বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পর্তুগালে তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাক্ষেত্রে এআইমুখী

৯ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৮৫ শতাংশই জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে

পর্তুগাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
পর্তুগালে তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাক্ষেত্রে এআইমুখী

পর্তুগালের শিশু ও কিশোরদের দৈনন্দিন জীবনে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ৯ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৮৫ শতাংশই জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে। পড়াশোনার কাজে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়লেও স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উদ্বেগ এবং বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শের ক্ষেত্রেও তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এআইয়ের ওপর নির্ভর করছে।

ইইউ কিডস অনলাইন ২০২৫-এর পর্তুগালভিত্তিক গবেষণায় ২ হাজার ১১১ জন শিশু ও কিশোরের ওপর জরিপ চালানো হয়। জরিপটি ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল ৯ থেকে ১৭ বছর। গবেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই এখন তরুণদের ডিজিটাল জীবনের একটি কেন্দ্রীয় অংশে পরিণত হয়েছে।

পড়াশোনায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশ শিশু-কিশোর স্কুলের কাজের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের কাজ সম্পন্ন করা, তথ্য বোঝা এবং লেখালেখিতে সহায়তা নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এ ছাড়া ৪৮ শতাংশ দীর্ঘ লেখা বা তথ্যের সারসংক্ষেপ তৈরিতে এআই ব্যবহার করেছে যা ইউরোপীয় গড়ের তুলনায়ও বেশি।

পর্তুগালের তরুণদের এআই ব্যবহারের মাত্রা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষণা বলছে, বিভিন্ন ধরনের এআই কার্যক্রমের বৈচিত্র্য ও ব্যবহারের তীব্রতা দুই ক্ষেত্রেই পর্তুগাল ইউরোপীয় গড়ের ওপরে অবস্থান করছে।

বয়স বাড়লে বাড়ছে এআই নির্ভরতা

পড়াশোনার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হার বয়সের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ৯ থেকে ১১ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ স্কুলের কাজে এআই ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে।

অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই শুধু বিনোদন বা কৌতূহল মেটানোর উপকরণ হিসেবে নয়, বরং পড়াশোনার নিয়মিত সহায়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে, বড় বয়সী শিক্ষার্থীরা এআইকে তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্দেশ্যনির্ভরভাবে ব্যবহার করছে।

স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত উদ্বেগেও এআই

এআই ব্যবহারের পরিধি শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। জরিপে ২৩ শতাংশ শিশু-কিশোর শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে। একই হারে আরও ২৩ শতাংশ নিজেদের উদ্বেগ বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে কথা বলেছে এবং পরামর্শ নিয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ও আবেগগত সহায়তার ক্ষেত্রে পর্তুগালের তরুণদের এআই ব্যবহার ইউরোপীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ইউরোপীয় গড় যেখানে ১৫ শতাংশ, সেখানে পর্তুগালে এই হার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

আর্থসামাজিক বৈষম্যও স্পষ্ট

তবে এআই ব্যবহারে সব তরুণের সুযোগ এক নয়। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে এআই ব্যবহারের একটি স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

উচ্চ ও মধ্যম আর্থসামাজিক অবস্থানের প্রায় অর্ধেক তরুণ স্কুলের কাজে এআই ব্যবহার করে। বিপরীতে নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থানের তরুণদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩৪ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজনের একটি নতুন মাত্রা সামনে এসেছে। আগে ডিজিটাল বৈষম্য বলতে মূলত ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইস বা প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের পার্থক্য বোঝানো হতো। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, ব্যবহারের ধরন এবং উন্নত এআই সুবিধা পাওয়ার সুযোগও।

অভিভাবক-শিক্ষকদের আগেই পৌঁছে গেছে এআই

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো তরুণদের মধ্যে এআইয়ের বিস্তার অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্রিয় নির্দেশনার আগেই ঘটেছে।

গবেষণার গুণগত অংশে অংশ নেওয়া ১৫ জন পর্তুগিজ কিশোর-কিশোরীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাদের অনেকেই বন্ধু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নিজেদের কৌতূহল থেকে প্রথম এআই ব্যবহার শুরু করেছে। অভিভাবকদের সরাসরি ভূমিকা সেখানে তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

ইনস্টিটিউটো দে কোমুনিকাসাঁও দা নোভা আইসিএনওভা-এর গবেষক এবং প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ক্রিস্তিনা পন্তে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, পর্তুগালে তরুণদের মধ্যে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ঘটেছে অনেকটা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বাইরে।

তার মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে এআই যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে তা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের চিন্তা ও পরিশ্রমের পরিবর্তে পুরো কাজ এআইয়ের ওপর ছেড়ে দেয়, তাহলে তা শেখার ক্ষমতা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্রুত উত্তর, কিন্তু সবসময় নির্ভুল নয়

গবেষণায় এআইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও উঠে এসেছে। শিশু-কিশোরদের কাছে এআইয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এর দ্রুততা, সহজ ব্যবহার এবং স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক তরুণ এআই কীভাবে কাজ করে বা এর দেওয়া তথ্যের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে না।

গবেষণার গুণগত অংশে এমন উদাহরণও পাওয়া গেছে যেখানে এআই গণিতের প্রশ্নের ভুল উত্তর দিয়েছে। অর্থাৎ এআইয়ের উত্তর দ্রুত ও আত্মবিশ্বাসী শোনালেও তা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। এ কারণে গবেষকেরা শিশু-কিশোরদের মধ্যে এআই-সাক্ষরতা, তথ্য যাচাই এবং সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ভুয়া তথ্য নিয়েও উদ্বেগ

শুধু এআই ব্যবহার নয়, এর মাধ্যমে তৈরি বা প্রচারিত তথ্য নিয়েও তরুণদের উদ্বেগ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী ভুয়া খবর এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় সে বিষয়ে আরও জানতে আগ্রহী।

গবেষকদের মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করা এখন শিশু-কিশোরদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের ফলে এই চ্যালেঞ্জ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্কুলে এআই ব্যবহারের নতুন বাস্তবতা

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, স্কুলে এআইকে শুধু নিষিদ্ধ করার বিষয় হিসেবে না দেখে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।

গবেষকেরা মনে করেন, শিক্ষার্থীরা এআই দিয়ে কোনো কাজ করলে শিক্ষকরা কী ধরনের সহায়তা গ্রহণযোগ্য এবং কোন পর্যায়ে তা শিক্ষার্থীর নিজস্ব কাজ হিসেবে গণ্য হবে এসব বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দিতে পারেন। একই সঙ্গে এআইয়ের ভুল উত্তর, পক্ষপাত, গোপনীয়তা, কপিরাইট এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান দিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এআই-সাক্ষরতা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিশু-কিশোরদের জানতে হবে এআই কীভাবে কাজ করে, এর সীমাবদ্ধতা কোথায়, কখন এর উত্তর যাচাই করা প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইইউ কিডস অনলাইন ২০২৫-এর পর্তুগালভিত্তিক ফলাফল একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেনারেটিভ এআই এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; পর্তুগালের একটি বড় অংশের শিশু-কিশোরের কাছে এটি ইতোমধ্যে পড়াশোনা, তথ্য অনুসন্ধান, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত পরামর্শের দৈনন্দিন হাতিয়ার। গবেষকদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন তরুণদের এআই থেকে দূরে রাখা নয়, বরং কীভাবে তাদের নিরাপদ, সমালোচনামূলক ও শিক্ষাবান্ধবভাবে এআই ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা যায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক