শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মাটি পরীক্ষা করাতে কোন অবহেলা বা অতিরিক্ত ব্যয় না

প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আকবর হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
মাটি পরীক্ষা করাতে কোন অবহেলা বা অতিরিক্ত ব্যয় না

যেকোনো নির্মাণ প্রকল্পে মাটি পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও উদ্ভাবনী নকশা এবং চমৎকার স্থাপত্য প্রায়শই দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যেকোনো কাঠামোর আসল ভিত্তি নির্ভর করে তার নিচের মাটির গুণমানের ওপর। এখানে আমরা নির্মাণকাজ শুরু করার আগে মাটি পরীক্ষা কেন অপরিহার্য, তার ছয়টি প্রধান কারণ তুলে ধরলাম-

কাঠামোগত অখণ্ডতা নিশ্চিত করা 
মাটির স্থিতিশীলতা একটি ভবনের কাঠামোগত অখণ্ডতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিভিন্ন ধরণের মাটির শক্তি, সংহতি এবং ভারবহন ক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হয়। যথাযথ মাটি পরীক্ষা ছাড়া, আপনি অস্থিতিশীল ভূমির উপর ভবন নির্মাণের ঝুঁকি নেন। এর ফলে ভিত্তির ফাটল, অসম ভূমিধস এবং এমনকি কাঠামোগত ব্যর্থতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাটি পরীক্ষা এর ঘনত্ব, আর্দ্রতার পরিমাণ এবং দৃঢ়তার মাত্রার মতো বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অপরিহার্য ধারণা দেয়। সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার সমস্যাগুলো আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে, আপনি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন, যা কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

নির্মাণ পদ্ধতির কাস্টমাইজেশন 
প্রতিটি নির্মাণস্থলই স্বতন্ত্র, এবং সেখানকার মাটির অবস্থা ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি স্থান নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এই তথ্য আপনার নির্মাণ পদ্ধতিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে নিতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে ভূমিটি অগভীর নাকি গভীর ভিত্তির জন্য উপযুক্ত। এর মাধ্যমে আরও জানা যায় যে মাটির মান উন্নায়ন কৌশল প্রয়োজন কিনা বা বিশেষ নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রয়োগ করা উচিত কিনা। নির্দিষ্ট স্থানের অবস্থার সাথে আপনার নির্মাণ পরিকল্পনাকে মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আপনি কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্ভাবনা কমাতে পারেন। এটি নিশ্চিত করে যে চূড়ান্ত কাঠামোটি নিরাপদ এবং টেকসই হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করা
আজকের নির্মাণ শিল্পে পরিবেশগত প্রভাব কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল নির্মাণ পদ্ধতি প্রচারে মৃত্তিকা পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পরিবেশের সাথে মাটির মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, মাটির ভেদ্যতা এবং ক্ষয়ের সম্ভাবনা বোঝা কার্যকর ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রণয়নে সহায়তা করে। এটি নিকটবর্তী জলাশয়ে মাটির ক্ষয় এবং পলি জমার ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও, মৃত্তিকা পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য দূষণের ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়। এর ফলে আপনি ভূগর্ভস্থ জল বা পার্শ্ববর্তী বাস্তুতন্ত্রে দূষক প্রবেশ প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারেন। আপনার নির্মাণ পরিকল্পনায় এই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা পরিবেশগত নিয়মকানুন মেনে চলা নিশ্চিত করে এবং প্রকল্পের স্থায়িত্বে অবদান রাখে।

ব্যয়বহুল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো
অপ্রত্যাশিত সমস্যা নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। মাটি পরীক্ষা আপনাকে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে লুকানো শূন্যস্থান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বা দুর্বল মাটির স্তর শনাক্ত করা যায়, যা ভিত্তিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে এমন দূষণও প্রকাশ পেতে পারে, যার প্রতিকারের জন্য নির্মাণ কাজ শুরু করা প্রয়োজন। এই সমস্যাগুলো আগেভাগে চিহ্নিত করতে পারলে, আপনি সেগুলো মোকাবিলার জন্য কৌশল তৈরি করতে পারবেন। এভাবে, আপনি কার্যকরভাবে সম্পদ বরাদ্দ করতে পারবেন এবং এমন ব্যয়বহুল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে পারবেন যা প্রকল্পের সময়সীমা ও বাজেটকে ব্যাহত করতে পারে।

ক্লায়েন্টের আস্থা বৃদ্ধি করা 
প্রতিযোগিতামূলক নির্মাণ শিল্পে গ্রাহকের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটি পরীক্ষা আপনার নির্মাণ পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে। এটি গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের কাছে প্রমাণ করে যে, আপনি নির্মাণস্থলের ঝুঁকিগুলো বুঝতে এবং তা প্রশমিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই তথ্য-নির্ভর পদ্ধতিটি আস্থা তৈরি করে এবং পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া জুড়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। যখন গ্রাহকরা নির্মাণস্থলের অবস্থা বোঝার জন্য আপনার বিনিয়োগ দেখতে পান, তখন তারা প্রকল্পের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সাফল্যের উপর আস্থা রাখতে আরও বেশি আগ্রহী হন।

ভিত্তি নকশার সর্বোত্তম ব্যবহার 
যেকোনো কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিত্তি। এর নকশা অবশ্যই সেই মাটির সাথে মানানসই হতে হবে যার উপর এটি স্থাপিত। ভিত্তির নকশাকে সর্বোত্তম করার জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায়। এটি নিশ্চিত করে যে ভিত্তিটি মাটির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি মাটি পরীক্ষায় কম ভারবহন ক্ষমতা প্রকাশ পায়, তবে আরও গভীর ভিত্তির প্রয়োজন হতে পারে। বিকল্পভাবে, কাঠামোটিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য মাটি স্থিতিশীলকরণ কৌশলের প্রয়োজন হতে পারে। মাটির আর্দ্রতা এবং দৃঢ়তার মাত্রা বোঝার মাধ্যমে এমন একটি ভিত্তির নকশা করা সম্ভব হয় যা সময়ের সাথে সাথে কাঠামোর বসে যাওয়া বা নড়াচড়া কমিয়ে আনে। ব্যাপক মাটি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে ভিত্তির নকশাকে সর্বোত্তম করার মাধ্যমে, আপনি ভবনের দীর্ঘায়ু ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করেন এবং আগামী বহু বছর ধরে আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখেন।
অনেকেই মাটি পরীক্ষাকে অবহেলা ও অতিরক্তি ব্যয় মনে করেন। মাটি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সুবিধা ব্যতিত আর কিছু নাই। সুতরাং নির্মানের পূর্বে মাটি পরীক্ষা করে আপনার নির্মানকে রাখুন সুরক্ষিত।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক