শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী সমীপে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এক খোলা চিঠি

আলমগীর চৌধুরী আকাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:৫৭ এম
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এক খোলা চিঠি

আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। এটি হবে তার প্রথম বিদেশ সফর। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমরা তার সফলতা কামনা করি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই, যা শুধু প্রবাসী শিক্ষার্থীদের নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমি আলমগীর চৌধুরী আকাশ, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া (আইআইইউএম)-এর একজন পিএইচডি গবেষক। বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মালয়েশিয়া (বিএসইউএম)-এর সাবেক সভাপতি এবং আইআইইউএম পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টস সোসাইটি (পিজিএসএস)-এর সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কিছু প্রত্যাশা বাস্তবায়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

বর্তমানে মালয়েশিয়া এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে শত শত শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে আসছেন। তারা শুধু ডিগ্রি অর্জন করছেন না; বরং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করছেন।তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখনো বঞ্চিত।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে ৩২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ১২ মাস মেয়াদি গ্র্যাজুয়েট পাস সুবিধা প্রদান করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট সময় মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে চাকরি খোঁজা, কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান।

এই সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশ।

দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশ এখনো সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হারাচ্ছেন। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন, অথচ তাদের সহপাঠীরা গ্র্যাজুয়েট পাসের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শিল্প, প্রযুক্তি, গবেষণা ও করপোরেট খাতে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

আজকের বিশ্বে শুধু একটি ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বৈশ্বিক পেশাগত নেটওয়ার্ক একজন শিক্ষার্থীকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে। গ্র্যাজুয়েট পাস শিক্ষা ও কর্মজীবনের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে।

এখানে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন উঠে আসে—ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীরা যদি এই সুযোগ পেতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেন বঞ্চিত থাকবেন?

আমরা জানি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়েও বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট পাস সুবিধা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে।

এটি কোনো বিশেষ সুবিধার দাবি নয়; বরং ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।

একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সেবাগুলোকে আরও শিক্ষার্থী-বান্ধব করা প্রয়োজন। পাসপোর্ট নবায়ন, অ্যাটেস্টেশন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক স্টুডেন্ট সার্ভিস ডেস্ক বা প্রায়োরিটি সার্ভিস কাউন্টার চালু করা হলে সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি করা। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, তাদের গবেষণার ক্ষেত্র কী এবং তারা কোন পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন—এসব তথ্যের কোনো সমন্বিত জাতীয় প্ল্যাটফর্ম নেই। অথচ এমন একটি ডাটাবেস জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, স্কলারশিপ প্রদান, গবেষণা অনুদান, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের অধীনে একটি ক্যারিয়ার অ্যান্ড এমপ্লয়েবিলিটি সাপোর্ট সেল গঠন করা যেতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি, শিল্পখাত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবেন।

আমাদের আরেকটি প্রত্যাশা হলো বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি গবেষকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা, গবেষণা অর্জন, উদ্ভাবন কিংবা পেটেন্টের জন্য বিশেষ সম্মাননা ও অনুদান চালু করা হলে গবেষণার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি গবেষকদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আজকের বিশ্বে একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, তার মানবসম্পদ। মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্য চালিকাশক্তি। তাদের জন্য সঠিক নীতি, প্রয়োজনীয় সুযোগ এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল বহু বছর ধরে দেশ ভোগ করবে।

আমরা কোনো বিশেষ সুযোগ চাই না; আমরা চাই সমান সুযোগ। আমরা চাই আমাদের শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর সুযোগ। আমরা চাই এমন নীতি, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করবে।

আপনার এই সফর যদি গ্র্যাজুয়েট পাস সুবিধা, শিক্ষার্থীবান্ধব কনস্যুলার সেবা, ক্যারিয়ার সহায়তা এবং গবেষণা সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতির পথ খুলে দেয়, তবে তা শুধু মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমরা আশাবাদী, আপনি আমাদের এই প্রত্যাশাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

লেখক : পিএইচডি গবেষক, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া (আইআইইউএম) সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মালয়েশিয়া (বিএসইউএম) সাবেক সভাপতি, আইআইইউএম পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টস সোসাইটি (পিজিএসএস)

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক