শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মাটি পরীক্ষা করাতে কোন অবহেলা বা অতিরিক্ত ব্যয় না

প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আকবর হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
মাটি পরীক্ষা করাতে কোন অবহেলা বা অতিরিক্ত ব্যয় না

যেকোনো নির্মাণ প্রকল্পে মাটি পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও উদ্ভাবনী নকশা এবং চমৎকার স্থাপত্য প্রায়শই দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যেকোনো কাঠামোর আসল ভিত্তি নির্ভর করে তার নিচের মাটির গুণমানের ওপর। এখানে আমরা নির্মাণকাজ শুরু করার আগে মাটি পরীক্ষা কেন অপরিহার্য, তার ছয়টি প্রধান কারণ তুলে ধরলাম-

কাঠামোগত অখণ্ডতা নিশ্চিত করা 
মাটির স্থিতিশীলতা একটি ভবনের কাঠামোগত অখণ্ডতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিভিন্ন ধরণের মাটির শক্তি, সংহতি এবং ভারবহন ক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হয়। যথাযথ মাটি পরীক্ষা ছাড়া, আপনি অস্থিতিশীল ভূমির উপর ভবন নির্মাণের ঝুঁকি নেন। এর ফলে ভিত্তির ফাটল, অসম ভূমিধস এবং এমনকি কাঠামোগত ব্যর্থতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাটি পরীক্ষা এর ঘনত্ব, আর্দ্রতার পরিমাণ এবং দৃঢ়তার মাত্রার মতো বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অপরিহার্য ধারণা দেয়। সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার সমস্যাগুলো আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে, আপনি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন, যা কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

নির্মাণ পদ্ধতির কাস্টমাইজেশন 
প্রতিটি নির্মাণস্থলই স্বতন্ত্র, এবং সেখানকার মাটির অবস্থা ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি স্থান নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এই তথ্য আপনার নির্মাণ পদ্ধতিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে নিতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে ভূমিটি অগভীর নাকি গভীর ভিত্তির জন্য উপযুক্ত। এর মাধ্যমে আরও জানা যায় যে মাটির মান উন্নায়ন কৌশল প্রয়োজন কিনা বা বিশেষ নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রয়োগ করা উচিত কিনা। নির্দিষ্ট স্থানের অবস্থার সাথে আপনার নির্মাণ পরিকল্পনাকে মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আপনি কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্ভাবনা কমাতে পারেন। এটি নিশ্চিত করে যে চূড়ান্ত কাঠামোটি নিরাপদ এবং টেকসই হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করা
আজকের নির্মাণ শিল্পে পরিবেশগত প্রভাব কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল নির্মাণ পদ্ধতি প্রচারে মৃত্তিকা পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পরিবেশের সাথে মাটির মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, মাটির ভেদ্যতা এবং ক্ষয়ের সম্ভাবনা বোঝা কার্যকর ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রণয়নে সহায়তা করে। এটি নিকটবর্তী জলাশয়ে মাটির ক্ষয় এবং পলি জমার ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও, মৃত্তিকা পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য দূষণের ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়। এর ফলে আপনি ভূগর্ভস্থ জল বা পার্শ্ববর্তী বাস্তুতন্ত্রে দূষক প্রবেশ প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারেন। আপনার নির্মাণ পরিকল্পনায় এই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা পরিবেশগত নিয়মকানুন মেনে চলা নিশ্চিত করে এবং প্রকল্পের স্থায়িত্বে অবদান রাখে।

ব্যয়বহুল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো
অপ্রত্যাশিত সমস্যা নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। মাটি পরীক্ষা আপনাকে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে লুকানো শূন্যস্থান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বা দুর্বল মাটির স্তর শনাক্ত করা যায়, যা ভিত্তিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে এমন দূষণও প্রকাশ পেতে পারে, যার প্রতিকারের জন্য নির্মাণ কাজ শুরু করা প্রয়োজন। এই সমস্যাগুলো আগেভাগে চিহ্নিত করতে পারলে, আপনি সেগুলো মোকাবিলার জন্য কৌশল তৈরি করতে পারবেন। এভাবে, আপনি কার্যকরভাবে সম্পদ বরাদ্দ করতে পারবেন এবং এমন ব্যয়বহুল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে পারবেন যা প্রকল্পের সময়সীমা ও বাজেটকে ব্যাহত করতে পারে।

ক্লায়েন্টের আস্থা বৃদ্ধি করা 
প্রতিযোগিতামূলক নির্মাণ শিল্পে গ্রাহকের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটি পরীক্ষা আপনার নির্মাণ পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে। এটি গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের কাছে প্রমাণ করে যে, আপনি নির্মাণস্থলের ঝুঁকিগুলো বুঝতে এবং তা প্রশমিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই তথ্য-নির্ভর পদ্ধতিটি আস্থা তৈরি করে এবং পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া জুড়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। যখন গ্রাহকরা নির্মাণস্থলের অবস্থা বোঝার জন্য আপনার বিনিয়োগ দেখতে পান, তখন তারা প্রকল্পের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সাফল্যের উপর আস্থা রাখতে আরও বেশি আগ্রহী হন।

ভিত্তি নকশার সর্বোত্তম ব্যবহার 
যেকোনো কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিত্তি। এর নকশা অবশ্যই সেই মাটির সাথে মানানসই হতে হবে যার উপর এটি স্থাপিত। ভিত্তির নকশাকে সর্বোত্তম করার জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায়। এটি নিশ্চিত করে যে ভিত্তিটি মাটির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি মাটি পরীক্ষায় কম ভারবহন ক্ষমতা প্রকাশ পায়, তবে আরও গভীর ভিত্তির প্রয়োজন হতে পারে। বিকল্পভাবে, কাঠামোটিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য মাটি স্থিতিশীলকরণ কৌশলের প্রয়োজন হতে পারে। মাটির আর্দ্রতা এবং দৃঢ়তার মাত্রা বোঝার মাধ্যমে এমন একটি ভিত্তির নকশা করা সম্ভব হয় যা সময়ের সাথে সাথে কাঠামোর বসে যাওয়া বা নড়াচড়া কমিয়ে আনে। ব্যাপক মাটি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে ভিত্তির নকশাকে সর্বোত্তম করার মাধ্যমে, আপনি ভবনের দীর্ঘায়ু ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করেন এবং আগামী বহু বছর ধরে আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখেন।
অনেকেই মাটি পরীক্ষাকে অবহেলা ও অতিরক্তি ব্যয় মনে করেন। মাটি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সুবিধা ব্যতিত আর কিছু নাই। সুতরাং নির্মানের পূর্বে মাটি পরীক্ষা করে আপনার নির্মানকে রাখুন সুরক্ষিত।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক