রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নরসিংদীতে নদীর তীরে মিলল হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহ, শরীরে কোপের চিহ্ন

সাদ্দাম উদ্দিন রাজ নরসিংদি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম
নরসিংদীতে নদীর তীরে মিলল হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহ, শরীরে কোপের চিহ্ন

নরসিংদীর রায়পুরায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীর থেকে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ডৌকারচর ইউনিয়নের তেলিপাড়া বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর তীরে হলুদ রঙের একটি বস্তার ভেতর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় যুবকের দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে এবং দুই পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। তাঁর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

মরদেহের মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিন থেকে চার দিন আগে দুর্বৃত্তরা ওই যুবককে হত্যা করে মরদেহটি নদীর তীরে ফেলে গেছে বলে ধারণা করছেন পুলিশ ও স্থানীয়রা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় পচাগলা মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের সময় তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহটি এখানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনে আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনে আগুন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

 

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশের সহায়তায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের সামনে রেখে পেছনে সরে যান। এ সময় আন্দোলনকারীরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে তাদের ফিরে যেতে হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

 

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিব জানান, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মিরপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশন থেকে জানা যাবে।

 

একই দাবিতে গতকাল শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তাদের অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

একপর্যায়ে শ্রমিকরা মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

 

ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ, মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ, মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ১৮ তলা থেকে পড়ে এক নারী ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত নারীর নাম একতা ভাঙড়ে (৩৩) এবং তাঁর ছেলের নাম মাধব ভাঙড়ে (৬)। তাঁরা পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের থেরগাঁও ওয়াকাড এলাকার অভিজাত আবাসিক কমপ্লেক্স সিগনেচার পার্কে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর ধরে স্বামী মনোজ ভাঙড়ে (৩৫) ও ছেলেকে নিয়ে সেখানে থাকছিলেন একতা।

পরিবারটি ওই আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় থাকত। মনোজ ইয়েরওয়াড়ার একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তিনি কর্মস্থলে চলে যান। সে সময় বাসায় ছিলেন একতা ও মাধব।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভবনের একটি ডাক্ট থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। শব্দের উৎস খুঁজতে নিচে নেমে তাঁরা একতা ও মাধবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ওয়াকাড থানার পুলিশ। পুলিশের পর্যালোচনা করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার আগে একতা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে লিফটে করে ভবনের ১৮ তলায় উঠেছিলেন। পরে ভবনের গ্যালারির রেলিংয়ের কাছে তাঁদের জুতা ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ মা ও ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই নারী ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

কালিয়াকৈরে ফের শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
কালিয়াকৈরে ফের শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শনিবারের সংঘর্ষের পরদিন রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকেরা পুনরায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেছেন।

উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, চালক ও পরিবহনশ্রমিকেরা।

সকাল থেকেই পুরো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ সময় বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বেড়েছে। বর্তমান বেতনে এসব ব্যয় মিটিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকেরা।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবারের সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকেই শ্রমিকেরা আবার সড়কে নামেন। মৌচাক থেকে সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তাঁদের অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন আটকে থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে কালিয়াকৈরের শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও। বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা ও কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি, সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক