শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি কেন নয়, ঐক্যের দাবি হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার!

অসীম বিকাশ বড়ুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম
প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি কেন নয়, ঐক্যের দাবি হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার!

৬ অক্টোবর, সোমবার। দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণা মানেই আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা এবং মৈত্রীর আলোকে আলোকিত হওয়ার এক মহান ব্রত। ‘প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি ঘোষণা’র দাবিটি কেবল যৌক্তিক নয়, এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতীক।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসবটি এখনও সরকারি ছুটির তালিকাভুক্ত হয়নি। যেখানে বৌদ্ধদের বছরে একমাত্র সরকারি ছুটি হিসেবে বুদ্ধ পূর্ণিমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রবারণা পূর্ণিমার মতো ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের সমাপ্তি ও ভিক্ষু সংঘের বিনয়িক আত্মসমালোচনার এই পবিত্র দিনে ছুটি না থাকাটা লক্ষাধিক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর জন্য এক বড় অপ্রাপ্তি।

দাবি জোরালো করার যৌক্তিকতা

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রবারণা পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি কেবল আবেগ নয়, এর পিছনে রয়েছে সুদৃঢ় ধর্মীয় ও সামাজিক ভিত্তি।প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব,যা আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। এই উৎসব ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস (আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস) সমাপনী এবং ভিক্ষু সংঘের আত্মশুদ্ধি ও বিনয়িক আচারের প্রতীক। প্রবারণা শব্দটি পালি ‘পবারণা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ব্যাপক ও তাৎপর্যমণ্ডিত। এটি মূলত ‘প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা’ এবং ‘নিষেধ করা‘—এই দুটি দিককে নির্দেশ করে।

প্রবারণার মূল তাৎপর্য ও আদর্শ

প্রবারণা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি জীবনবোধ তৈরির সর্বোত্তম শিক্ষা। এর গভীর তাৎপর্যগুলি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনা: বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষু সংঘ এক পবিত্র বিনয়িক বিধান পালনের মাধ্যমে একে অপরের কাছে নিজেদের দোষ-ত্রুটি স্বীকার করেন। জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে ঘটে যাওয়া যেকোনো ভুলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে তাঁরা চারিত্রিক শুদ্ধি অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য ত্রুটিমুক্ত থাকার অঙ্গীকার করেন। এটি শেখায় যে, ভুল স্বীকার করার মধ্যেই মহত্ত্ব নিহিত।

কুশল বরণ ও অকুশল বর্জন: প্রবারণা মানেই অন্যায় (অকুশল) কর্মকে বর্জন করা এবং ন্যায় (কুশল) ও সত্যকে বরণ করার শপথ নেওয়া। গৃহী বা সাধারণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও এদিন দান, শীল (নীতি), ভাবনা ও প্রজ্ঞার অনুশীলন করে নিজেদের জীবনের ভুলভ্রান্তি স্বীকার করেন এবং বিশুদ্ধ জীবনযাপনের আদর্শে ব্রতী হন।

মৈত্রী, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি: এই উৎসব পারস্পরিক মিলন ও ভালোবাসার প্রতীক। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের প্রতি মৈত্রী, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভাব বিনিময় করা হয়। এটি মনের মলিনতা দূর করে, একতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
ভিক্ষুসংঘের বিনয়িক বিধান: ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে অবস্থানকালে বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুদের প্রতি এই প্রবারণার প্রবর্তন করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, ভিক্ষুগণ যেন মৌনব্রত পালন না করে পরস্পরের কাছে দৃষ্ট, শ্রুত বা আশঙ্কিত যেকোনো ত্রুটি সনির্বন্ধ অনুরোধের মাধ্যমে জ্ঞাপন করেন, যা অপরাধ হতে উদ্ধার ও নিয়মানুবর্তিতার পথ।

মাতৃদেবীকে ধর্মদেশনা ও মর্ত্যে অবতরণ: এই পূর্ণিমা তিথিতে গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে তাঁর প্রয়াত মাতৃদেবী মাতা মায়াদেবীকে অভিধর্ম দেশনা করার পর সাংকশ্য নগরে অবতরণ করেছিলেন। এটি বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত স্মৃতিসমৃদ্ধ ও আনন্দের একটি ঘটনা।

সদ্ধর্ম প্রচারের নির্দেশ: প্রথম বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমার অন্তে বুদ্ধ ৬০ জন অর্হৎ ভিক্ষুকে “বহুজনের হিতের ও সুখের জন্য আদি-মধ্য-অন্তে কল্যাণকর ধর্ম দিকে দিকে প্রচার কর”—এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরদিন থেকেই শুরু হয় দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব।

ফানুস উড়ানোর তাৎপর্য

প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ বা ফানুস উড়ানো। এটিকে নিছক উৎসব হিসেবে না দেখে, এর পিছনে থাকা ধর্মীয় তাৎপর্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

গৌতম বুদ্ধের কেশরাশির প্রতি পূজা ও সম্মান প্রদর্শন: কথিত আছে, সিদ্ধার্থ গৌতম গৃহত্যাগ করার পর যখন কেশররাশি কেটে ঊর্ধ্বে নিক্ষেপ করে সত্যক্রিয়া করেন, তখন দেবরাজ ইন্দ্র সেই কেশরাশি তাবতিংস স্বর্গে নিয়ে গিয়ে চুলামনি চৈত্য প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেন। মর্ত্য থেকে সেই পবিত্র চুলামনি চৈত্যকে পূজা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধরা ফানুস বা আকাশ প্রদীপ উত্তোলন করেন।

ফানুসের আলো মানুষের অন্তর্জগৎকে আলোকিত করার প্রতীক। এটি সব রকমের পাপ, অন্ধত্ব, কুসংস্কার ও অকুশল কর্ম থেকে দূরে সরে গিয়ে পবিত্রতা ও জ্ঞানের আলোকে বরণ করার বার্তা দেয়।

প্রবারণার নৈতিক আবেদন: মৈত্রীই হোক আমাদের পথ

প্রবারণা পূর্ণিমার মূল আদর্শ হলো হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক মৈত্রী, সহাবস্থান ও অহিংসার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠন করা। উৎসবের জাঁকজমক যেন ধর্মের মূল নীতি ও আদর্শকে ছাপিয়ে না যায়, সেই বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

আজকের দিনে যখন ব্যক্তিগত অহংবোধ ও ক্ষমতার লোভ আমাদের মধ্যে হানাহানি ও বিভেদ সৃষ্টি করে, তখন প্রবারণা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়:

“কিসের এত রাগ, কিসের এত হিংসা! এই সামান্য জীবনে কিসের এত প্রতিযোগিতা, কিসের এত মুখ ফিরিয়ে নেওয়া? জীবন তো একেবারেই অনিশ্চিত, কাঁচের গ্লাসের মতো ভঙ্গুর।”

প্রকৃত ধর্মচর্চা মানে শুধু উৎসবে অংশ নেওয়া নয়, বরং বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ ও মানবতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা। ভিক্ষু বা গৃহী—সকলের উচিত বুদ্ধের পঞ্চশীল মেনে চলা, অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন উদ্যমে সৎ পথে জীবন পরিচালনা করা।

আসুন, শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার এই মহালগ্নে আমরা প্রত্যেকে ফানুসের আলোর মতো আমাদের অন্তর্জগৎকে আলোকিত করি। সব বাদ-বিসংবাদ ভুলে পরস্পরকে ক্ষমা করি এবং ভালোবাসা, হাসি ও পূর্ণতায় জীবন ভরিয়ে তুলি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক