রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

স্পেন

ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে শনিবার বার্সেলোনায় কী ঘটেছিল

বার্সেলোনা প্রতিনিধি স্পেন প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে শনিবার বার্সেলোনায় কী ঘটেছিল

বার্সেলোনার রাস্তায় তরুণদের থামিয়ে তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের ছবি।

বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় গত ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ৩১ অক্টোবর শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় কাতালোনিয়ার পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লোকাস (Blocus) গোষ্ঠীর নামে প্লাসা কাতালুনিয়া, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও পাসেইগ দে গ্রাসিয়ায় সমাবেশের ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর বিকেল থেকেই শহরের কেন্দ্রজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই। দোকানপাটের সামনে বসানো হয় কাঠের ও ধাতব সুরক্ষাপ্যানেল, বন্ধ রাখা হয় কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ এবং সরিয়ে নেওয়া হয় রাস্তার কনটেইনার। দিন শেষে পুলিশের হিসাবে বার্সেলোনায় ১ হাজার ৪৪০ জনকে শনাক্ত করা হয় এবং ১২৭টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। তবে আগের সপ্তাহের মতো বড় ধরনের দাঙ্গা, সংঘবদ্ধ লুটপাট বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান

সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে শনিবার বিকেল ৩টা থেকেই বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় বিশেষ পুলিশি অভিযান শুরু হয়। মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা এবং বার্সেলোনার নগর পুলিশের সদস্যরা প্লাসা কাতালুনিয়া, পোর্টাল দে ল’আঞ্জেল, পাসেইগ দে গ্রাসিয়া, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।

৩ কাতইনফো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনায় ৫০০-র বেশি মোসোস সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও বিশেষ নজরদারি দলও মাঠে ছিল। শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথ, রেলস্টেশন ও মেট্রোতে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
ব্লোকাসের ডাক ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে দোকানগুলোর প্রস্তুতির ছবি।

পুলিশের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যাঁদের কাছে দোকানের কাচ ভাঙা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাটে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন সরঞ্জাম রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে অনেকের মুখোশ ও ছদ্মবেশী পোশাক পরার বিষয়টিও পুলিশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

প্লাসা কাতালুনিয়ায় সমাবেশের ডাক, কিন্তু বড় জমায়েত হয়নি

ব্লোকাসের প্রচারিত পোস্টার ও অনলাইন বার্তায় শনিবার বিকেল ৫টায় প্লাসা কাতালুনিয়া এবং লুইস কোম্পানিস এলাকায় জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে রাত ৮টায় পাসেইগ দে গ্রাসিয়ার কাসা মিলা বা লা পেদ্রেরার কাছেও আরেকটি কর্মসূচির কথা ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু পুলিশি তৎপরতা, পরিচয় যাচাই এবং আগাম সতর্কতার মধ্যে এসব ঘোষিত কর্মসূচি বড় কোনো সমাবেশে রূপ নেয়নি। লা ভানগার্দিয়ার সরাসরি ঘটনাপ্রবাহের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফের বিকেল ৫টার কর্মসূচিতে কেউ উপস্থিত হয়নি। রাত ৮টায় লা পেদ্রেরার পাশের ঘোষিত জমায়েতও কার্যত ফাঁকা ছিল।

এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে প্লাসা উরকিনাওনা ও গ্লোরিয়েস এলাকায় নতুন জমায়েতের বার্তা ছড়ানোর খবর পায় পুলিশ। সেসব স্থানেও উল্লেখযোগ্য জমায়েতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শনিবারের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো শহরের কেন্দ্রকে আগের সপ্তাহের মতো সংঘর্ষের এলাকায় পরিণত করতে পারেনি।

এক হাজারের বেশি মানুষকে শনাক্ত, জব্দ বিভিন্ন সরঞ্জাম

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পরিচয় যাচাই ও তল্লাশির পরিধি বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৪৫০ জনকে শনাক্ত এবং ১৫টি সন্দেহজনক বস্তু জব্দের কথা জানানো হয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিচয় যাচাইয়ের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছায়।

৩১ অক্টোবরের পুলিশি তৎপরতা ও নিরাপত্তা চৌকির ছবি।

পরবর্তী সময়ে ১ নভেম্বর প্রকাশিত মোসোসের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের অভিযানে বার্সেলোনায় মোট ১ হাজার ৪৪০ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১২৭টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে সম্ভাব্য বিপজ্জনক সরঞ্জাম ও নিষিদ্ধ পদার্থ জব্দের বিষয়ও রয়েছে।

পুলিশি তল্লাশিতে ছুরি বা অন্যান্য ধারালো অস্ত্র, মুখ ঢাকার মুখোশ, আতশবাজি এবং দোকানের কাচ ভাঙতে ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার বার্সেলোনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় মোসোস। তাঁদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অন্যজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যাঁকে পুলিশের কাজে বাধা ও নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আটক করা হয়। তবে এই তিনটি গ্রেপ্তারের সবকটিই ব্লোকাসের ঘোষিত সমাবেশে সহিংসতায় অংশ নেওয়ার কারণে হয়েছে, এমন নয়।

কনটেইনার সরানো, মেট্রো ও বাস চলাচলে বিধিনিষেধ

সম্ভাব্য লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার দুই হাজারের বেশি আবর্জনার কনটেইনার সরিয়ে নেয় বার্সেলোনা নগর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সিউতাত ভেয়া এলাকার ১৩টি, ইশাম্পলের ১৬টি এবং গ্রাসিয়ার একটি, মোট ৩০টি বাইসিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্লাসা কাতালুনিয়া, সান্তস ও পাসেইগ দে গ্রাসিয়া রেলস্টেশনের কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। মেট্রোর এল১ লাইনে উরকিনাওনা ও আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ, এল২ ও এল৩ লাইনে পাসেইগ দে গ্রাসিয়ার কয়েকটি প্রবেশপথ এবং এল৪ লাইনে উরকিনাওনার একটি প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়।

বাস চলাচলেও পরিবর্তন আসে। ভি১৭, ৩৯ ও ৪৭ নম্বর বাসের রুট পরিবর্তন করা হয় এবং কয়েকটি স্টপেজ সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। ডি৫০, ভি১৯, ৬ ও ১৯ নম্বর বাসও নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজে থামেনি।

৩ কাতইনফো জানিয়েছে, রাত ১০টার পর বন্ধ রাখা মেট্রো প্রবেশপথগুলো আবার খুলে দেওয়া হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

আরিবাউ ও করসেগা সড়কে তিনটি কনটেইনারে আগুন

শনিবার বিকেলে বার্সেলোনার আরিবাউ ও করসেগা সড়কের সংযোগস্থলে তিনটি আবর্জনার কনটেইনারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে পাশের একটি বারের বাইরের কিছু আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে লা ভানগার্দিয়া ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার কারণ তখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বা নগর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সঙ্গে ব্লোকাসের কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি। ফলে এটিকে ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাতেও পুলিশের নজরদারি, মেয়রের বক্তব্য

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বার্সেলোনার মেয়র জাউমে কোলবোনি নগর পুলিশের সদর দপ্তর থেকে দিনের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শহরে দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে এবং আগের সপ্তাহের সহিংসতা পুনরাবৃত্তি হয়নি। তাঁর মতে, পুলিশ, নগর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাত তখনো শেষ হয়নি এবং পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। শহরে ভাঙচুর ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

লা ভানগার্দিয়ার রাত ১০টার প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও লা পেদ্রেরার ঘোষিত কর্মসূচিগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি না থাকলেও মোসোস ও নগর পুলিশ রাতভর সতর্ক অবস্থানে ছিল। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সমন্বয় কেন্দ্র থেকেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গত সপ্তাহের ঘটনার তদন্তে নতুন গ্রেপ্তার

৩১ অক্টোবরের নিরাপত্তা অভিযানের পাশাপাশি গত ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় তদন্তও অব্যাহত ছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ব্লোকাসের যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ পরিচালনার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে শনিবার কাব্রেরা দ’আনোইয়া থেকে গ্রেপ্তার করে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। পুলিশের দাবি, তিনি সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি যোগাযোগ গ্রুপের প্রশাসক ছিলেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকটকে ছড়ানো একটি পোস্টারের কিউআর কোডের মাধ্যমে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার তরুণের বিরুদ্ধে আগের শনিবারের সহিংস কর্মকাণ্ড উসকে দেওয়া ও সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ২৪ অক্টোবরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আদালত ও কিশোর বিচারব্যবস্থার কার্যক্রমও চলছিল। লা ভানগার্দিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন কিশোরের বিরুদ্ধে নজরদারি, জমায়েত থেকে দূরে থাকার নির্দেশ এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থার আবেদন করেছে কিশোর আদালতের কৌঁসুলিরা।

কাতালোনিয়াজুড়ে ২ হাজার ২৬৪ জন শনাক্ত

শুধু বার্সেলোনা নয়, ব্লোকাসের নামে কাতালোনিয়ার বিভিন্ন শহরেও কর্মসূচির ডাক ছড়িয়েছিল। বাদালোনা, মাতারো, তেরাসা, গাভা, জিরোনা, ইগুয়ালাদা, লেইদা ও ফিগেরেসে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। এসব এলাকার কিছু স্থানে আগাম সতর্কতামূলকভাবে কনটেইনার ও রাস্তার অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব উদ্ধৃত করে ৩ কাতইনফো জানিয়েছে, পুরো কাতালোনিয়ায় মোসোস ও নগর পুলিশ মোট ২ হাজার ২৬৪ জনকে শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে মোসোস ১ হাজার ৮০০ জন এবং নগর পুলিশ ৪৬৪ জনকে শনাক্ত করে। অঞ্চলজুড়ে মোট ১৮১টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয় এবং প্রায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁদের সবার গ্রেপ্তারের সঙ্গে ব্লোকাসের সহিংস কর্মসূচির সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।

শনিবারের ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, ব্যাপক পুলিশি প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বার্সেলোনায় ঘোষিত সমাবেশগুলো বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়নি। তবে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দিনভর এর প্রভাব ছিল। প্রশাসনও জানিয়েছে, ব্লোকাসের নামে নতুন কর্মসূচি বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

| তথ্যসূত্র:** 3CatInfo, La Vanguardia, betevé, Europa Press, EFE, elDiario.es

আরব উপসাগরে কাতারের গ্যাসবাহী ট্যাংকারে হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম
আরব উপসাগরে কাতারের গ্যাসবাহী ট্যাংকারে হামলা

আরব উপসাগরে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে ট্যাংকাটিতে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে বলে আজ শুক্রবার জানিয়েছে কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি।

 

আল মায়েদা নামে এ ট্যাংকারটির কোনো ক্রুত এ ঘটনায় আহত হয়নি এবং সবাই সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে কাতারি সংস্থাটি। এছাড়া হামলার কারণে পরিবেশগত কোনো প্রভাবও পড়েনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

কাতারের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “নৌযানটি নিরাপদ অবস্থায় আছে, এটি সক্রিয় আছে এবং হামলায় কী কী প্রভাব পড়েছে তার নিরূপণ করা হচ্ছে।”

 

গ্যাস ট্যাংকার লক্ষ্য করে আরব উপসাগরে কে বা কারা

 

হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত নয়। আরব উপসাগর পারস্য উপসাগর নামেও পরিচিত। এখানে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যেতে ও বের হতে হয়।

 

শর্ত পূরণ হলে দুইদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেবে ইরান

 

ইরানের দেওয়া শর্তগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করে তাহলে দুইদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি উল্লেখ করেছেন, তাদের অন্যতম শর্ত হলো হরমুজে ইরান ও ওমান যে নতুন রুট নির্ধারণ করেছে সেটির স্বীকৃতি দিতে হবে।

 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এক ব্যাপারে আরাঘচি বলেছেন, এরসঙ্গে অন্যান্য শর্ত হলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেছে সেগুলো তুলে নিতে হবে; মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা কমাতে হবে; জুনে হওয়া চুক্তির মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল সেটি আবার পুনর্বহাল করতে হবে; ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় করতে হবে, যারমধ্যে কাতারে যেসব অর্থ জব্দ করা আছে সেগুলোও থাকবে, হরমুজে ইরান ও ওমানের নির্ধারিত রুট ছাড়া বাকি সব রুট বন্ধ করে দিতে হবে এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে লেবাননে হামলা বন্ধ করে দিতে হবে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি

সাভারের আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসময় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

জানা গেছে, সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম পোশাক কারখানা, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে এসব কারখানার শ্রমিকরা বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ওই ৩ কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

 

এরপর বেলা ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদও জানাচ্ছেন তারা।

 

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, শ্রমিকরা ৩টি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। তবে এ বিষয়ে আজ মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ দাবিতে আজও সড়কে নেমেছেন বলে জানান তিনি।

 

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকাল থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 

সুইজারল্যান্ডে রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
সুইজারল্যান্ডে রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার

আরগাউয়ের স্টাইন শহরে পথচারীরা পানিতে একটি বস্তা খুঁজে পান। তারা রাইন নদীর তীর ধরে হাঁটছিলেন।

সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টেইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি বুরুন্ডির নাগরিক। তিনি একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের পুলিশ ও প্রসিকিউটর কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যের বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এ খবর প্রকাশ করে।

আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির বয়স ৩৩ বছর। গত ২৪ অক্টোবর তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরদিন ২৫ অক্টোবর সকালে তাঁরাই স্টেইন এলাকায় রাইন নদীর তীরে একটি বস্তা দেখতে পান। সেটি পরীক্ষা করে মানুষের পায়ের অংশ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েকটি বস্তা উদ্ধার করে। সেগুলোর ভেতর মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিল।

তদন্তে জানা যায়, মরদেহটি খণ্ডিত করে আবর্জনার ব্যাগে ভরা হয়েছিল। ব্যাগগুলোর কিছু রাইন নদীতে এবং কিছু নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে রাখা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষগুলো নিখোঁজ বুরুন্ডির ওই নাগরিকের বলে শনাক্ত করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ঘটনাস্থলের কাছেই একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন নিহত ব্যক্তি। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। এ সময় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো বিশ্লেষণের পর নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে থাকা ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরালো হয়। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদনও করা হয়েছে।

তবে কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কোথায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ঘটনাটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক অস্বাভাবিকতার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব লক্ষণের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সুইজারল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের বসবাসের কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং বসবাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে কোনো দেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাঁকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করতে হবে।

আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

|তথ্যসূত্র: আর্গাউ ক্যঅন্ট পুলিশের সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, সুইস গণমাধ্যম এসআরএফ।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক