শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হ্যালোইনের রহস্যময় রাত: যখন জীবিত আর মৃতের জগত এক হয়ে যায়

নাজমুস শাহরিয়ার প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০২ এম
হ্যালোইনের রহস্যময় রাত: যখন জীবিত আর মৃতের জগত এক হয়ে যায়

হ্যালোইন উৎসবের ছবিটি এআই দিয়ে করা।

অক্টোবর মাসের  শেষ রাত মানেই রহস্য, আলো আর মুখোশের উৎসব—হ্যালোইন।

চলতি বছর, হ্যালোইন উদযাপিত শুরু হয়েছে ৩১ অক্টোবর শুক্রবার, বিশ্বের নানা প্রান্তে। ইউরোপ থেকে আমেরিকা—সব জায়গায় এখনই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। কুমড়ো কেটে বানানো ভুতুড়ে মুখ, রাস্তায় সাজসজ্জা, পার্টি আর ছোটদের জন্য ক্যান্ডিতে ভরা রাতের আয়োজন চলছে জোরকদমে।

এই দিন শিশুরা অপেক্ষা করছে সেই এক মুহূর্তের জন্য—যখন মুখোশ পরে রাস্তায় নামবে, দরজায় কড়া নেড়ে বলবে, “Trick or Treat!”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ভয় আর আনন্দে মিশে থাকা এই উৎসব আজ রঙিন আনন্দের প্রতীক হলেও, এর শিকড় ছড়িয়ে আছে এক গভীর, প্রাচীন ইতিহাসে।

যেখানে শুরু হয়েছিল সবকিছু:

হ্যালোইনের জন্ম প্রায় দুই হাজার বছর আগে ইউরোপের কেল্টিক জাতির মানুষদের কাছে। তারা বিশ্বাস করত, ৩১ অক্টোবর হলো বছরের শেষ রাত—গ্রীষ্মের সমাপ্তি আর শীতের শুরু। সেই রাতে নাকি জীবিত ও মৃতদের জগতের সীমানা মুছে যায়।

তাদের ভাষায় এ রাতের নাম ছিল Samhain (সাও-ইন)।

বিশ্বাস ছিল, এই রাতে মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে—প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে, কিংবা কোনো অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে।

এই আত্মাদের ভয়েই মানুষ জ্বালাত আগুন, মাথায় পরত পশুর খুলি, মুখোশে ঢাকত মুখ—যাতে আত্মারা তাদের চিনতে না পারে।

আগুনের আলো, মুখোশের ছায়া আর ঠান্ডা বাতাসে জন্ম নেয় হ্যালোইনের প্রথম ভয়।

রোমানদের ছোঁয়া:

পরে যখন রোমান সাম্রাজ্য কেল্টিক অঞ্চল দখল করে, তাদের কিছু উৎসবও Samhain-এর সঙ্গে মিশে যায়।

তাদের একটি উৎসব ছিল Feralia, যেখানে মৃত আত্মাদের সম্মান জানানো হতো।

আরেকটি ছিল Pomona, ফল ও ফসলের দেবীর নামে আয়োজিত উৎসব।

এই দুই উৎসবের মিশ্রণে হ্যালোইনের মধ্যে যোগ হয় ফসল কাটার আনন্দ, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং মৃত্যুর স্মরণ—একই রাতে ভয় আর জীবনের মিলন।

চার্চের নতুন নাম:

খ্রিস্টান ধর্ম ছড়িয়ে পড়লে চার্চ চায় এই পৌত্তলিক উৎসবকে ধর্মীয় কাঠামোয় আনতে।

তাই ১ নভেম্বর নির্ধারিত হয় All Saints’ Day বা All Hallows’ Day নামে, আর তার আগের রাত—৩১ অক্টোবর—পরিচিত হয় All Hallows’ Eve হিসেবে।

সময়ের সঙ্গে “All Hallows’ Eve” ছোট হয়ে দাঁড়ায় Halloween।

এভাবেই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত এক পৌত্তলিক বিশ্বাস ধীরে ধীরে রূপ নেয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে।

আমেরিকায় নতুন রূপ:

ইউরোপের অভিবাসীরা যখন আমেরিকায় যায়, তারা সঙ্গে করে নিয়ে যায় এই ঐতিহ্য।

সেখানে হ্যালোইন বদলে যায় রঙে ও মেজাজে—ভয়ের বদলে আসে মজা আর সাজগোজ।

শিশুরা মুখোশ পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বলে “Trick or Treat!”,

মানুষ কুমড়ো কেটে বানায় ভুতুড়ে মুখওয়ালা Jack-o’-Lantern,

আর অক্টোবরের শেষ রাত ভরে ওঠে আলো, হাসি ও রহস্যে।

ভয় থেকে আনন্দে:

আজ হ্যালোইন শুধু ভয় বা অন্ধকারের প্রতীক নয়—এটা এখন এক উৎসব, যেখানে মানুষ জীবনের প্রতিটি রূপকে উদযাপন করে।

কেউ ভয় পেতে চায়, কেউ আবার হাসির ছলে ভয়কে আলিঙ্গন করে।

কিন্তু এই রাতের গভীরে এখনো লুকিয়ে আছে সেই প্রাচীন বিশ্বাস—এক রাত, যখন জীবিত আর মৃতদের জগত মিশে যায়।

যে রাত মনে করিয়ে দেয়—ভয়ও হতে পারে আনন্দের এক অনন্য ভাষা।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক