শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ভারত মুক্ত হয়নি: নেতৃত্ব সংকট ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

রহমান মৃধা, সুইডেন প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ভারত মুক্ত হয়নি: নেতৃত্ব সংকট ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছিলাম আত্মমর্যাদা, বিজয় এবং রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক অধিকার।

কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পর আজ একটি মৌলিক প্রশ্ন আবারও সামনে এসে দাঁড়িয়েছে—আমরা কি বাস্তবে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে পেরেছি। এই প্রশ্নের উত্তর কেবল আবেগে নয়; এটি দাবি করে গভীর রাজনৈতিক, সাংগঠনিক এবং সামাজিক বিশ্লেষণ। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা ছিল বাস্তব এবং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন নিজস্ব রাষ্ট্রনীতি ও কৌশল নির্ধারণে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন রাজনৈতিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং নেতৃত্বের বিভাজন সেই প্রচেষ্টাকে বারবার সীমিত করেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর অনেকটাই ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করা যায়নি। প্রশাসনিক অদক্ষতা, রাজনৈতিক চাপ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নীতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটি কেবল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাবের ফল ছিল না; দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার চক্র এবং নীতি সংকটই স্বাধীনতার পূর্ণতা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একক শাসনব্যবস্থা, বিরোধী মত দমনের প্রবণতা এবং দলীয় সংগঠনের দুর্বলতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি বিকশিত হয়েছে জেনারেল জিয়া, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। জেনারেল জিয়া সামরিক প্রভাবের মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক করেন, যা রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করে তোলে। এরশাদের দীর্ঘ সামরিক শাসন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থবির করে দেয়। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সমাজের গভীর বিভাজনকে আরও তীব্র করে তোলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ সময়ের শাসন অনেক বিশ্লেষকের কাছে একদিকে দূরদর্শী অন্যদিকে স্বৈরাচারী হিসেবে বিবেচিত। এই নেতৃত্ব কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এনেছে। তবে এর মূল্য ছিল উচ্চ। নির্বাচন ব্যবস্থা এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সংবিধান এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বেড়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে রাষ্ট্রীয় সংস্থার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বতন্ত্র নীতি গ্রহণের জায়গা ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক স্বাধীনতার পর থেকেই জটিল। দীর্ঘমেয়াদী কেন্দ্রীভূত শাসন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করেছে। ফলে ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষীণ হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থ এবং স্বাধীন নীতি প্রয়োগের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। এটি সরাসরি কোনো দখল নয়; বরং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ এবং নীতিগত স্বাধীনতার অভাব বাংলাদেশের কৌশলগত সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করেছে।দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকলে নেতৃত্বের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ অনেক সময় জাতীয় স্বার্থকে ছাপিয়ে যায়। ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দমন করা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। এর চূড়ান্ত ফল হলো রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সংকোচন, আন্তর্জাতিক ভারসাম্যের ক্ষতি, গণতান্ত্রিক সংস্কারের ব্যাঘাত এবং ভারতের প্রভাব বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি।

ভারত মুক্ত হতে বাংলাদেশের প্রয়োজন কোনো শত্রুতা নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের ভেতরের শক্তি পুনর্গঠন। একটি দেশ তখনই অন্য দেশের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়, যখন তার নেতৃত্ব স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তির নয় রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং তার গণতান্ত্রিক কাঠামো জনগণের বিশ্বাসে দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি যতদিন থাকবে, ততদিন ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীর প্রভাব অনিবার্যভাবেই জায়গা করে নেবে। ভারত মুক্ত হওয়া মানে সীমান্ত বন্ধ করা নয় বা সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়; ভারত মুক্ত হওয়া মানে জাতীয় স্বার্থকে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে নেওয়া, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতির বাইরে রাখা এবং এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা যেখানে ক্ষমতা নয় জবাবদিহি মুখ্য। বাংলাদেশ যদি নিজেই শক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে, তাহলে কোনো দেশই তাকে জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ও কোটা সংস্কার, বৈষম্যহীন সুযোগ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের বাস্তবায়ন। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক লাখ মানুষ এতে অংশ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। দেশের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে কেবল একটি দাবি ভিত্তিক আন্দোলন নয়; বরং দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশে রূপ দেয়।তীব্র গণচাপ সত্ত্বেও আন্দোলনটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক রূপ নিতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, সিদ্ধান্তহীনতা, সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ এবং সংবাদ ও তথ্যপ্রবাহে নিয়ন্ত্রণ এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এর ফলে আন্দোলনের প্রাথমিক ঐক্য ভেঙে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর অর্জিত হয়নি।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও নৈতিক, সাংগঠনিক এবং সমন্বিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হওয়ায় কার্যকর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সংকুচিত হয়েছে। স্বাধীনতার আদর্শ আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। তবে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবে বিপ্লবী সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি। এটি কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কার এবং সমন্বিত নেতৃত্বের অভাবের প্রতিফলন।

আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো সব রাজনৈতিক দলের নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সীমিত করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ পুনর্জাগ্রত করাই পারে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তব ভিত্তি তৈরি করতে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক স্বাধীনতার পূর্ণ বাস্তবতা এখনো সংগ্রামের মধ্যেই রয়েছে। মূল সংকট বাহ্যিক কোনো রাষ্ট্র নয়। সংকট নিহিত রয়েছে নেতৃত্বের দুর্বলতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস, সমন্বয়ের অভাব এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের ব্যর্থতায়। দুই হাজার চব্বিশ থেকে পঁচিশ সালের গণআন্দোলন কোনো বিদেশি প্রভাবের ফল নয়। এটি জনগণের আত্মস্বীকৃতি, অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব পুনর্গঠনের দাবির বহিঃপ্রকাশ। এই সংকটই বাংলাদেশকে একটি জনগণভিত্তিক, নীতিগত এবং স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে আজও বাধা দিচ্ছে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন, [email protected]

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক