শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম
এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

স্পেনে বিদেশি পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে স্পেনে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ সময় পর্যটক আগমন বেড়েছে মাত্র ২.১ শতাংশ, মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭ লাখ ৮০ হাজারে। টানা সপ্তম মাসের মতো প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে রইল। বিশেষ করে ফ্রান্স থেকে পর্যটক আগমন ৭.৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই ধীরগতি দেখা গেছে।

জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত স্পেনে মোট ৯ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেশি। তবে এ হারে চললে ২০২৫ সালে মোট পর্যটক সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াবে, ফলে ইতিহাসে প্রথমবার ১০ কোটি পর্যটকের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তবে পর্যটক সংখ্যা কমলেও তাদের ব্যয় বেড়েছে। নভেম্বর মাসে বিদেশি পর্যটকদের ব্যয় ৫ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯৪ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। বছরের প্রথম ১১ মাসে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭০৭ মিলিয়ন ইউরো, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৯ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আমেরিকা ও এশিয়া থেকেও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জার্মানি ও ফ্রান্সের পর্যটকদের ব্যয় সামান্য কমেছে। মূল্যবৃদ্ধিই ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকার বলছে, তারা পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে ব্যয়ের মান ও টেকসই পর্যটনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো বছরে পর্যটন খাত থেকে স্পেনের আয় ১ লাখ ৩৫ হাজার মিলিয়ন ইউরোরও বেশি হতে পারে।


মাদ্রিদে তুষারপাতের সতর্কতা

স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চলে আগামী রোববার বিকেল থেকে সোমবার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আঞ্চলিক সরকার। পরিবেশ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস নোভিয়ো জানিয়েছেন, একটি নিম্নচাপের কারণে শীতল বায়ু প্রবেশ করবে, ফলে অঞ্চলটির যেকোনো উচ্চতায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

মাদ্রিদ ১১২ জরুরি সংস্থা ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভা করেছে। সোমবার ৫ জানুয়ারি থ্রি কিংস ডে উপলক্ষে বড় ধরনের শোভাযাত্রা থাকায় ওই দিনকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে শীতকালীন জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত লবণ মজুত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা অ্যাইমেত জানিয়েছে, রোববার থেকে অন্তত মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটির মধ্য, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিচু এলাকাতেও তুষারপাত হতে পারে। দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মজুত রাখা, বাড়িঘর পরীক্ষা করা ও অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।


স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসন প্রত্যাশীদের আগমন কমেছে

২০২৫ সালে অনিয়মিত পথে স্পেনে প্রবেশ করেছে মোট ৩৬ হাজার ৭৭৫ জন অভিবাসী। যা আগের বছর ২০২৪ সালের তুলনায় ৪২.৬ শতাংশ কম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, এবার তা স্পষ্টভাবে কমেছে।

এই হ্রাসের প্রধান কারণ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসী আগমন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া। সেখানে সমুদ্রপথে আগমন কমেছে ৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে এ রুটে ব্যবহৃত নৌকার সংখ্যাও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তবে ব্যালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে সমুদ্রপথে অভিবাসী আগমন বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি স্থলপথে সেউতা ও মেলিয়ায় প্রবেশকারীর সংখ্যাও ৪৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মেলিয়ায় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্পেনে পৌঁছানোর চেষ্টায় বিভিন্ন অভিবাসন রুটে অন্তত ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রপথ।

সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের অভিবাসী আগমন সংখ্যা সাম্প্রতিক আট বছরের মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে, যা ২০১৮ সালের রেকর্ড সর্বোচ্চ সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।


স্পেনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, −২০ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে তাপমাত্রা

আগামী সপ্তাহে স্পেনে তীব্র শীত নামতে যাচ্ছে। আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা শীতল বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা হঠাৎ অনেক কমে যাবে বলে জানিয়েছে স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা অ্যাইমেত।

সবচেয়ে ভয়াবহ শীত পড়বে পিরেনি পর্বতমালায়। কাতালোনিয়ার লেইদা প্রদেশের বেলভের দে সেরদানিয়া শহরে আগামী মঙ্গলবার থেকে বুধবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তার আগের রাতেও তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি।

পিরেনির অন্যান্য এলাকাতেও চরম শীতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জিরোনার আলপে মাইনাস ১৭ ডিগ্রি, ভিয়েলহা ও বেনাস্কে টানা দুই রাত মাইনাস ১৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা হতে পারে।

এই শীতল বায়ুর প্রভাবে দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ও পাহাড়ি এলাকাতেও রাতের বেলায় তীব্র তুষারপাত ও বরফ জমার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সড়কে বরফ, যান চলাচল এবং শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


২০২৫ সালে কাতালোনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪৪ জনের মৃত্যু

২০২৫ সালে কাতালোনিয়ায় আন্তঃনগর সড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনায় মোট ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। কাতালান ট্রাফিক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৩৬টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল আরোহী।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে এপি-৭ মহাসড়কে, বিশেষ করে তারাগোনা অংশে, যেখানে ১৭ জন নিহত হন। এরপর রয়েছে এন-২ সড়ক (১১ জন), সি-৫৮ (৯ জন) ও এ-২ (৮ জন)।

নিহতদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণির—৪৫ জন মোটরসাইকেল আরোহী, ১২ জন পথচারী ও ৫ জন সাইকেল চালক। বাকি নিহতরা ছিলেন ব্যক্তিগত গাড়ি, ভারী যান ও ভ্যানের যাত্রী। এ ছাড়া ২০২৫ সালে গুরুতর আহত হয়েছেন ৮৬১ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ জন বেশি।

বয়সভিত্তিক হিসাবে ৫৫–৬৪ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি নিহত হলেও ৩৫ বছরের নিচে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ। নিহতদের অধিকাংশই পুরুষ।

এলাকাভিত্তিক হিসাবে বার্সেলোনা ও লেইদা অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, তবে তারাগোনায় কিছুটা কমেছে। জিরোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের মতোই রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কাতালোনিয়ার সড়কে প্রাণহানি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক