যান। সে সময় বাসায় ছিলেন একতা ও মাধব।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভবনের একটি ডাক্ট থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। শব্দের উৎস খুঁজতে নিচে নেমে তাঁরা একতা ও মাধবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ওয়াকাড থানার পুলিশ। পুলিশের পর্যালোচনা করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার আগে একতা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে লিফটে করে ভবনের ১৮ তলায় উঠেছিলেন। পরে ভবনের গ্যালারির রেলিংয়ের কাছে তাঁদের জুতা ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ মা ও ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই নারী ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

কালিয়াকৈরে ফের শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
কালিয়াকৈরে ফের শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শনিবারের সংঘর্ষের পরদিন রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকেরা পুনরায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেছেন।

উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, চালক ও পরিবহনশ্রমিকেরা।

সকাল থেকেই পুরো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ সময় বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বেড়েছে। বর্তমান বেতনে এসব ব্যয় মিটিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকেরা।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবারের সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকেই শ্রমিকেরা আবার সড়কে নামেন। মৌচাক থেকে সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তাঁদের অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন আটকে থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে কালিয়াকৈরের শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও। বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা ও কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি, সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক