বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদে মিলাদুন্নবীতে কোন আমল জরুরি, কী বলে কোরআন-হাদিস

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
ঈদে মিলাদুন্নবীতে কোন আমল জরুরি, কী বলে কোরআন-হাদিস

আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসব আবহ ও পূর্ণ মর্যাদায় পালিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। এটি বিশ্ব মানবতার শান্তির দূত ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের ঐতিহাসিক স্মারক ১২ রবিউল আউয়াল।

পবিত্র এই দিনটিকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একাংশের মনে দীর্ঘদিনের একটি সাধারণ জিজ্ঞাসা জাগে ঈদে মিলাদুন্নবীতে মূলত কোন ইবাদত বা আমলগুলো সম্পাদন করা প্রয়োজন? এদিনের বিশেষত্ব হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো নামাজ, বিশেষ রোজা কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক ইবাদতের তাগিদ রয়েছে কি না?

কোরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়ের মূল বক্তব্য অনুধাবন করা জরুরি। ১২ রবিউল আউয়াল তারিখটিকে কেন্দ্র করে আলাদা কোনো ফরজ, ওয়াজিব, নির্দিষ্ট দোয়ার ফ্রেমওয়ার্ক কিংবা নির্ধারিত সংখ্যায় জিকির ও দরুদ শরিফ পাঠের স্বতন্ত্র হুকুম শরিয়তে পাওয়া যায় না। তবে আখিরাতের নাজাত লাভ ও নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উপায় হিসেবে দরুদ পাঠ, কোরআন তিলওয়াত, দান-সদকা ও তাঁর আদর্শ অনুশীলনের গুরুত্ব ইসলামে সার্বক্ষণিক। ফলে এই ঐতিহাসিক দিনেও এসব শুভ কাজ পালনে বাধা নেই।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও সুমহান আদর্শ অনুসরণ

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সর্বশ্রেষ্ঠ এবং প্রকৃত প্রমাণ হলো নিজের সমগ্র জীবনে তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহ ও শিক্ষাকে পুরোপুরি ধারণ করা।

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, মুমিনদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সত্তাই হচ্ছে একমাত্র সুনিশ্চিত উত্তম আদর্শ। একইভাবে সূরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে জানানো হয়েছে, মহানবীর অনুকরণ ও অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দরবারের ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব। কেবল একটি বিশেষ দিন বা নির্দিষ্ট সময়সীমায় নবীজিকে স্মরণ করা যথেষ্ট নয়; বরং তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সাম্য এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যকে প্রতিদিনের জীবনব্যবস্থায় প্রয়োগ করাই সুন্নাহর আসল উদ্দেশ্য।

দরুদ ও সালাম পাঠের আবহ তৈরি

রাসূল (সা.)-এর প্রতি প্রতিনিয়ত দরুদ ও সালাম প্রেরণের তাগিদ স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দিয়েছেন। সূরা আল-আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে ইমানদারদের সুনির্দিষ্টভাবে নবীজির ওপর দরুদ ও সালাম প্রেরণের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

হাদিস শরিফেও দরুদ পাঠের অসীম ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে মহানবী (সা.) উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, বিনিময়ে মহান আল্লাহ সেই বান্দার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন। সুতরাং ঈদে মিলাদুন্নবীর সুযোগে ইবাদতের নিয়তে বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পেশ করা উত্তম। তবে এই দিনের জন্য দরুদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বিশেষ নিয়ম নির্দিষ্ট করা অনুচিত।

মহানবী (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী (সিরাত) চর্চা

রবিউল আউয়াল মাসটি মহানবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবন ও তাঁর রেখে যাওয়া অতুলনীয় আদর্শ সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের একটি চমৎকার উপলক্ষ হতে পারে। এই সময়ে তাঁর সিরাত গ্রন্থ পাঠ করা, পরিবারের সদস্যদের ও নতুন প্রজন্মকে তাঁর অমূল্য নীতিগুলো জানানো অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) পরিবার, প্রতিবেশী, অনগ্রসর জাতি, অসহায়, নারী ও শিশুদের সঙ্গে যে অতুলনীয় মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা জানা ও বাস্তব জীবনে রূপ দেওয়াই তাঁর প্রতি ভালোবাসার সঠিক বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত কর্মসূচিতেও নবীজির সুমহান জীবন, বিশ্বশান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবাধিকার চর্চার নানা ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোকপাত করা হয়ে থাকে।

তিলওয়াত, জিকির ও সার্বিক দোয়ার ধারাবাহিকতা

পবিত্র কোরআন তিলওয়াত, ইস্তিগফার, জিকির ও আল্লাহর কাছে মোনাজাত করা একজন মুসলমানের জন্য সর্বাবস্থায় উত্তম আমল। তাই এই দিনেও যেকোনো সময় এসব নফল ইবাদত করা যেতে পারে।

এ সময় নিজের ও স্বজনদের হেদায়াত চাওয়ার পাশাপাশি দেশ ও মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করা যায়। তবে স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, ‘মিলাদুন্নবীর বিশেষ দোয়া’ নামে আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট দোয়ার উল্লেখ কোরআন বা সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। সুতরাং ধর্মীয় কোনো ইবাদত পালন বা প্রচারের পূর্বে তার তথ্যসূত্র শতভাগ নির্ভরযোগ্য কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক।

দান-সদকা ও ক্ষুধার্তের মাঝে খাদ্য বিতরণ

দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সহায়তা করা এবং মানুষকে খাদ্য দান করা ইসলামের মূল সৌন্দর্যগুলোর একটি। মিসরের রাষ্ট্রীয় ফতোয়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘দারুল ইফতা’ এক মতামতে জানিয়েছে, মহানবীর জন্মস্মৃতি উপলক্ষে কোরআন পাঠ, জিকির ও মানুষকে খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করা ও আনন্দ প্রকাশ করা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য একটি পন্থা। অবশ্য এই মানবিক কাজগুলো কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরের যেকোনো দিন ও সময়ে সম্পাদন করা অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ।

১২ রবিউল আউয়ালে বিশেষ রোজা পালনের বিধান কী?

এ প্রসঙ্গে সহিহ মুসলিমের একটি সুপরিচিত হাদিসের কথা প্রায়শই আলোচনায় আসতে দেখা যায়। হজরত আবু কাতাদা আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.)-কে প্রতি সোমবার রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তর দেন, এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এই দিনেই তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়েছে।

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, বর্ণিত হাদিসটির মূল বিষয়বস্তু ছিল প্রতি সপ্তাহের ‘সোমবারের নফল রোজা’। তাই নির্দিষ্ট কোনো তারিখের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়ালে বিশেষভাবে রোজা রাখা সুন্নতে সুনির্দিষ্ট এমন ভাবনার বৈজ্ঞানিক বা শরয়ি ভিত্তি দুর্বল।

বিশেষত বাংলাদেশে এ বছর ১২ রবিউল আউয়াল বুধবার (২৬ আগস্ট) পালিত হচ্ছে। তাই সোমবারের রোজা সম্পর্কিত হাদিসটিকে সরাসরি বুধবারের ১২ রবিউল আউয়ালের জন্য বিশেষ রোজা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে কেউ চাইলে সাধারণ নফল রোজা হিসেবে এদিন রোজা রাখতে পারেন।

উদ্‌যাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে শীর্ষ আলেমদের অবস্থান

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে পৃথক কোনো অনুষ্ঠান কিংবা বার্ষিক উদযাপনের ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে আলেম সমাজের মধ্যে দুইটি মূলধারার মতামত পরিলক্ষিত হয়:

দারুল ইফতার মত: মিসরের প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ‘দারুল ইফতা’র মতে, কোনো প্রকার অনৈসলামিক বা শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে রাসুল (সা.)-এর জীবনী আলোচনা, জিকির, দরুদ পাঠ ও গরিবদের খাবার বিতরণের মাধ্যমে তাঁর জন্মকে উদযাপন করা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ।

সউদী ঘরানার মতামত: অন্যদিকে সৌদি আরবের সাবেক শীর্ষ মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ ইবন বাযসহ একদল বিশারদের মতে, রাসূল (সা.), তাঁর অনুসারী সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী তাবেঈনদের যুগে ১২ রবিউল আউয়াল ঘিরে এভাবে বার্ষিক উৎসব পালনের কোনো প্রচলন ছিল না। ফলে একে স্রেফ ধর্মীয় উৎসব মনে করে পালন করা পরিহার করাই শ্রেয়।

এই সকল মতভেদের উর্ধ্বে উঠে কোরআনের দুটি মৌলিক আদেশের ওপর সব আলেম একমত তা হলো মহানবী (সা.)-কে নিজের জীবনে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করা এবং তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে দরুদ ও সালাম পেশ করা।

তাহলে এই দিনে একজন মুসলিমের করণীয় কী?

ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনটিতে একজন সচেতন মুসলিম তাঁর দৈনন্দিন ফরজ ইবাদতগুলো নিখুঁতভাবে আদায় করার পাশাপাশি বেশি করে দরুদ ও সালাম পাঠ করবেন। অবসর সময়ে কোরআন তিলওয়াত, জিকির ও নিজের পরকালের সুরক্ষায় মোনাজাত করতে পারেন। এর বাইরে নবীজির সীরত চর্চা, পরিবারকে তাঁর আদর্শে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এবং যথাসাধ্য দান-সদকার মাধ্যমে অভাবীদের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে।

তবে ভিত্তিহীন কোনো বিশেষ নামাজ, তৈরি করা নির্দিষ্ট দোয়া কিংবা ১২ রবিউল আউয়ালের নাম দিয়ে কোনো বিশেষ রোজাকে শরিয়তের আবশ্যকিয়তা হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকাই ঈমানের দাবি। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত প্রেম বা ভালোবাসাকে কেবল একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় বাঁধাই করা সম্ভব নয়। কোরআন যে সুমহান আদর্শের কথা বলেছে, প্রতিদিনের কর্মক্ষেত্রে তাঁর প্রতিফলন ঘটানোর মধ্য দিয়েই সেই অকৃত্রিম নবীপ্রেম সার্থক হয়ে ওঠে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক