বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচিত প্রসঙ্গ

কানাডা ইইউর অ্যাসোসিয়েট সদস্য হলে ইউরোপবাসীরা কী সুযোগ পাবেন?

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
কানাডা ইইউর অ্যাসোসিয়েট সদস্য হলে ইউরোপবাসীরা কী সুযোগ পাবেন?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক এবার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার জন্য দরজা খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি- এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ নয়। বরং এমন একটি নতুন সম্পর্কের কাঠামো তৈরির প্রস্তাব, যার অস্তিত্ব এখনো ইইউর প্রচলিত ব্যবস্থায় নেই। ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, কী অধিকার থাকবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কানাডা ইইউর সঙ্গে কতটা একীভূত হবে -এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

হঠাৎ কেন কানাডাকে নিয়ে এত আগ্রহ?

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কানাডা ও ইউরোপের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সাল থেকে কানাডা ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সিইটিএ (CETA) আংশিকভাবে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের হিসাবে, এই চুক্তির পর এক দশকেরও কম সময়ে দুই পক্ষের পণ্য বাণিজ্য প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চে কানাডা ও ইইউ ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডা ইইউর ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর সেফ (SAFE) প্রতিরক্ষা অর্থায়ন ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার চুক্তি করে। কানাডা ইইউর সামরিক সহযোগিতা কাঠামো পিইএসকো (PESCO)-তেও অংশ নিচ্ছে। ফলে সম্পর্কটি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সরবরাহব্যবস্থার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ কাছাকাছি আসছে।

এরপর এসেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই অটোয়া ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে স্পষ্ট করেছিলেন যে কানাডা ইইউর পূর্ণ সদস্য হতে চাইছে না; বরং তিনি ইউরোপের সঙ্গে একটি ‘বিশেষ জোট’ বা গভীর সহযোগিতার সম্পর্ক চান। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবের পর বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।

‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ হলে কী হতে পারে?

এখনো কোনো চূড়ান্ত কাঠামো নেই। তবে ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাব এবং কার্নির বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে ইউরোপ ও কানাডা নিজেদের সক্ষমতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে চাইছে।

কার্নি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে কৌশলগত সক্ষমতার পাশাপাশি নাগরিকদের চলাচল ও কাজের সুযোগ নিয়েও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কানাডার পক্ষ থেকে ইউরোপে ভিসামুক্তভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথাও এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এটি এখনো কোনো কার্যকর নতুন অধিকার নয় এবং ইউরোপে বসবাসকারী বা কানাডার নাগরিকদের জন্য এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়নি।

অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যদি নতুন কাঠামোতে শ্রমবাজার বা মানুষের চলাচল সহজ করার ব্যবস্থা যুক্ত হয়, সেটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু আজকের দিনে ইউরোপের রেসিডেন্টদের কানাডায় স্থায়ী হওয়ার জন্য কোনো নতুন ‘ইইউ-টু-কানাডা’ পথ চালু হয়নি।

ইউরোপে বসবাসকারীরা কি কানাডায় সহজে স্থায়ী হতে পারবেন?

এই প্রশ্নটিই ইউরোপে বসবাসকারী অনেক অভিবাসীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপে রেসিডেন্স পারমিট থাকা মানেই কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া নয়। একজন ব্যক্তি পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি বা অন্য কোনো ইইউ দেশে বৈধ রেসিডেন্ট হলেও কানাডার অভিবাসন আইনে তাকে নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে।

কানাডার প্রধান অর্থনৈতিক অভিবাসন ব্যবস্থার একটি হলো এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)। এর মাধ্যমে ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম, ফেডারেল স্কিলড ট্রেডস প্রোগ্রাম এবং কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স ক্লাস পরিচালিত হয়। আবেদনকারী প্রথমে প্রোফাইল তৈরি করে পুলে প্রবেশ করেন এবং পরে কমপ্রিহেনসিভ র‍্যাংকিং সিস্টেম বা সিআরএস (Comprehensive Ranking System বা CRS)-এর ভিত্তিতে প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়।

এখানে ইউরোপে বসবাসকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা আছে বিদেশে অর্জিত কাজের অভিজ্ঞতা এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)-তে মূল্যায়ন করা যায়। অর্থাৎ কানাডায় আগে কাজ না করলেও ইউরোপে অর্জিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিছু প্রোগ্রামে আবেদন করা সম্ভব।

তবে এটিকে সহজ পথ ভাবার কারণ নেই। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি বা ফরাসি ভাষার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে সিআরএস (CRS) স্কোর তৈরি হয়। আমন্ত্রণ পাওয়ার জন্য শুধু যোগ্য হওয়াই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট রাউন্ডে প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক স্কোরও থাকতে হয়।

২০২৬ সালে কোন পেশার মানুষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে?

কানাডা বর্তমানে অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতার মানুষকে বেছে নেওয়ার দিকে বেশি জোর দিচ্ছে।

২০২৬ সালের এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)-তে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, এসটিইএম (STEM), কারিগরি পেশা, শিক্ষা এবং পরিবহন খাতের জন্য বিশেষ ক্যাটাগরি রয়েছে। ফরাসি ভাষায় শক্তিশালী দক্ষতাও আলাদা একটি ক্যাটাগরি। এর বাইরে কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক, গবেষক ও সিনিয়র ম্যানেজার এবং কিছু সামরিক পেশার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে ইউরোপে বসবাসকারী ফরাসিভাষীদের জন্য বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব বহন করতে পারে। কানাডা কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৬ সালে এই লক্ষ্যমাত্রা মোট স্থায়ী বাসিন্দার ৯ শতাংশ, ২০২৭ সালে ৯.৫ শতাংশ এবং ২০২৮ সালে ১০.৫ শতাংশ। ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ফলে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ বা ইউরোপের অন্য দেশে বসবাসকারী এমন কেউ যদি ফরাসি ভাষায় শক্তিশালী হন এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা রাখেন, তাহলে বর্তমান কানাডীয় অভিবাসন ব্যবস্থায় তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সুবিধার পথ থাকতে পারে। তবে এটিও সিআরএস (CRS), পেশাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

ইউরোপের রেসিডেন্টদের বড় প্রতিবন্ধকতা কোথায়?

প্রথম বাধা হলো- ইইউ রেসিডেন্স ও কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

দ্বিতীয়ত, কানাডা এখন অভিবাসনের সামগ্রিক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ পর্যন্ত প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে অস্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন আগমনের লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

তৃতীয় বাধা হলো প্রতিযোগিতা। এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry)-তে যোগ্য প্রার্থী অনেক হলেও আমন্ত্রণের সংখ্যা সীমিত। ফলে উচ্চশিক্ষা, ভালো ভাষা-দক্ষতা, প্রাসঙ্গিক পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ভালো সিআরএস (CRS) স্কোর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

চতুর্থ বাধা হতে পারে পেশাগত লাইসেন্স। ইউরোপে কোনো পেশায় কাজ করার অনুমতি থাকলেই কানাডায় একই পেশায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা যায় না। বিশেষ করে চিকিৎসা, নার্সিং, কিছু প্রকৌশল ও নিয়ন্ত্রিত পেশায় কানাডার প্রাদেশিক লাইসেন্স বা স্বীকৃতি প্রয়োজন হতে পারে।

কানাডায় যাওয়ার আগে ইউরোপের রেসিডেন্টদের কী প্রস্তুতি দরকার?

যারা সত্যিই ইউরোপ থেকে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ইইউ-কানাডা নতুন সম্পর্ক’কে ধরে বসে না থেকে বর্তমান কানাডীয় অভিবাসন ব্যবস্থার যোগ্যতা যাচাই করা।

প্রথমে নিজের বয়স, শিক্ষা, পেশা ও কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry) -এর সম্ভাব্য সিআরএস (CRS) স্কোর দেখতে হবে। এরপর ইংরেজি এবং প্রয়োজনে ফরাসি ভাষার দক্ষতা যাচাই করা জরুরি। বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এডুকেশনাল ক্রেডেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট বা ইসিএ (Educational Credential Assessment বা ECA) প্রয়োজন হতে পারে। কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং অন্যান্য নথিও প্রস্তুত রাখতে হয়।

এর পাশাপাশি প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম বা পিএনপি (Provincial Nominee Program বা PNP)-ও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার প্রদেশগুলো নিজেদের শ্রমবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিবাসী বেছে নিতে পারে। ২০২৬ সালে পিএনপি (PNP) -এর জন্য ৯১,৫০০ স্থায়ী বাসিন্দার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অর্থাৎ শুধু টরন্টো বা ভ্যাঙ্কুভারকে লক্ষ্য না করে কানাডার অন্যান্য প্রদেশের শ্রমবাজার ও মনোনয়ন কর্মসূচিও দেখা যেতে পারে।

তাহলে ইইউ-কানাডা সম্পর্কের নতুন উদ্যোগে বাস্তব পরিবর্তন কবে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।

‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ ধারণাটি একেবারেই নতুন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন কোনো প্রচলিত সদস্যপদ কাঠামো বর্তমানে নেই। ফলে কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের জন্য নতুন কোনো চুক্তি বা আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। ইইউর ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অক্টোবরের ২৯-৩০ তারিখে কানাডার মন্ট্রিয়লে নির্ধারিত ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনটি তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে এই নতুন সম্পর্কের কাঠামো নিয়ে আরও স্পষ্ট আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্মেলনের আগে কোনো নির্দিষ্ট নতুন অভিবাসন অধিকার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সব মিলিয়ে, কানাডা ও ইউরোপের সম্পর্ক যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একাধিক কৌশলগত ক্ষেত্রে দুই পক্ষ নিজেদের আরও কাছাকাছি আনছে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ হওয়ার অভূতপূর্ব প্রস্তাব।

কিন্তু ইউরোপে বসবাসকারী মানুষের জন্য এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- আজই কানাডায় স্থায়ী হওয়ার নতুন কোনো স্বয়ংক্রিয় দরজা খুলে যায়নি। বরং নতুন সম্পর্কের সম্ভাব্য কাঠামো ভবিষ্যতে নাগরিকদের চলাচল, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ সহজ করতে পারে। তার আগে কানাডার বর্তমান এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry), প্রভিন্সিয়াল নমিনি (Provincial Nominee) এবং অন্যান্য বৈধ অভিবাসন পথই বাস্তব রাস্তা।

অন্যদিকে, কানাডা যখন একদিকে মোট অভিবাসনের চাপ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য, এসটিইএম (STEM), কারিগরি পেশা, শিক্ষা, পরিবহন এবং ফরাসিভাষী দক্ষ কর্মীদের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মানুষ খুঁজছে, তখন ইউরোপের রেসিডেন্টদের জন্য সুযোগটি মূলত নির্ভর করবে ব্যক্তির পেশা, ভাষা, বয়স, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও কানাডার নির্দিষ্ট অভিবাসন প্রোগ্রামের সঙ্গে তার প্রোফাইল কতটা মেলে তার ওপর।

আর ইইউ-কানাডার নতুন ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ উদ্যোগ সেই হিসাবকে ভবিষ্যতে বদলে দিতে পারে – কিন্তু সেটি এখনো সম্ভাবনা, কার্যকর অভিবাসন অধিকার নয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক