মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মালয়েশিয়ায় প্রত্যাবাসনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। দেশটিতে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তার এ সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে।
সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। রয়্যাল রেঞ্জার রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের দুই কর্মকর্তা ও ২৬ সদস্যের একটি দল প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করে। ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ ইখওয়ান আদলান জামালউদ্দিন এ দলের নেতৃত্ব দেন।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গানি। তিনি সফরকালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় মালয়েশিয়া সরকারের প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা দাতুক রোজাইনর রামলি এবং মিয়ানমারে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোহান আরিফ আবদুল রাজাকও উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া সরকারি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (উইসমা পুত্রা) জানিয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিয়ানমারের বিষয়ে গঠনমূলক ও নীতিনিষ্ঠ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
উইসমা পুত্রা বলেছে, মিয়ানমার আসিয়ানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র। আসিয়ানভুক্ত দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া মিয়ানমারে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাবে। একই সঙ্গে দেশটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেবে।
মালয়েশিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আসিয়ানের সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।














