শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি কেন নয়, ঐক্যের দাবি হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার!

অসীম বিকাশ বড়ুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম
প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি কেন নয়, ঐক্যের দাবি হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার!

৬ অক্টোবর, সোমবার। দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণা মানেই আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা এবং মৈত্রীর আলোকে আলোকিত হওয়ার এক মহান ব্রত। ‘প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি ঘোষণা’র দাবিটি কেবল যৌক্তিক নয়, এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতীক।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসবটি এখনও সরকারি ছুটির তালিকাভুক্ত হয়নি। যেখানে বৌদ্ধদের বছরে একমাত্র সরকারি ছুটি হিসেবে বুদ্ধ পূর্ণিমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রবারণা পূর্ণিমার মতো ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের সমাপ্তি ও ভিক্ষু সংঘের বিনয়িক আত্মসমালোচনার এই পবিত্র দিনে ছুটি না থাকাটা লক্ষাধিক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর জন্য এক বড় অপ্রাপ্তি।

দাবি জোরালো করার যৌক্তিকতা

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি কেবল আবেগ নয়, এর পিছনে রয়েছে সুদৃঢ় ধর্মীয় ও সামাজিক ভিত্তি।প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব,যা আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। এই উৎসব ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস (আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস) সমাপনী এবং ভিক্ষু সংঘের আত্মশুদ্ধি ও বিনয়িক আচারের প্রতীক। প্রবারণা শব্দটি পালি ‘পবারণা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ব্যাপক ও তাৎপর্যমণ্ডিত। এটি মূলত ‘প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা’ এবং ‘নিষেধ করা‘—এই দুটি দিককে নির্দেশ করে।

প্রবারণার মূল তাৎপর্য ও আদর্শ

প্রবারণা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি জীবনবোধ তৈরির সর্বোত্তম শিক্ষা। এর গভীর তাৎপর্যগুলি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনা: বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষু সংঘ এক পবিত্র বিনয়িক বিধান পালনের মাধ্যমে একে অপরের কাছে নিজেদের দোষ-ত্রুটি স্বীকার করেন। জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে ঘটে যাওয়া যেকোনো ভুলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে তাঁরা চারিত্রিক শুদ্ধি অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য ত্রুটিমুক্ত থাকার অঙ্গীকার করেন। এটি শেখায় যে, ভুল স্বীকার করার মধ্যেই মহত্ত্ব নিহিত।

কুশল বরণ ও অকুশল বর্জন: প্রবারণা মানেই অন্যায় (অকুশল) কর্মকে বর্জন করা এবং ন্যায় (কুশল) ও সত্যকে বরণ করার শপথ নেওয়া। গৃহী বা সাধারণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও এদিন দান, শীল (নীতি), ভাবনা ও প্রজ্ঞার অনুশীলন করে নিজেদের জীবনের ভুলভ্রান্তি স্বীকার করেন এবং বিশুদ্ধ জীবনযাপনের আদর্শে ব্রতী হন।

মৈত্রী, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি: এই উৎসব পারস্পরিক মিলন ও ভালোবাসার প্রতীক। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের প্রতি মৈত্রী, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভাব বিনিময় করা হয়। এটি মনের মলিনতা দূর করে, একতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
ভিক্ষুসংঘের বিনয়িক বিধান: ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে অবস্থানকালে বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুদের প্রতি এই প্রবারণার প্রবর্তন করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, ভিক্ষুগণ যেন মৌনব্রত পালন না করে পরস্পরের কাছে দৃষ্ট, শ্রুত বা আশঙ্কিত যেকোনো ত্রুটি সনির্বন্ধ অনুরোধের মাধ্যমে জ্ঞাপন করেন, যা অপরাধ হতে উদ্ধার ও নিয়মানুবর্তিতার পথ।

মাতৃদেবীকে ধর্মদেশনা ও মর্ত্যে অবতরণ: এই পূর্ণিমা তিথিতে গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে তাঁর প্রয়াত মাতৃদেবী মাতা মায়াদেবীকে অভিধর্ম দেশনা করার পর সাংকশ্য নগরে অবতরণ করেছিলেন। এটি বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত স্মৃতিসমৃদ্ধ ও আনন্দের একটি ঘটনা।

সদ্ধর্ম প্রচারের নির্দেশ: প্রথম বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমার অন্তে বুদ্ধ ৬০ জন অর্হৎ ভিক্ষুকে “বহুজনের হিতের ও সুখের জন্য আদি-মধ্য-অন্তে কল্যাণকর ধর্ম দিকে দিকে প্রচার কর”—এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই শুরু হয় দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব।

ফানুস উড়ানোর তাৎপর্য

প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ বা ফানুস উড়ানো। এটিকে নিছক উৎসব হিসেবে না দেখে, এর পিছনে থাকা ধর্মীয় তাৎপর্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

গৌতম বুদ্ধের কেশরাশির প্রতি পূজা ও সম্মান প্রদর্শন: কথিত আছে, সিদ্ধার্থ গৌতম গৃহত্যাগ করার পর যখন কেশররাশি কেটে ঊর্ধ্বে নিক্ষেপ করে সত্যক্রিয়া করেন, তখন দেবরাজ ইন্দ্র সেই কেশরাশি তাবতিংস স্বর্গে নিয়ে গিয়ে চুলামনি চৈত্য প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেন। মর্ত্য থেকে সেই পবিত্র চুলামনি চৈত্যকে পূজা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধরা ফানুস বা আকাশ প্রদীপ উত্তোলন করেন।

ফানুসের আলো মানুষের অন্তর্জগৎকে আলোকিত করার প্রতীক। এটি সব রকমের পাপ, অন্ধত্ব, কুসংস্কার ও অকুশল কর্ম থেকে দূরে সরে গিয়ে পবিত্রতা ও জ্ঞানের আলোকে বরণ করার বার্তা দেয়।

প্রবারণার নৈতিক আবেদন: মৈত্রীই হোক আমাদের পথ

প্রবারণা পূর্ণিমার মূল আদর্শ হলো হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক মৈত্রী, সহাবস্থান ও অহিংসার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠন করা। উৎসবের জাঁকজমক যেন ধর্মের মূল নীতি ও আদর্শকে ছাপিয়ে না যায়, সেই বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

আজকের দিনে যখন ব্যক্তিগত অহংবোধ ও ক্ষমতার লোভ আমাদের মধ্যে হানাহানি ও বিভেদ সৃষ্টি করে, তখন প্রবারণা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়:

“কিসের এত রাগ, কিসের এত হিংসা! এই সামান্য জীবনে কিসের এত প্রতিযোগিতা, কিসের এত মুখ ফিরিয়ে নেওয়া? জীবন তো একেবারেই অনিশ্চিত, কাঁচের গ্লাসের মতো ভঙ্গুর।”

প্রকৃত ধর্মচর্চা মানে শুধু উৎসবে অংশ নেওয়া নয়, বরং বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ ও মানবতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা। ভিক্ষু বা গৃহী—সকলের উচিত বুদ্ধের পঞ্চশীল মেনে চলা, অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন উদ্যমে সৎ পথে জীবন পরিচালনা করা।

আসুন, শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার এই মহালগ্নে আমরা প্রত্যেকে ফানুসের আলোর মতো আমাদের অন্তর্জগৎকে আলোকিত করি। সব বাদ-বিসংবাদ ভুলে পরস্পরকে ক্ষমা করি এবং ভালোবাসা, হাসি ও পূর্ণতায় জীবন ভরিয়ে তুলি।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক