অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৪ জন। শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৬ জনে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে
আমাদের Google News ফলো করুন
এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য
WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনে। এ ছাড়া একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। ফলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ২৯৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ২ হাজার ৩৯৪ জন।
প্রায় পাঁচ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি: বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা।
ইতালিতে কাজ করতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বা আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা বিদেশি কর্মীরা প্রচলিত বার্ষিক কর্মী নিয়োগ কোটার বাইরে ইতালিতে কাজের জন্য প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতালীয় ভাষা, দেশটির সমাজ ও আইন সম্পর্কে ধারণা এবং নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আগ্রহীদের ইতালির শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইতালি। দেশটির সরকারি কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এই সংখ্যা শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত মোট কোটা।
তিন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী নেবে ইতালি
আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে
আমাদের Google News ফলো করুন
এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য
WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৮ মেয়াদে বিদেশি কর্মী প্রবেশের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে- ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৮ সালে: ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন।
এই নিয়োগের আওতায় কৃষি, পর্যটন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, নির্মাণ, পরিবহনসহ বিভিন্ন উৎপাদন ও সেবামূলক খাতের কর্মীদের সুযোগ রয়েছে। নিয়োগের একটি বড় অংশ মৌসুমি এবং অন্য অংশ অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নির্ধারিত।
এই কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম ইতালিতে ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ নামে পরিচিত। প্রচলিত ব্যবস্থায় ইতালির নিয়োগকর্তাকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে কর্মীর জন্য কাজের অনুমতিপত্র বা ‘নুল্লা ওস্তা’ দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন করেন।
আর্টিকেল ২৩: প্রচলিত কোটার বাইরে যাওয়ার সুযোগ
ইতালির অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বিদেশে পেশাগত ও নাগরিক-ভাষাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রকল্প সম্পন্নকারীরা প্রচলিত দেক্রেতো ফ্লুসি কোটার বাইরে কাজের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।
এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ইতালির যেসব খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেসব খাতের জন্য বিদেশেই দক্ষ কর্মী তৈরি করা। এতে কর্মীরা ইতালিতে যাওয়ার আগেই ভাষা, কাজের দক্ষতা ও দেশটির সামাজিক নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা পান।
ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রকল্প অবশ্যই অনুমোদিত হতে হবে। প্রকল্পের প্রস্তাব নির্ধারিত সরকারি প্ল্যাটফর্মে জমা দেওয়ার পর আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি তা যাচাই ও মূল্যায়ন করে। শুধু কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রশিক্ষণ সনদ থাকলেই আর্টিকেল ২৩-এর সুবিধা পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
ঢাকায় ইতালীয় দূতাবাসের উদ্যোগে ৩ নভেম্বর ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ইতালি ও বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইতালীয় দূতাবাসের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় ইতালীয় বেসরকারি খাতের উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। অনুষ্ঠানে এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও আলোচনা করছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)।
প্রশিক্ষণ প্রকল্প পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে ‘ফ্রন্তিয়েরে স্কিলস’ এবং ‘ফরমাত’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রকল্পের মধ্যে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা খাতের কাজ এবং বস্ত্রশিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের ইতালীয় ভাষা, নাগরিক শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট পেশার দক্ষতা শেখানো হচ্ছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রশিক্ষণ প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ফি নেওয়া হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করবে। আগ্রহীদের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আবেদন করা নিষিদ্ধ বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
প্রশিক্ষণ নিলেই কি ইতালি যাওয়া নিশ্চিত?
না। এ বিষয়টি আগ্রহীদের বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। অনুমোদিত প্রশিক্ষণ শেষ করলেই ইতালির ভিসা বা চাকরি নিশ্চিত হয় না।
প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ইতালির কোনো নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে চাকরির জন্য নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিয়োগকর্তা ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আলি’ পোর্টালে কর্মীর নামে কাজের অনুমতিপত্র বা ‘নুল্লা ওস্তা’র আবেদন করবেন।
ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন দপ্তর সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে কাজের অনুমতিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। তবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের আবেদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা বা ব্যতিক্রমী নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
নুল্লা ওস্তা পাওয়ার পর কর্মীকে ইতালীয় দূতাবাসে কাজের ভিসার আবেদন করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে ভিসার আবেদন করার বিধান রয়েছে। ইতালির কূটনৈতিক মিশন সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির কথা বলেছে। তবে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দূতাবাসের।
অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ, নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব, কাজের অনুমতি এবং ভিসা, প্রতিটি ধাপ আলাদা। কোনো একটি ধাপ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত হয়ে যায় না।
ইতালিতে পৌঁছানোর পর কী করতে হবে?
কাজের ভিসা নিয়ে ইতালিতে প্রবেশের পর কর্মীকে নির্ধারিত নিয়মে বসবাসের অনুমতিপত্র বা ‘পারমেসো দি সোজ্জর্নো’র জন্য আবেদন করতে হবে। ইতালির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত প্রবেশের আট দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে নির্ধারিত চুক্তিও সম্পন্ন করতে হবে।
ইতালিতে কাজের প্রস্তুতি হিসেবে ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
বসবাসের অনুমতিপত্রের মেয়াদ চাকরির চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করে। বৈধভাবে দীর্ঘদিন বসবাসের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বৈধ বসবাস, আয়, বাসস্থান ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।
দালালের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
ইতালিতে কাজের সুযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে আয়োজকদের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, কিছু দালাল ইতালির ভিসা ও চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার নামে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দাবি করে। ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে প্রতারিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ হলো, প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অনুমোদন যাচাই না করে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যাবে না। কেউ আর্টিকেল ২৩-এর নামে চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত করার দাবি করলে সতর্ক হতে হবে। প্রশিক্ষণ প্রকল্পে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি এবং ইতালির দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করতে হবে।
ইতালীয় দূতাবাসের অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়েছে, আর্টিকেল ২৩-এর প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সংখ্যা ও আসন সীমিত। তাই সবাইকে প্রশিক্ষণে নেওয়া বা ইতালিতে পাঠানো সম্ভব হবে না। নির্বাচিত না হলে অপেক্ষা করা বা দেশে থেকেই দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগ্রহীদের এখন কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
যারা বাংলাদেশ থেকে ইতালি বা ইউরোপের অন্য দেশে কাজ করতে যেতে চান, তাদের জন্য ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন এখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ইতালির ক্ষেত্রে আগ্রহীরা কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে, তা হলো- ১. ইতালীয় ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করা। ২. হোটেল, রেস্তোরাঁ, কৃষি, নির্মাণ বা বস্ত্রশিল্পের মতো কোনো নির্দিষ্ট খাতে বাস্তব দক্ষতা অর্জন করা। ৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ সনদ, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখা। ৪. আর্টিকেল ২৩-এর অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা। ৫. ইতালির দূতাবাস, বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সরকারি অভিবাসন-সংক্রান্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা।
ইতালিতে বৈধভাবে কাজ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা ও দক্ষতার পাশাপাশি সঠিক তথ্য জানা এবং ধৈর্য ধরে প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি। নতুন এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাবনার একটি পথ তৈরি করেছে। তবে সুযোগটি সীমিত এবং প্রতিযোগিতামূলক। তাই কোনো দালালের কথায় বড় অঙ্কের টাকা না দিয়ে সরকারি অনুমোদন ও নিয়োগের প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়াই নিরাপদ।
| তথ্যসূত্র: ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইতালীয় দূতাবাস ঢাকা, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ মনিটর।
মুসলিমবান্ধব পর্যটনের বৈশ্বিক গন্তব্য হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ পিএম
মুসলিমবান্ধব পর্যটনের আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য। এ লক্ষ্য সামনে রেখে রাজ্যটিতে শুরু হয়েছে পঞ্চম বিশ্ব ইসলামিক পর্যটন সম্মেলন (ডব্লিউআইটিসি) ২০২৬। বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশ থেকে দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, পর্যটন উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং পর্যটন অর্থনীতির বিকাশের পথ তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পাহাংয়ের কুয়ানতানে জেনিথ হোটেলে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি) সম্মেলনটির আয়োজন করেছে। এতে আনুষ্ঠানিক সহযোগী ও আয়োজক হিসেবে রয়েছে পাহাং রাজ্য সরকার।
সম্মেলনে পাহাং রাজ্যের কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, জীবপ্রযুক্তি ও শিক্ষা বিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী ইর হাজি মোহাম্মদ সোফি তান শ্রী আবদুল রাজাক বলেন, এ আয়োজন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাহাংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পর্যটন খাতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
পাহাংয়ে পর্যটনের পাশাপাশি কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতের উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় উদ্যোক্তা, হোমস্টে পরিচালনাকারী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের অংশীদার করতে হবে।
আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে
আমাদের Google News ফলো করুন
এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য
WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের ‘পাহাং ফার্স্ট’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজ্যের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রতিটি পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নে এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী দাতো শ্রী দিরাজা হাজি ওয়ান রোজদি ওয়ান ইসমাইলের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ সোফি। এ সময় তিনি মুসলিমবান্ধব পর্যটন খাতের বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার, ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার, পর্যটনশিল্পের উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।
‘সীমান্তের ঊর্ধ্বে বিশ্বাস ও পরিবার’ (ফেইথ অ্যান্ড ফ্যামিলি বিয়ন্ড বর্ডার্স) প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে বলা হয়, পর্যটন কেবল কোনো স্থানে ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচিতি এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৫ ও ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা নিয়ে ১৩টি আলোচনাপর্ব রাখা হয়েছে। এতে নতুন পর্যটনবাজার, ওমরাহর ভবিষ্যৎ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), হালাল খাদ্যসংস্কৃতি, ইসলামি ঐতিহ্য এবং মুসলিমবান্ধব পর্যটন স্বীকৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে।
সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, মুসলিমবান্ধব পর্যটনশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিসর বাড়াতে চারটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময়। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে পাহাং পর্যটন বিভাগ এবং কিংস পার্ক গেন্টিং হাইল্যান্ডসের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্য হচ্ছে পাহাংয়ের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গেন্টিং হাইল্যান্ডসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা।
অন্যদিকে, ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার, কিংস পার্ক গেন্টিং হাইল্যান্ডস এবং রিতা সিনার্জি হোল্ডিংস এসডিএন বিএইচডির মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় গেন্টিং হাইল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক মানের উন্নত মুসলিমবান্ধব পর্যটন পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া কানাডাভিত্তিক হালালি অ্যাপ লিমিটেডের সঙ্গে ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টারের চুক্তিতে ডিজিটাল সমন্বয় ও বৈশ্বিক প্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। চীনের হালাল সার্টিফিকেশন সার্ভিসেস (চংকিং) কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে অপর সমঝোতায় মুসলিমবান্ধব নিশ্চয়তা স্বীকৃতি কর্মসূচি (এমএফএআর) বাস্তবায়ন এবং চীনে সংশ্লিষ্ট খাতের সক্ষমতা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার পর্যটনবিষয়ক উপসচিব চুয়া চুন হোয়া, পাহাং রাজ্যের ঐক্য, পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান লিওং ইউ মান, পাহাংয়ের ওরাং কায়া ইন্দেরা পাহলাওয়ান দাতো শ্রী হাজি ওয়ান আবদুল ওয়াহিদ ওয়ান হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে পাহাংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে মুসলিমবান্ধব পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক বাংলাদেশিসহ ৯ দেশের ১০৭ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গত ৪ নভেম্বর কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ ব্যবহার করে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যাবাসন করা ১০৭ জনের মধ্যে ৮৫ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী, দুটি ছেলে শিশু ও দুটি মেয়ে শিশু রয়েছে। তারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও ম্যাকাওয়ের নাগরিক।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিজ নিজ দেশে পাঠানোর আগে এসব অভিবাসীকে কেদাহ রাজ্যের সিক এলাকার বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। তাদের প্রত্যাবাসনের যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের পরিবারের সদস্য ও নিয়োগকর্তারা বহন করেছেন।
আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে
আমাদের Google News ফলো করুন
এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য
WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) এবং ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে এসব বিদেশি নাগরিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। নির্ধারিত সাজা ভোগের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে, পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ ঠেকাতে প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেকের নাম দেশটির অভিবাসন বিভাগের কালোতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
কেদাহ রাজ্যের অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ প্রত্যাবাসন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, আটক এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে ৯ দেশের ১৮২ জন আটক বিদেশি নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ছিলেন বাংলাদেশি।