ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও কাটেনি এলপিজি সংকট, ভোগান্তিতে ভোক্তারা
ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও কাটেনি সংকট, মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের সংকট এখনও কাটেনি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়ে আসছিল। এর মধ্যেই গত ৪ জানুয়ারি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এতে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পরে বৃহস্পতিবার বিইআরসির সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের চেয়ারম্যানের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু শুক্রবার বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ সংকটের কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি। এমনকি অতিরিক্ত দাম দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকট ও সিন্ডিকেটের কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেশি দামেও পণ্য মিলছে না। তাই সিন্ডিকেটে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, ভ্যাট ছাড় কার্যকর হলে এলপিজির আমদানি বাড়বে এবং ধীরে ধীরে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।













