শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনে নতুন টানাপোড়েন: আগের তিন নির্বাচনে ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টদের’ও নেয়া হবে না

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৮ পিএম
নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনে নতুন টানাপোড়েন:  আগের তিন নির্বাচনে ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টদের’ও নেয়া হবে না

ফাইল ছবি।

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছে, গত তিনটি নির্বাচনে যারা ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা’ বা ‘ন্যূনতম অংশগ্রহণ’ করেছিলেন, তাদের কাউকেই আগামী নির্বাচনে কোনো ধরনের দায়িত্বে রাখা হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঢালাও ও বাছবিচারহীন। এতে আমলাতন্ত্রে অনিশ্চয়তা ও বিভাজন তৈরি হতে পারে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ‘সর্বজনীন অনাস্থা’ কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমিয়ে দেবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা বাড়াবে।

সাবেক যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার বলেন, “যারা বিতর্কিত ছিলেন বা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, তাদের বাদ দেওয়াই উচিত। কিন্তু সবাইকে একসাথে অযোগ্য ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত নয়। তাহলে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে কারা?” অন্যদিকে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা রাজনৈতিক চাপে থাকেন। তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢালাওভাবে সবাইকে অযোগ্য বলা হলে নিরীহ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং প্রশাসনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।” নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “যারা বিতর্কিত বা পক্ষপাতমূলক হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তারা বাদ পড়বেন—এটা নিশ্চিত। তবে সেটি নির্ধারিত হবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।” প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগে কঠোর মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “যেসব কর্মকর্তা গত তিন নির্বাচনে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন, তাদের কোনো দায়িত্বে রাখা হবে না। যাচাইয়ের সময় তাদের এসিআর, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, কর্মদক্ষতা ও পূর্বের পোস্টিং বিশ্লেষণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “ডিসি, এডিসি, ইউএনও এবং যারা পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নতুন নির্বাচনে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় কাজ শুরু হয়েছে।” বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ আমলের ডিসি ও এসপি নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, “অতীতের সব কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যারা রাজনৈতিক চাপে অন্যায় করেছেন, তাদের এখন গণতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।” তবে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে ‘বাধ্যতামূলক ও সময়োপযোগী’ বলে সমর্থন জানিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ রিটার্নিং অফিসার, যিনি পুরো জেলার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। সাধারণত জেলা প্রশাসক বা উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই পদে থাকেন। তাদের অধীনে কাজ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও), যারা সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা নির্বাচনের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এদের মধ্যে অনেকেই সরকারি স্কুল, কলেজ বা ব্যাংকের কর্মকর্তা। ফলে গত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের একসাথে বাদ দিলে নতুন জনবল খুঁজে পাওয়া প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের এমন অস্থিরতা ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের উচিত হবে পরিষ্কার মানদণ্ড ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের বাছাই করা।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, “যদি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠীকে সরিয়ে আরেক গোষ্ঠীকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা আমলাতন্ত্রে নতুন বিভাজন তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে।” বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৯টি ভোটকক্ষ থাকবে। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের পাশাপাশি পুলিশ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীও নির্ধারিত ভূমিকা পালন করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা’ থাকা কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়িত হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক