বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক মেলায় পর্যটনসেবা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরল প্রতিষ্ঠানটি

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পর্যটন সেতুবন্ধনে মাইশা ট্রাভেল

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৮ এম
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পর্যটন সেতুবন্ধনে মাইশা ট্রাভেল

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি প্রদর্শনী ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম, আর্টস অ্যান্ড কালচার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স (ইনট্যাক) ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে নিজেদের কার্যক্রম, সক্ষমতা ও সেবার পরিধি তুলে ধরেছে মালয়েশিয়া সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রাভেল এজেন্সি মাইশা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস এসডিএন বিএইচডি। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয় অংশগ্রহণ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে।

কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশ অংশ নেয়। ১৫৫টি বুথে বিভিন্ন দেশের পর্যটন কোম্পানি, পর্যটন গন্তব্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটনসেবা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীর শেষ দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে মালয়েশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা, পর্যটনসেবা, ট্যুর প্যাকেজ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরে মাইশা ট্রাভেল। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পর্যটক আনা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

মাইশা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মিন্টু এমডি ইসহাক বলেন, “আমার এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। বাইরে থেকে অনেক বড় বড় কোম্পানি এসেছে। আমরাও চাই মালয়েশিয়া থেকে কিছু ইনভেস্টর বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারি। সেটাই আমরা চাই।”

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এদিকে প্রদর্শনীতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ। দুটি বুথের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা তুলে ধরা হয়। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং পর্যটন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এম৩৬০ আইসিটি যৌথভাবে এ উদ্যোগ নেয়।

প্রদর্শনীর শেষ দিনে বাংলাদেশ বুথে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশিদেরও ভিড় দেখা যায়। দর্শনার্থীদের কাছে দেশের পর্যটন গন্তব্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার ও ভ্রমণসুবিধা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রথম দিন বাংলাদেশ বুথ পরিদর্শন করেন কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতে যে বিস্তৃত সম্ভাবনা রয়েছে, তা মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।”

হাইকমিশনার বলেন, “আমার সঙ্গে থাকা শিল্পীরা চমৎকার পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সন্তুষ্টির বিষয়। আমরা আশা করছি, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটনের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা আরও ব্যাপকভাবে মালয়েশীয়দের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এর ফলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”

বাংলাদেশের পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি সেবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষ।

তিনি বলেন, “এখানে আমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেছি। আমাদের বিভিন্ন ভিডিওচিত্র ও প্রকাশনা রয়েছে। যারা এখানে এসেছেন, তারা প্রথমেই জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশ সম্পর্কে কোথায় কোথায় যাওয়া যায়, কোন জায়গাগুলো কেমন।”

প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, “আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা থেকে শুরু করে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং খাবারের বৈচিত্র সবকিছুই বিদেশি অতিথিদের সামনে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তাদের কাছে পরিচিত করতে চেয়েছি। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।”

প্রদর্শনীর ওপেন স্টেজে বাংলাদেশের পর্যটনবিষয়ক বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি দল দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে। এসব পরিবেশনা দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রশংসা অর্জন করে।

এর আগে বাংলাদেশ বুথ পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়া পর্যটন বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল আকবাল সেতিয়া। তিনি প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং দেশটির পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইনট্যাকের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন শুধু পর্যটন গন্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের আয়োজনে মাইশা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

পর্তুগালে আজ ৭ই অক্টোবরের শীর্ষ খবর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ এম
পর্তুগালে আজ ৭ই অক্টোবরের শীর্ষ খবর

১. বড় কর জালিয়াতি বিরোধী অভিযান , ২৫০টি স্থানে তল্লাশি
আজ পর্তুগালে “কারুশেল দু ইভা” নামে বড় একটি অভিযানে প্রায় ২৫০টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। মূলত ইভা বা মূল্য সংযোজন কর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এই অভিযানের সঙ্গে ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসও যুক্ত রয়েছে।

২. বাড়িভাড়া নিয়ে সরকার ও সোশ্যালিস্ট পার্টির দ্বন্দ্ব
প্রধানমন্ত্রী লুইশ মনতিনেগ্রু পর্তুগালের বাড়ি ও ভাড়ার মূল্য বৃদ্ধির জন্য আগের পিএস বা সোশ্যালিস্ট পার্টির নীতিকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে পিএস, শেগার সঙ্গে সরকারের ভাড়া আইন নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করছে।

৩. ২০২৭ সালের বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর কমানোর পরিকল্পনা
সরকারের (ওই-ই ২০২৭) বাজেট ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটে আবারও আই-আর-এস অর্থাৎ ব্যক্তিগত আয়কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকু দে পর্তুগাল অর্থাৎ পর্তুগালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ করেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

৪. আইমা এর নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ
পর্তুগালের অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা আইমা এর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেজার তেইশেইরা-কে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রেসিডেন্সি বা বসবাসের অনুমতিপত্রের জট এবং অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশাসনিক সমস্যা সমাধান করা তাঁর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

৫. ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ক্ষমা চাওয়া, জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর পর্তুগাল জাতীয় দলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোচ জর্জ জেজুশ ও রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

 

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মালয়েশিয়ায় প্রত্যাবাসনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ এম
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মালয়েশিয়ায়  প্রত্যাবাসনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। দেশটিতে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তার এ সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে।

সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। রয়্যাল রেঞ্জার রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের দুই কর্মকর্তা ও ২৬ সদস্যের একটি দল প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করে। ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ ইখওয়ান আদলান জামালউদ্দিন এ দলের নেতৃত্ব দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গানি। তিনি সফরকালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় মালয়েশিয়া সরকারের প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা দাতুক রোজাইনর রামলি এবং মিয়ানমারে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোহান আরিফ আবদুল রাজাকও উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া সরকারি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (উইসমা পুত্রা) জানিয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিয়ানমারের বিষয়ে গঠনমূলক ও নীতিনিষ্ঠ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

উইসমা পুত্রা বলেছে, মিয়ানমার আসিয়ানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র। আসিয়ানভুক্ত দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া মিয়ানমারে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাবে। একই সঙ্গে দেশটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেবে।

মালয়েশিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আসিয়ানের সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএম-হাইকমিশন বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ এম
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএম-হাইকমিশন বৈঠক

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন জোরদার এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এ লক্ষ্যে সোমবার (৬ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার ও মিনিস্টার শাহানারা মনিকা। আইওএমের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন করিডোরকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অভিবাসীবান্ধব করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেয় আইওএম।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও আটককেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।

একই সঙ্গে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সমন্বয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুফল এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রবাসী ও সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

এসব কর্মসূচিতে নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের মধ্যে সচেতনতা, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান, কাউন্সেলর (কনস্যুলার) ফিরোজ রব্বানী, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) ফাল্গুনী বাগচী এবং থার্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) এসএম সায়েম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ হাইকমিশন দীর্ঘদিন ধরে আইওএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক