শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ভারত মুক্ত হয়নি: নেতৃত্ব সংকট ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

রহমান মৃধা, সুইডেন প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ভারত মুক্ত হয়নি: নেতৃত্ব সংকট ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছিলাম আত্মমর্যাদা, বিজয় এবং রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক অধিকার।

কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পর আজ একটি মৌলিক প্রশ্ন আবারও সামনে এসে দাঁড়িয়েছে—আমরা কি বাস্তবে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে পেরেছি। এই প্রশ্নের উত্তর কেবল আবেগে নয়; এটি দাবি করে গভীর রাজনৈতিক, সাংগঠনিক এবং সামাজিক বিশ্লেষণ। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা ছিল বাস্তব এবং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন নিজস্ব রাষ্ট্রনীতি ও কৌশল নির্ধারণে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন রাজনৈতিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং নেতৃত্বের বিভাজন সেই প্রচেষ্টাকে বারবার সীমিত করেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর অনেকটাই ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করা যায়নি। প্রশাসনিক অদক্ষতা, রাজনৈতিক চাপ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নীতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটি কেবল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাবের ফল ছিল না; দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার চক্র এবং নীতি সংকটই স্বাধীনতার পূর্ণতা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একক শাসনব্যবস্থা, বিরোধী মত দমনের প্রবণতা এবং দলীয় সংগঠনের দুর্বলতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি বিকশিত হয়েছে জেনারেল জিয়া, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। জেনারেল জিয়া সামরিক প্রভাবের মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক করেন, যা রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করে তোলে। এরশাদের দীর্ঘ সামরিক শাসন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থবির করে দেয়। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সমাজের গভীর বিভাজনকে আরও তীব্র করে তোলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ সময়ের শাসন অনেক বিশ্লেষকের কাছে একদিকে দূরদর্শী অন্যদিকে স্বৈরাচারী হিসেবে বিবেচিত। এই নেতৃত্ব কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এনেছে। তবে এর মূল্য ছিল উচ্চ। নির্বাচন ব্যবস্থা এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সংবিধান এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বেড়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে রাষ্ট্রীয় সংস্থার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বতন্ত্র নীতি গ্রহণের জায়গা ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক স্বাধীনতার পর থেকেই জটিল। দীর্ঘমেয়াদী কেন্দ্রীভূত শাসন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করেছে। ফলে ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষীণ হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থ এবং স্বাধীন নীতি প্রয়োগের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। এটি সরাসরি কোনো দখল নয়; বরং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ এবং নীতিগত স্বাধীনতার অভাব বাংলাদেশের কৌশলগত সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করেছে।দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকলে নেতৃত্বের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ অনেক সময় জাতীয় স্বার্থকে ছাপিয়ে যায়। ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দমন করা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। এর চূড়ান্ত ফল হলো রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সংকোচন, আন্তর্জাতিক ভারসাম্যের ক্ষতি, গণতান্ত্রিক সংস্কারের ব্যাঘাত এবং ভারতের প্রভাব বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি।

ভারত মুক্ত হতে বাংলাদেশের প্রয়োজন কোনো শত্রুতা নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের ভেতরের শক্তি পুনর্গঠন। একটি দেশ তখনই অন্য দেশের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়, যখন তার নেতৃত্ব স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তির নয় রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং তার গণতান্ত্রিক কাঠামো জনগণের বিশ্বাসে দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি যতদিন থাকবে, ততদিন ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীর প্রভাব অনিবার্যভাবেই জায়গা করে নেবে। ভারত মুক্ত হওয়া মানে সীমান্ত বন্ধ করা নয় বা সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়; ভারত মুক্ত হওয়া মানে জাতীয় স্বার্থকে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে নেওয়া, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতির বাইরে রাখা এবং এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা যেখানে ক্ষমতা নয় জবাবদিহি মুখ্য। বাংলাদেশ যদি নিজেই শক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে, তাহলে কোনো দেশই তাকে জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ও কোটা সংস্কার, বৈষম্যহীন সুযোগ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের বাস্তবায়ন। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক লাখ মানুষ এতে অংশ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। দেশের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে কেবল একটি দাবি ভিত্তিক আন্দোলন নয়; বরং দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশে রূপ দেয়।তীব্র গণচাপ সত্ত্বেও আন্দোলনটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক রূপ নিতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, সিদ্ধান্তহীনতা, সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ এবং সংবাদ ও তথ্যপ্রবাহে নিয়ন্ত্রণ এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এর ফলে আন্দোলনের প্রাথমিক ঐক্য ভেঙে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর অর্জিত হয়নি।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও নৈতিক, সাংগঠনিক এবং সমন্বিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হওয়ায় কার্যকর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সংকুচিত হয়েছে। স্বাধীনতার আদর্শ আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। তবে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবে বিপ্লবী সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি। এটি কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কার এবং সমন্বিত নেতৃত্বের অভাবের প্রতিফলন।

আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো সব রাজনৈতিক দলের নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সীমিত করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ পুনর্জাগ্রত করাই পারে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তব ভিত্তি তৈরি করতে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক স্বাধীনতার পূর্ণ বাস্তবতা এখনো সংগ্রামের মধ্যেই রয়েছে। মূল সংকট বাহ্যিক কোনো রাষ্ট্র নয়। সংকট নিহিত রয়েছে নেতৃত্বের দুর্বলতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস, সমন্বয়ের অভাব এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের ব্যর্থতায়। দুই হাজার চব্বিশ থেকে পঁচিশ সালের গণআন্দোলন কোনো বিদেশি প্রভাবের ফল নয়। এটি জনগণের আত্মস্বীকৃতি, অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব পুনর্গঠনের দাবির বহিঃপ্রকাশ। এই সংকটই বাংলাদেশকে একটি জনগণভিত্তিক, নীতিগত এবং স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে আজও বাধা দিচ্ছে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন, [email protected]

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক