উত্তাল শাহবাগ, ওসমান হাদির খুনিকে হাজির করার দাবি
ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন ছাত্রজনতা। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমকে গ্রেফতার ও আদালতে হাজির করার দাবিতে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার পর এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রজনতা ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘ইনসাফের পতাকায় হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর’সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, শহীদ হাদির হত্যার প্রধান আসামিসহ সংশ্লিষ্ট সব খুনিকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দেন তারা।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকারের উপদেষ্টারা শাহবাগে এসে জনগণের সামনে জবাবদিহি না করা পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে জীবন দিয়েও অবস্থান ধরে রাখার কথাও জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির রক্তে রঞ্জিত এই জমিনে দাঁড়িয়ে আজও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। জনগণকে উপেক্ষা করে কেউ নির্দেশনা দিতে চাইলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শহীদ হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং সাধারণ মানুষ আত্মমর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচার পরিবেশ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একজন নারী যতদিন নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে না পারবেন, ততদিন প্রকৃত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।












