শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্ঞানের কাবা-খ্যাত আল-আজহার মসজিদ

আফছার হোসাইন প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:২৭ পিএম
জ্ঞানের কাবা-খ্যাত আল-আজহার মসজিদ

আল আজহার মসজিদ প্রাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ছবি- আফছার হোসাইন।

‘হাজারো মিনারের শহর’ কায়রোর প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে আল-আজহার মসজিদ। এই মসজিদকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে বিশ্ববিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। ৯৭২ সালের ২৩ জুন এখানে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ৪ এপ্রিল, ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ লিদিনাল্লাহর শাসনামলে। শুরুতে এটি শুধু মসজিদ হিসেবে পরিচিত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ধর্মীয় শিক্ষার আসরে পরিণত হয়। ৯৮৯ সালে এখানে ৩৫ জন আলেম নিয়োগ করা হয়, যারা স্থানীয়দের কোরআন-হাদিস শিক্ষা দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে এটি মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়—যা বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

নামকরণের ইতিহাস:

কায়রোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গ্রিক বংশোদ্ভূত ফাতেমীয় সেনাপতি জওহর আল-সিকিলি, যিনি সিসিলি থেকে এসে শহরটির নাম দেন ‘আল-মানসুরিয়া’। সেই সময় মসজিদটি পরিচিত ছিল ‘জামে আল-মানসুরিয়া’ নামে। পরে খলিফা আল-মুইজ শহরের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘আল-কাহিরা’ বা কায়রো। ফলে মসজিদটির নামও হয় ‘জামে আল-কাহিরা’।

 

বর্তমান নাম ‘আল-আজহার’ দেওয়া হয় দ্বিতীয় ফাতেমীয় খলিফা আল-আজিজ বিল্লাহর শাসনামলে। ‘আজহার’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘আজ-জাহরা’ থেকে, যার অর্থ উজ্জ্বল নক্ষত্র। এটি ছিল হযরত ফাতেমা (রা.)-এর উপাধি। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মসজিদটির নামকরণ করা হয় আল-আজহার।

জ্ঞান ও সংস্কারের দীর্ঘ ইতিহাস:

এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে আল-আজহার কখনো গুরুত্ব পেয়েছে, আবার কখনো উপেক্ষিতও হয়েছে। বিভিন্ন সময় আলেমদের ওপর আরোপিত সরকারি বিধিনিষেধ কেউ মেনে নিয়েছেন, আবার কেউ বিদ্রোহ করেছেন। ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে প্রথম গ্রন্থাগার স্থাপিত হয় এবং ১৯৩০ সালে চালু হয় নিজস্ব ছাপাখানা।

১৯৫২ সালে মিশরের রাজতন্ত্র উৎখাতের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও মসজিদকে আলাদা করা হয়। ১৯৬১ সালের নতুন আইনে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আল-আজহার: বিদ্যার বাতিঘর:

ইতিহাসে অসংখ্য মনীষী আল-আজহার থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানি, ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ুতি, ইমাম বদরুদ্দীন আইনি, ইমাম কুস্তলানি, ইমাম দাকিক ইবনে ঈদ, ইমাম ত্বহাবীর মতো বিশ্ববিখ্যাত আলেম এই প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এর বাইরে মুসলিম বিশ্বের অনেক গ্র্যান্ড মুফতি, রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ ধর্মীয় নেতার শিক্ষাজীবনও শুরু হয়েছিল এখানেই।

মামলুক যুগে এবং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়।

বর্তমানে আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম ও শাইখুল আজহার হলেন ড. আহমাদ আত-তাইয়্যেব। তাঁর নেতৃত্বে আল-আজহার ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী, যাদের পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ৫০ হাজার শিক্ষক।

শুধু মিশর নয়, পুরো বিশ্বেই আল-আজহার ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনার জন্য আসেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের আনুমানিক চার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রেখে চলেছেন।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক