মুসলিমদের পূজায় যাওয়ার বিধান কী? কোরআন-হাদিসে যা বলা হয়েছে
বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সহাবস্থান যুগ যুগ ধরে বজায় রয়েছে। ভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশাপাশি বসবাস এবং উৎসবে সামাজিক সৌজন্য বিনিময়ের চিত্র প্রতিনিয়ত দেখা গেলেও অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে যাওয়া বা পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে প্রায়শই নানা প্রশ্ন ওঠে। ইসলামি ফিকহ ও কোরআন-হাদিসের আলোকে আলেমরা বিষয়টি বিশ্লেষণে সামাজিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় উপাসনার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সদাচরণ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের মৌলিক নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। সুরা আল-মুমতাহিনার ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি বা গৃহহীন করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে মহান আল্লাহ নিষেধ করেন না। এছাড়া সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, অমুসলিম মায়ের সঙ্গেও ভালো আচরণ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ফলে সামাজিক সৌজন্য ও প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি ইসলামে স্বীকৃত।
তবে সামাজিক সম্পর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাকে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুরা আল-কাফিরুনের ৬ নম্বর আয়াতের “তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন”—এই মূলনীতির ভিত্তিতে একত্ববাদের পরিপন্থী কোনো আচারে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়। সুরা আল-ফুরকানের ৭২ নম্বর আয়াতে ‘অনর্থক বা অসত্য কাজ’ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা তাফসিরকারকদের মতে শিরক বা বাতিল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাকেও নির্দেশ করে।
পূজামণ্ডপে যাওয়া বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়ে আলেমরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও সেখানে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের ওপর। পূজার ধর্মীয় আচার পালন, দেবদেবীর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা কিংবা উপাসনামূলক কোনো কাজে অংশ নেওয়া মুসলিমদের জন্য কোনোভাবেই বৈধ নয়। অন্যদিকে, কেবল সামাজিক সৌজন্য, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন, শৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা নিরাপত্তার প্রয়োজনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিবেচিত হয়। তাই সব ধরনের উপস্থিতিকে ঢালাওভাবে একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আলেমদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।














