শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র :ফিফা সভাপতি

খেলা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র :ফিফা সভাপতি

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে পারবে—এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বুধবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বিশ্বকাপ আয়োজনের সহ-স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরান দলকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন।

ট্রাম্প–ইনফান্তিনো বৈঠক ও ইরানের অনিশ্চয়তা

ইনফান্তিনো জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে এবং ট্রাম্প ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে স্বাগত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন বলে দাবি করেন ফিফা সভাপতি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর আগে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা–সংকটের কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, দেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থা, নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ জটিলতা—সব মিলিয়ে ইরান সত্যিই বিশ্বকাপে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।

গ্রুপ পর্বে ইরানের সূচি

ফিফার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ‘জি’ গ্রুপে খেলবে ইরান। ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইনগলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা। ২১ জুন একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে তারা মুখোমুখি হবে মিসরের।

এই তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন ইরানের অংশগ্রহণকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। এরপরও ফিফা আশা করছে, সব পক্ষের সমন্বয়ে ইরানকে মাঠে দেখা যাবে।

ইরানি সমর্থকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও ফিফার অবস্থান

ইনফান্তিনো ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান দলকে স্বাগত জানানো হলেও দেশটির সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রথম ধাপেই ইরানি নাগরিকদের ওপর প্রবেশ–নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

ফিফার বিশ্বকাপ পরিচালনা প্রধান হেইমো শিরগি এর আগে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিধি এত বড় যে তা স্থগিত করা সম্ভব নয়; তবে সংস্থাটি ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রতিদিনই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ফিফার বার্তা: বিশ্বকাপ থামবে না, সবাইকে আশা

হেইমো শিরগি বলেন, প্রতিদিনকার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি তারা বিশ্লেষণ করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাধানের কোনো না কোনো পথ বের হবে বলেই ফিফার বিশ্বাস। তাদের ধারণা, যোগ্যতা অর্জন করা সব দলই মাঠে নামার সুযোগ পাবে এবং বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোও তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, বিশ্বকাপের মতো আয়োজন এখন মানুষের মধ্যে সংযোগ ও শান্তির বার্তা ছড়ানোর জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি ট্রাম্পের ‘সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ’ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানসহ সব যোগ্য দলকে নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হবে।

আয়োজক স্বত্ব হারানোর নজিরের উদাহরণ

ইরানের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হলে বা যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ফিফা আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও নীতিমালায় আছে। অতীতে এমন নজিরও রয়েছে। তিন বছর আগে পুরুষদের অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে ইসরায়েল দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানায় ইন্দোনেশিয়া। ফলস্বরূপ, টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ফিফা ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব বাতিল করে টুর্নামেন্টটি আর্জেন্টিনায় সরিয়ে নেয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি রাজনৈতিক কারণে বা বৈষম্যমূলক আচরণের ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারী দলকে স্বাগত জানাতে না চায়, তবে তাদের আয়োজক হিসেবে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রয়োজনে আয়োজক স্বত্ব অন্য দেশে দিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বকাপের প্রয়োজনীয়তা ও ‘একতার’ বার্তা

ইনফান্তিনো মনে করেন, চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্বকাপ আয়োজন বিশ্ব ফুটবল এবং বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক ধরনের পরীক্ষাও বটে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফুটবলকে কেন্দ্র করে মানুষকে একত্র করার ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের বিকল্প নেই। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মাঝেও ফিফা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করবে, যেন ইরানসহ সব দল মাঠে নামতে পারে এবং খেলাধুলা রাজনীতির উপরে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠাতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক