চাষের ইলিশে কি মিলবে সেই আসল স্বাদ?
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইনডোর কৃত্রিম চাষে ইলিশ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নদী-সমুদ্রের অভিবাসন করে বাড়তি চর্বিওয়ালা আসল ইলিশের স্বাদ অনন্য, কিন্তু চাষের ইলিশে সেই স্বাদ পাওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইলিশ অভিবাসী মাছ হওয়ায় চাষ চ্যালেঞ্জিং,তবে গত ২২ জানুয়ারি রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশ মাছ চাষ করার কথা জানিয়েছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সামুদ্রিক মাছ ইলিশ, এশিয়ান সিবাস ও গ্রুপার মাছ চাষ করতে চায় প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড।
এ লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া ও হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড। প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে দুই বছরে ৩ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। গত ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় প্রাণ-আরএফএল।
আসল ইলিশ পদ্মা-মেঘনার প্লাঙ্কটন খেয়ে বড় হয়, যা এর মাংসে বিশেষ গন্ধ-স্বাদ দেয়। চাষে ফিড ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত হলেও প্রাকৃতিক পুষ্টির অভাবে স্বাদ ও তেলহীনতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরএএস প্রযুক্তিতে স্বাদ কাছাকাছি আনা সম্ভব, তবে সম্পূর্ণ মিলবে না।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইনডোর বা কৃত্রিম ইলিশ চাষে এখনও কোনো নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রাণ-আরএফএল-এর সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা আছে, কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তি বা অনুমতি নেই। ইলিশকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়
সফল হলে গরিবদের জন্য সাশ্রয়ী ইলিশ পৌঁছাবে কি না, স্বাদ প্রাকৃতিকের মতো হবে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলেদের জীবিকা ও পরিবেশ রক্ষায়ও সতর্কতা দরকার।













