প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে ২৮৭ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। টাকার হিসাবে এর পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সে অনুযায়ী, চার মাসে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। মাসটির শেষ তিন দিনে (২৯-৩১ অক্টোবর) দেশে এসেছে ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এর আগে জুলাই মাসে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কমে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ডলারে নেমে আসে। অক্টোবর মাসে আবারও বাড়তে শুরু করে রেমিট্যান্স প্রবাহ, যা শেষে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসে। অক্টোবরে আবারও তা বেড়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
অর্থাৎ, চার মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। আগস্টে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলেও পরের মাসে তা কমে যাওয়ায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে অক্টোবরে আয় বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়। আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি, পারিবারিক ভোগব্যয় ও বিনিয়োগেও প্রবাসী আয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবাসী আয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবাসী আয়ের এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে মাসভিত্তিক প্রবাহের ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা বিবেচনায় আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।