রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

স্পেন

ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে শনিবার বার্সেলোনায় কী ঘটেছিল

বার্সেলোনা প্রতিনিধি স্পেন প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে শনিবার বার্সেলোনায় কী ঘটেছিল

বার্সেলোনার রাস্তায় তরুণদের থামিয়ে তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের ছবি।

বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় গত ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ৩১ অক্টোবর শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় কাতালোনিয়ার পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লোকাস (Blocus) গোষ্ঠীর নামে প্লাসা কাতালুনিয়া, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও পাসেইগ দে গ্রাসিয়ায় সমাবেশের ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর বিকেল থেকেই শহরের কেন্দ্রজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই। দোকানপাটের সামনে বসানো হয় কাঠের ও ধাতব সুরক্ষাপ্যানেল, বন্ধ রাখা হয় কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ এবং সরিয়ে নেওয়া হয় রাস্তার কনটেইনার। দিন শেষে পুলিশের হিসাবে বার্সেলোনায় ১ হাজার ৪৪০ জনকে শনাক্ত করা হয় এবং ১২৭টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। তবে আগের সপ্তাহের মতো বড় ধরনের দাঙ্গা, সংঘবদ্ধ লুটপাট বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান

সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে শনিবার বিকেল ৩টা থেকেই বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় বিশেষ পুলিশি অভিযান শুরু হয়। মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা এবং বার্সেলোনার নগর পুলিশের সদস্যরা প্লাসা কাতালুনিয়া, পোর্টাল দে ল’আঞ্জেল, পাসেইগ দে গ্রাসিয়া, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।

৩ কাতইনফো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনায় ৫০০-র বেশি মোসোস সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও বিশেষ নজরদারি দলও মাঠে ছিল। শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথ, রেলস্টেশন ও মেট্রোতে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
ব্লোকাসের ডাক ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে দোকানগুলোর প্রস্তুতির ছবি।

পুলিশের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যাঁদের কাছে দোকানের কাচ ভাঙা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাটে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন সরঞ্জাম রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে অনেকের মুখোশ ও ছদ্মবেশী পোশাক পরার বিষয়টিও পুলিশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

প্লাসা কাতালুনিয়ায় সমাবেশের ডাক, কিন্তু বড় জমায়েত হয়নি

ব্লোকাসের প্রচারিত পোস্টার ও অনলাইন বার্তায় শনিবার বিকেল ৫টায় প্লাসা কাতালুনিয়া এবং লুইস কোম্পানিস এলাকায় জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে রাত ৮টায় পাসেইগ দে গ্রাসিয়ার কাসা মিলা বা লা পেদ্রেরার কাছেও আরেকটি কর্মসূচির কথা ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু পুলিশি তৎপরতা, পরিচয় যাচাই এবং আগাম সতর্কতার মধ্যে এসব ঘোষিত কর্মসূচি বড় কোনো সমাবেশে রূপ নেয়নি। লা ভানগার্দিয়ার সরাসরি ঘটনাপ্রবাহের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফের বিকেল ৫টার কর্মসূচিতে কেউ উপস্থিত হয়নি। রাত ৮টায় লা পেদ্রেরার পাশের ঘোষিত জমায়েতও কার্যত ফাঁকা ছিল।

এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে প্লাসা উরকিনাওনা ও গ্লোরিয়েস এলাকায় নতুন জমায়েতের বার্তা ছড়ানোর খবর পায় পুলিশ। সেসব স্থানেও উল্লেখযোগ্য জমায়েতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শনিবারের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো শহরের কেন্দ্রকে আগের সপ্তাহের মতো সংঘর্ষের এলাকায় পরিণত করতে পারেনি।

এক হাজারের বেশি মানুষকে শনাক্ত, জব্দ বিভিন্ন সরঞ্জাম

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পরিচয় যাচাই ও তল্লাশির পরিধি বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৪৫০ জনকে শনাক্ত এবং ১৫টি সন্দেহজনক বস্তু জব্দের কথা জানানো হয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিচয় যাচাইয়ের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছায়।

৩১ অক্টোবরের পুলিশি তৎপরতা ও নিরাপত্তা চৌকির ছবি।

পরবর্তী সময়ে ১ নভেম্বর প্রকাশিত মোসোসের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের অভিযানে বার্সেলোনায় মোট ১ হাজার ৪৪০ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১২৭টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে সম্ভাব্য বিপজ্জনক সরঞ্জাম ও নিষিদ্ধ পদার্থ জব্দের বিষয়ও রয়েছে।

পুলিশি তল্লাশিতে ছুরি বা অন্যান্য ধারালো অস্ত্র, মুখ ঢাকার মুখোশ, আতশবাজি এবং দোকানের কাচ ভাঙতে ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার বার্সেলোনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় মোসোস। তাঁদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অন্যজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যাঁকে পুলিশের কাজে বাধা ও নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আটক করা হয়। তবে এই তিনটি গ্রেপ্তারের সবকটিই ব্লোকাসের ঘোষিত সমাবেশে সহিংসতায় অংশ নেওয়ার কারণে হয়েছে, এমন নয়।

কনটেইনার সরানো, মেট্রো ও বাস চলাচলে বিধিনিষেধ

সম্ভাব্য লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার দুই হাজারের বেশি আবর্জনার কনটেইনার সরিয়ে নেয় বার্সেলোনা নগর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সিউতাত ভেয়া এলাকার ১৩টি, ইশাম্পলের ১৬টি এবং গ্রাসিয়ার একটি, মোট ৩০টি বাইসিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্লাসা কাতালুনিয়া, সান্তস ও পাসেইগ দে গ্রাসিয়া রেলস্টেশনের কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। মেট্রোর এল১ লাইনে উরকিনাওনা ও আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ, এল২ ও এল৩ লাইনে পাসেইগ দে গ্রাসিয়ার কয়েকটি প্রবেশপথ এবং এল৪ লাইনে উরকিনাওনার একটি প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়।

বাস চলাচলেও পরিবর্তন আসে। ভি১৭, ৩৯ ও ৪৭ নম্বর বাসের রুট পরিবর্তন করা হয় এবং কয়েকটি স্টপেজ সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। ডি৫০, ভি১৯, ৬ ও ১৯ নম্বর বাসও নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজে থামেনি।

৩ কাতইনফো জানিয়েছে, রাত ১০টার পর বন্ধ রাখা মেট্রো প্রবেশপথগুলো আবার খুলে দেওয়া হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

আরিবাউ ও করসেগা সড়কে তিনটি কনটেইনারে আগুন

শনিবার বিকেলে বার্সেলোনার আরিবাউ ও করসেগা সড়কের সংযোগস্থলে তিনটি আবর্জনার কনটেইনারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে পাশের একটি বারের বাইরের কিছু আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে লা ভানগার্দিয়া ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার কারণ তখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বা নগর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সঙ্গে ব্লোকাসের কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি। ফলে এটিকে ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাতেও পুলিশের নজরদারি, মেয়রের বক্তব্য

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বার্সেলোনার মেয়র জাউমে কোলবোনি নগর পুলিশের সদর দপ্তর থেকে দিনের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শহরে দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে এবং আগের সপ্তাহের সহিংসতা পুনরাবৃত্তি হয়নি। তাঁর মতে, পুলিশ, নগর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাত তখনো শেষ হয়নি এবং পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। শহরে ভাঙচুর ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

লা ভানগার্দিয়ার রাত ১০টার প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও লা পেদ্রেরার ঘোষিত কর্মসূচিগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি না থাকলেও মোসোস ও নগর পুলিশ রাতভর সতর্ক অবস্থানে ছিল। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সমন্বয় কেন্দ্র থেকেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গত সপ্তাহের ঘটনার তদন্তে নতুন গ্রেপ্তার

৩১ অক্টোবরের নিরাপত্তা অভিযানের পাশাপাশি গত ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় তদন্তও অব্যাহত ছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ব্লোকাসের যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ পরিচালনার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে শনিবার কাব্রেরা দ’আনোইয়া থেকে গ্রেপ্তার করে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। পুলিশের দাবি, তিনি সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি যোগাযোগ গ্রুপের প্রশাসক ছিলেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকটকে ছড়ানো একটি পোস্টারের কিউআর কোডের মাধ্যমে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার তরুণের বিরুদ্ধে আগের শনিবারের সহিংস কর্মকাণ্ড উসকে দেওয়া ও সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ২৪ অক্টোবরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আদালত ও কিশোর বিচারব্যবস্থার কার্যক্রমও চলছিল। লা ভানগার্দিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন কিশোরের বিরুদ্ধে নজরদারি, জমায়েত থেকে দূরে থাকার নির্দেশ এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থার আবেদন করেছে কিশোর আদালতের কৌঁসুলিরা।

কাতালোনিয়াজুড়ে ২ হাজার ২৬৪ জন শনাক্ত

শুধু বার্সেলোনা নয়, ব্লোকাসের নামে কাতালোনিয়ার বিভিন্ন শহরেও কর্মসূচির ডাক ছড়িয়েছিল। বাদালোনা, মাতারো, তেরাসা, গাভা, জিরোনা, ইগুয়ালাদা, লেইদা ও ফিগেরেসে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। এসব এলাকার কিছু স্থানে আগাম সতর্কতামূলকভাবে কনটেইনার ও রাস্তার অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব উদ্ধৃত করে ৩ কাতইনফো জানিয়েছে, পুরো কাতালোনিয়ায় মোসোস ও নগর পুলিশ মোট ২ হাজার ২৬৪ জনকে শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে মোসোস ১ হাজার ৮০০ জন এবং নগর পুলিশ ৪৬৪ জনকে শনাক্ত করে। অঞ্চলজুড়ে মোট ১৮১টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয় এবং প্রায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁদের সবার গ্রেপ্তারের সঙ্গে ব্লোকাসের সহিংস কর্মসূচির সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।

শনিবারের ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, ব্যাপক পুলিশি প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বার্সেলোনায় ঘোষিত সমাবেশগুলো বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়নি। তবে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দিনভর এর প্রভাব ছিল। প্রশাসনও জানিয়েছে, ব্লোকাসের নামে নতুন কর্মসূচি বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

| তথ্যসূত্র:** 3CatInfo, La Vanguardia, betevé, Europa Press, EFE, elDiario.es

৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৭ লাখের বেশি শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম
৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৭ লাখের বেশি শ্রমিক

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডিএমপি, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৩১৮টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি বা উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, এসব কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।

বিজিএমইএর দেওয়া বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার ৮১৬টিতে উৎপাদন চালু রয়েছে। এর বাইরে ডিএমপি এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে ৬৮টি বন্ধ থাকায় ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টির মধ্যে ২২৫টি বন্ধ থাকায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টির মধ্যে ২৫টি কারখানা বন্ধ থাকায় ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখেছেন। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে তাঁদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। এসব কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শ্রমিকেরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মালিকেরা কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে, রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এসব এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তথ্য দিলে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার

লন্ডনে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম
লন্ডনে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ

লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে যাঁদের খুঁজছে পুলিশ। বামে- শওকত আহমেদ (৩১), ডানে- জাহিদুল হাসান জায়গীরদার (৩৪)। ছবি: মেট্রোপলিটন পুলিশ, যুক্তরাজ্য।

দুই বছর আগে পূর্ব লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। তাঁদের নাম ও ছবি প্রকাশ করে অবস্থান শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তাঁদের একজন এখনো যুক্তরাজ্যে রয়েছেন, অন্যজন বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের সন্ধান দিতে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কারের ঘোষণাও রয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি হলেন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ এবং ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। দুজনেরই পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় যোগাযোগ রয়েছে। শওকত আহমেদ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে পুলিশের ধারণা। অন্যদিকে জাহিদুল হাসান জায়গীরদার বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পরে তাঁরা তাঁকে কাছের উইভার্স ফিল্ডস নামের একটি পার্কে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে এক পথচারী কিশোরীটিকে দেখতে পেয়ে সহায়তা করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চালিয়ে আসছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দারা। তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি না আসায় পুলিশ জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে নতুন করে আবেদন জানায়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ছবি প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চায়। ওই আবেদনের পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে অগ্রগতি আনতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর ২৯ অক্টোবর দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে তাঁদের অবস্থান শনাক্তে আবারও জনসাধারণের কাছে আবেদন জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বরের ওই প্রকাশ্য আবেদনের দিনই দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের খুঁজে বের করতে তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তা আনা ডেইটন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে যাঁরা তথ্য দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। দুই ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে যাঁদের কাছে কোনো তথ্য রয়েছে, তাঁদের দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারকেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স এই ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও আদালতে দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করে—এমন তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যদাতারা চাইলে সম্পূর্ণ পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে পারবেন। তথ্যের জন্য তাঁদের নাম বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে হবে না।

ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তাঁর পরিবারের ওপর এর প্রভাব রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে পুলিশ নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করেছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আবেদনে কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকে মেয়েটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং একা চলাফেরা করতে স্বস্তি বোধ করে না। পরিবারের সদস্যরা যথাসম্ভব তাঁর সঙ্গে থাকছেন। স্বাভাবিক কৈশোরের জীবন ও স্বাধীনতা এই ঘটনার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিবার।

পুলিশের সর্বশেষ আবেদনটি শুধু পুরোনো একটি অপরাধের তদন্তের খবর নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি গুরুতর মামলায় নতুন তথ্য পাওয়ার পর তদন্তকে পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ। বিশেষ করে সন্দেহভাজনদের একজন বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা থাকায় বিষয়টি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ—দুই দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পুলিশের অনুসন্ধান ও অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলমান এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে যুক্তরাজ্যের ১০১ নম্বরে ফোন করে ০১/৬৬৮২৯৫/২৪ রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫ ১১১১ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।

সূত্র: লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ, আইটিভি নিউজ, ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাঁর মতে, সনদটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সিরিজ সেমিনারের একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় এসেছিল, তা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ সনদটি চায় কি না, সে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা তখনও বলেছিলাম আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাই। কিন্তু কেউ আর রাজি হলো না। পরে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হলেও আদালত এ দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়নি। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি রাজনৈতিক বিষয়; রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান করতে হবে।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক