ফিনালিসিমা ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা, স্পেনের বিপক্ষে হার নিয়ে শঙ্কায় আর্জেন্টিনা!
ফিনালিসিমা ম্যাচকে ঘিরে বয়কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দল কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে ওয়াশিংটনে যায়। সেখানে স্কালোনি হঠাৎ করেই বলেন, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে হওয়ার কথা থাকা ফিনালিসিমা ম্যাচ আদৌ হবে কি না, তা তারা নিশ্চিত নন।
এর আগে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয় যে বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে আসায় স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন ম্যাচ খেলতে দলটির অনীহা রয়েছে। কারণ বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে বড় ধরনের হার হলে সেটি দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
পর্দার আড়ালেও বেশ কিছু সমস্যা ছিল। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউদিও “চিকি” তাপিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল এবং সংস্থার ভেতরেও নানা ধরনের দ্বন্দ্ব ছিল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও পরিচালনা পর্ষদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল না।
এর আগে অ্যাঙ্গোলায় আর্জেন্টিনার একটি বিতর্কিত প্রীতি ম্যাচ হয়েছিল, যেখান থেকে সংস্থাটি আর্থিক লাভ করলেও দলের প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি পুরো ৯০ মিনিট খেলেছিলেন, যা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল।
প্রথমে পরিকল্পনা ছিল কাতারে ফিনালিসিমা আয়োজন করার। সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার ভেতরেই সন্দেহ তৈরি হয়।
আরেকটি সমস্যা ছিল সময়সূচি। স্পেন ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বকাপের জন্য নিশ্চিতভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে ম্যাচটি আয়োজনের জন্য ক্যালেন্ডারে একমাত্র সুযোগ ছিল মার্চ মাসে, অর্থাৎ বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে।
এখানে ২০১৮ সালের একটি তিক্ত স্মৃতিও সামনে আসে। সে বছর বিশ্বকাপের আগে মাদ্রিদে একটি প্রীতি ম্যাচে স্পেন আর্জেন্টিনাকে ৬–১ গোলে হারিয়েছিল। সেই বড় পরাজয়ের ধাক্কা নিয়েই আর্জেন্টিনা রাশিয়া বিশ্বকাপে গিয়েছিল। তাই স্কালোনি মনে করেন, বিশ্বকাপের ঠিক আগে আবার এমন ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচ খেলা ঠিক হবে না।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতারে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণও কমে যায়। এরপর আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার আগ্রহ আরও কমে যায়।
পরে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ও স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন প্রস্তাব দেয় যে ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বের্নাবেউ স্টেডিয়ামে আয়োজন করা যেতে পারে। এই স্টেডিয়ামে প্রায় চল্লিশ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন, কারণ স্পেনে বড় আর্জেন্টাইন সম্প্রদায় রয়েছে।
তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে তেমন সক্রিয়তা দেখা যায়নি। শেষ মুহূর্তে কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেস আর্জেন্টিনায় একটি সংক্ষিপ্ত সফর করলেও তাতে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।
এখনও কিছুটা আশা আছে যে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অনীহা ও টানাপোড়েনের কারণে ফিনালিসিমা ম্যাচটি বাতিল হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ⚽










