সুইজারল্যান্ডে রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার
আরগাউয়ের স্টাইন শহরে পথচারীরা পানিতে একটি বস্তা খুঁজে পান। তারা রাইন নদীর তীর ধরে হাঁটছিলেন।
সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টেইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি বুরুন্ডির নাগরিক। তিনি একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের পুলিশ ও প্রসিকিউটর কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যের বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এ খবর প্রকাশ করে।
আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির বয়স ৩৩ বছর। গত ২৪ অক্টোবর তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরদিন ২৫ অক্টোবর সকালে তাঁরাই স্টেইন এলাকায় রাইন নদীর তীরে একটি বস্তা দেখতে পান। সেটি পরীক্ষা করে মানুষের পায়ের অংশ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে আরও কয়েকটি বস্তা উদ্ধার করে। সেগুলোর ভেতর মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিল।
তদন্তে জানা যায়, মরদেহটি খণ্ডিত করে আবর্জনার ব্যাগে ভরা হয়েছিল। ব্যাগগুলোর কিছু রাইন নদীতে এবং কিছু নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে রাখা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষগুলো নিখোঁজ বুরুন্ডির ওই নাগরিকের বলে শনাক্ত করা হয়।
ঘটনাস্থলের কাছেই একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন নিহত ব্যক্তি। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। এ সময় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো বিশ্লেষণের পর নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে থাকা ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরালো হয়। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদনও করা হয়েছে।
তবে কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কোথায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ঘটনাটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক অস্বাভাবিকতার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব লক্ষণের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সুইজারল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের বসবাসের কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং বসবাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে কোনো দেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাঁকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করতে হবে।
আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
|তথ্যসূত্র: আর্গাউ ক্যঅন্ট পুলিশের সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, সুইস গণমাধ্যম এসআরএফ।







