শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেনে ক্ষমতার রাজনীতি

সেউতা ইস্যুতে জবাবদিহিতা, রাষ্ট্রীয় বয়ান ও সত্যের প্রশ্ন

মিরন নাজমুল বার্সেলোনা প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
সেউতা ইস্যুতে জবাবদিহিতা, রাষ্ট্রীয় বয়ান ও সত্যের প্রশ্ন

ক্ষমতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তখন, যখন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রশ্ন যদি সীমান্ত, নিরাপত্তা, কূটনীতি ও সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন বিষয়টি আর কেবল একটি রাজনৈতিক বিতর্ক থাকে না—তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের জবাবদিহি, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার পরীক্ষা।

স্পেনের সেউতা ইস্যুকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই জায়গাতেই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ২০ মিনুতোস পত্রিকায় প্রকাশিত সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা খোয়ান রদ্রিগেস গারাতের একটি মতামত কলাম এই বিতর্ককে আরও বিস্তৃত একটি রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছে-ক্ষমতা যখন নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নিজেই নির্ধারণ করতে শুরু করে, তখন রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে সেই ব্যাখ্যাকে যাচাই করতে পারে?

গারাত তাঁর লেখায় ‘দায়মুক্তি’র ধারণাকে সামনে এনেছেন। তাঁর যুক্তি হলো, রাজনৈতিক ক্ষমতার সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ তখনই দেখা দেয়, যখন ক্ষমতাবানরা মনে করতে শুরু করেন যে সিদ্ধান্তের ভুল, বক্তব্যের অসঙ্গতি কিংবা রাজনৈতিক ব্যর্থতার জন্য তাদের বাস্তবে কোনো মূল্য দিতে হবে না।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তাঁর এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া পাঠকের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ- স্পেনের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত যাচাই কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সরকারের হাতে থাকতে পারে না।

সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বিরোধী দল সেটি প্রশ্ন করবে। সংবাদমাধ্যম তথ্য যাচাই করবে। প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নথি সামনে আনবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজন হলে তদন্ত করবে। আদালত প্রয়োজন হলে আইনি বৈধতা পরীক্ষা করবে। আর নাগরিক সমাজ জানতে চাইবে- রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ভিত্তি কী?

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই। একই ঘটনার একাধিক রাজনৈতিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, কিন্তু সত্যের একাধিক সংস্করণ থাকতে পারে না। সত্য নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন প্রমাণ, নথি ও স্বাধীন যাচাই।

সেউতা ইস্যুতে বিতর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ঠিক এই জায়গায়।

স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতা শুধু একটি সীমান্ত এলাকা নয়। এটি স্পেন, মরক্কো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন, নিরাপত্তা ও কূটনীতির সংযোগস্থল। ফলে সেখানে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা দ্রুতই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে।

আর সেখানেই রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের দূরত্ব তৈরি হলে সমস্যা আরও জটিল হয়।

একটি সরকার কোনো ঘটনা সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দেবে, সেটি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারের ব্যাখ্যা আর প্রমাণিত সত্য- এই দুটি বিষয় এক নয়।

এটি শুধু বর্তমান স্পেনের জন্য নয়, যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্যই একটি মৌলিক শিক্ষা।

গারাত তাঁর বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের রাজনৈতিক আচরণকে একই বৃহত্তর ধারণার মধ্যে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু তিনি যে কাঠামোটি ব্যবহার করেছেন, সেটি বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ- রাজনৈতিক নেতারা যখন নিজেদের বক্তব্যকে বারবার নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন, তখন নাগরিকের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় কোনটি রাজনৈতিক বয়ান আর কোনটি যাচাই করা তথ্য, তা আলাদা করা।

এখানে সেউতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

কারণ সীমান্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আবেগ খুব দ্রুত রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হতে পারে। অভিবাসন, মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা কিংবা সেউতার ভবিষ্যৎ—প্রতিটি বিষয়ই স্পেনের সাধারণ মানুষের কাছে সংবেদনশীল।

এই সংবেদনশীলতার সুযোগে যদি কোনো রাজনৈতিক পক্ষ তথ্যের পরিবর্তে ভয়, ক্ষোভ বা রাজনৈতিক আনুগত্যকে সামনে নিয়ে আসে, তাহলে গণতান্ত্রিক বিতর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে সরকারও যদি সমালোচনাকে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলেও একই সমস্যা তৈরি হয়।

কারণ একটি সরকারের সমালোচনা মানেই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়।

আবার সরকারের কোনো বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলাও রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়।

বরং প্রশ্ন করার অধিকারই গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি।

এই জায়গায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাজ সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং সরকার কী বলছে, বিরোধীরা কী বলছে এবং বাস্তবে কী ঘটেছে—এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা।

সেউতা নিয়ে বিতর্কেও তাই প্রয়োজন আবেগের চেয়ে তথ্যের ওপর জোর।

কোন ঘটনা কখন ঘটেছে?

কী নথি রয়েছে?

কোন সরকারি সংস্থা কী বলেছে?

পুলিশ বা নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য কী?

আদালতের পর্যবেক্ষণ আছে কি?

মরক্কোর বক্তব্য কী?

স্পেন সরকারের অবস্থান কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- আগের বক্তব্যের সঙ্গে পরের বক্তব্যের মধ্যে কোনো বাস্তব অসঙ্গতি থাকলে তার ব্যাখ্যা কী?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর রাজনৈতিক স্লোগানে পাওয়া যাবে না। পাওয়া যাবে নথিতে।

এখানেই ‘দায়মুক্তি’র ধারণাটি বাস্তব অর্থ পায়।

দায়মুক্তি মানে শুধু কোনো রাজনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়া নয়। রাজনৈতিক অর্থে দায়মুক্তি আরও বিস্তৃত। এর অর্থ হলো- একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমন একটি অবস্থানে পৌঁছে যাওয়া, যেখানে তার বক্তব্যকে যাচাই করার প্রয়োজন কমে যায়, ভুলের ব্যাখ্যা দেওয়ার চাপ কমে যায় এবং রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় অন্য কারও ওপর সরিয়ে দেওয়া সহজ হয়ে যায়।

এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।

কারণ গণতন্ত্রে ক্ষমতা স্থায়ী নয়। আজ যে সরকার ক্ষমতায়, আগামী নির্বাচনে সে বিরোধী দলে যেতে পারে। আজ যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জনপ্রিয়, কয়েক বছর পর সেটিই ভুল বলে প্রমাণিত হতে পারে।

তাই গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কোনো সরকারের জনপ্রিয়তায় নয়; বরং সরকারের নিজের সিদ্ধান্তের জবাব দেওয়ার সক্ষমতায়।

পেদ্রো সানচেজের সরকারকে ঘিরে সেউতা ও মরক্কো সম্পর্কিত বিতর্কেও এই প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক। সরকারের নীতি সঠিক কি না, তা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে। কিন্তু সেই নীতির ভিত্তি কী, তার ব্যাখ্যা কী এবং সিদ্ধান্তের ফল কী হয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতেই হবে।

একইভাবে সরকারের সমালোচকরাও জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেন না। তারা কোনো অভিযোগ তুললে তার প্রমাণও দিতে হবে।

অর্থাৎ জবাবদিহি শুধু সরকারের জন্য নয়। বিরোধী দল, সংবাদমাধ্যম, নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক- সবার ক্ষেত্রেই একই নীতি প্রযোজ্য।

কারণ সত্য কোনো দলের সম্পত্তি নয়।

এখানেই সেউতা ইস্যু স্পেনের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি আয়না হয়ে উঠতে পারে।

একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ। অন্যদিকে মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক। তার সঙ্গে যুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি। সবকিছুর ওপর আবার রয়েছে স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এই চারটি স্তর যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বেশি জোরালো হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।

আর সেই মুহূর্তেই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যায়।

কারণ কোনো প্রধানমন্ত্রীই রাষ্ট্রের সমান নন।

কোনো রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্রের মালিক নয়।

কোনো সংবাদমাধ্যমও সত্যের একমাত্র মালিক নয়।

এমনকি কোনো নিরাপত্তা সংস্থার বক্তব্যও প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

শেষ পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সত্য যাচাইয়ের পথ হতে হবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক, নথিভিত্তিক এবং স্বাধীন।

খোয়ান রদ্রিগেস গারাতের লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তাই তাঁর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অভিযোগ নয়; বরং সেই অভিযোগের মধ্য দিয়ে উঠে আসা বৃহত্তর প্রশ্নটি।

স্পেনে ক্ষমতা কীভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছে?

সরকারের বক্তব্য কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই হচ্ছে?

রাজনৈতিক বয়ান ও বাস্তব তথ্যের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে সেটি কে প্রকাশ করছে?

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নাগরিকরা কি পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন, যাতে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?

এই প্রশ্নগুলো কেবল সানচেজ সরকারকে ঘিরে নয়। ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, একই প্রশ্ন তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

কারণ গণতন্ত্রে জবাবদিহির নিয়ম ব্যক্তির ওপর নির্ভর করলে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে যায়।

আজ একজন প্রধানমন্ত্রীকে ছাড় দেওয়া হলো, কাল অন্য একজন সেই একই ছাড় চাইবেন। আজ একটি রাজনৈতিক পক্ষ তথ্য যাচাই ছাড়াই দাবি করল, কাল অন্য পক্ষও একই পদ্ধতি অনুসরণ করবে। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বয়ান সত্যের জায়গা দখল করবে।

তখন গণতন্ত্র থাকবে, নির্বাচন থাকবে, সংসদ থাকবে—কিন্তু নাগরিকের আস্থা কমতে থাকবে।

সেউতা তাই শুধু একটি সীমান্তের গল্প নয়।

এটি স্পেনের রাষ্ট্রক্ষমতা, রাজনৈতিক বয়ান, কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

এই পরীক্ষায় কোনো পক্ষের জয়-পরাজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- প্রমাণের জয় হচ্ছে কি না।

কারণ ক্ষমতা ভুল করতে পারে। সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিরোধী দলও ভুল করতে পারে। সংবাদমাধ্যমও ভুল করতে পারে।

কিন্তু একটি সুস্থ গণতন্ত্রের পার্থক্য হলো- ভুল হলে সেটি সংশোধনের পথ খোলা থাকে।

প্রশ্ন করার অধিকার থাকে, নথি চাওয়ার অধিকার থাকে, তদন্তের সুযোগ থাকে, আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

আর ক্ষমতাবান ব্যক্তিকেও বলতে হয়- তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সেউতা নিয়ে বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই: রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সীমান্ত রক্ষা করার ক্ষমতায় নয়, নিজের ক্ষমতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর সক্ষমতায়।

আর যখন কোনো সরকার, নেতা বা প্রতিষ্ঠান মনে করতে শুরু করে যে তাদের বক্তব্যই শেষ কথা—তখন গণতন্ত্রের জন্য সতর্ক হওয়ার সময় এসে যায়।

কারণ ক্ষমতার প্রকৃত পরীক্ষা তখনই, যখন ক্ষমতাবান মানুষটিও জানেন- তিনি ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে পারেন, কিন্তু সত্য ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন।

মিরন নাজমুল : সম্পাদক, প্রবাহ বাংলা
ই-মেইল: [email protected].

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক