এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে চাপ বেড়েই চলেছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে (শনি-শুক্রবার) ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু এবং ৬ হাজার ৫৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নগর থেকে গ্রাম—সব জায়গায়ই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর। প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (শনিবার–শুক্রবার) দেখা গেছে, এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের এবং নতুন ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৫৫২ জন রোগী।
দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
- ৮ নভেম্বর: মৃত্যু নেই, ভর্তি ৮৩৪
- ৯ নভেম্বর: মৃত্যু ৬, ভর্তি ১,১৯৫
- ১০ নভেম্বর: মৃত্যু ২, ভর্তি ১,১৭৯
- ১১ নভেম্বর: মৃত্যু ৩, ভর্তি ৯১২
- ১২ নভেম্বর: মৃত্যু ৫, ভর্তি ১,১৩৯
- ১৩ নভেম্বর: মৃত্যু ৩, ভর্তি ৮৩৩
- ১৪ নভেম্বর: মৃত্যু নেই, ভর্তি ৪৬০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি নভেম্বর মাসেই এখন পর্যন্ত ১৩,২০৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের।
এছাড়া বছরজুড়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩,০৬৬ জন। এর মধ্যে ছাড়া পেয়েছেন ৭৯,৪৬০ জন, এবং ৩২৬ জন মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ নয়—এটা এখন সারাবছরই দেখা দিচ্ছে। অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, “বৃষ্টি শুরু হলেই রোগ বাড়ে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী মনে করেন, “শুধু জরিমানা বা প্রচারণা দিয়ে হবে না। সঠিক জরিপ, দক্ষ জনবল এবং পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে ৩,২১,১৭৯ জন আক্রান্ত এবং ১,৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।












