ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর গ্রামবাসীর হামলা, আহত ৩ সদস্য, গ্রেপ্তার ৯
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে বাহিনীর অন্তত তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় বিএসএফের একটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিন নারীসহ অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন সিপাহীজলা জেলার আশাবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সোমবার চোরাচালানের সন্দেহে বিএসএফ সদস্যরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে আটক করে নির্যাতন করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাঁকে মারধর করা হয়। এতে ওই ব্যক্তির পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সদস্য গাড়ি নিয়ে অবরোধস্থলে পৌঁছান। তখন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত তিন বিএসএফ সদস্য আহত হন। একই সঙ্গে তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।
পরে আহত সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই কালামচৌড়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আরও অন্তত ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি প্রিন্সি রানীসহ জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে আশাবাড়ি গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিআইএম নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরীও হামলার সমালোচনা করেছেন। তবে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার তদন্ত চলছে।







