বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মহাকাশ থেকে ভোট দিলেন তিন মার্কিন নভোচারী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
মহাকাশ থেকে ভোট দিলেন তিন মার্কিন নভোচারী

ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সাধারণত ভোটকেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। তবে মহাকাশচারীদের ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন ব্যবস্থা। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থান করেও ভোট দিতে পারেন তাঁরা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মহাকাশ থেকেই ভোট দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার নভোচারী অনিল মেননসহ তিন মার্কিন মহাকাশচারী।

সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাঁদের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। মহাকাশ স্টেশনে বসে সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক ব্যালট পূরণ করে তা পৃথিবীতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান তাঁরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যতিক্রমী ভোটদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অনিল মেনন। এতে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশ স্টেশনে নিজের ক্রু কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন মেনন। সেদিন তাঁর ওই কক্ষটিই সাময়িকভাবে ভোটকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ভিডিওতে অনিল মেনন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ভোট দিচ্ছেন। এ সময় ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সংক্ষেপে তুলে ধরেন এই নভোচারী।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি মহাকাশ থেকেও ভোট দিতে পারেন! মহাকাশ স্টেশনের তিনজন মার্কিন ক্রু সদস্যই ভোট দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। আমরা একটি ইলেকট্রনিক ব্যালট পূরণ করে তা নিরাপদে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

মহাকাশে অবস্থান করেও ভোট দেওয়ার জন্য নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরে আসতে হয়নি। নাসার সুরক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে পুরো প্রক্রিয়া।

প্রথমে মহাকাশচারীদের কাছে পাঠানো হয় নিরাপদ ইলেকট্রনিক ব্যালট। এরপর মহাকাশ স্টেশনের ল্যাপটপ ব্যবহার করে তাঁরা পছন্দের প্রার্থী কিংবা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ভোট দেওয়া শেষ হলে পূরণ করা ব্যালট নাসার সুরক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন।

এই ব্যবস্থার ফলে পৃথিবী থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে থেকেও মহাকাশচারীরা নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের কারণে যাতে তাঁরা কোনো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলেন, সে লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে এই পদ্ধতি।

মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। নভোচারীদের প্রযুক্তিনির্ভর এই ভোটদান পদ্ধতি দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে মজার মন্তব্যও করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, তিনজন নভোচারী মহাকাশ থেকে ভোট দিয়েছেন। অথচ তিনি মাত্র তিন ফুট দূরে থাকা ল্যাপটপের সঙ্গে প্রিন্টার সংযোগ করতে গিয়ে ৪০ মিনিট সময় ব্যয় করেছেন। তাঁর মতে, নাসার প্রযুক্তি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, মহাকাশ থেকে দেওয়া এই ভোটই হয়তো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান থেকে পাওয়া ‘আই ভোটেড’ স্টিকার। অন্য একজন জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার এমন ব্যবস্থা রয়েছে, তা তাঁর জানা ছিল না। বিষয়টিকে তিনি দারুণ বলেও উল্লেখ করেছেন।

তবে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। নাসার এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু হয়েছে ১৯৯৭ সাল থেকে। ওই বছর টেক্সাসের আইনসভা মহাকাশচারীদের মহাকাশে অবস্থান করেও ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে একটি বিল পাস করে।

এরপর একই বছর নাসার নভোচারী ডেভিড উলফ রাশিয়ার মির মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে কক্ষপথ থেকে ভোট দেন। মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়া প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিত তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা যেন নিজ দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াও এখন আরও সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেও নাগরিক অধিকার প্রয়োগের এই সুযোগ মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

 

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় তিন বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ১৬৮ আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় তিন বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ১৬৮ আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) কর্মসংস্থান ও অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তিনটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ। কৃষি খাত, ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ‘অপ হিজাউ’, ‘অপ জাজা’ ও ‘অপ বেলাঞ্জা’ নামে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন ইসমাইল নাসুশন জানান, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি ও অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধে সরকার নিয়মিতভাবে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অপ হিজাউ’ অভিযানের আওতায় কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ফসলের খামার, পশুপালন কেন্দ্র ও নার্সারিতে নজরদারি করা হচ্ছে। ‘অপ জাজা’ অভিযানে রাতের বাজার, কৃষিপণ্যের বাজার, পাইকারি বাজার, ফলের দোকান এবং সড়কের পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘অপ বেলাঞ্জা’ অভিযানের আওতায় সুপারমার্কেট, মুদি দোকান, আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সংসদে লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। বিরোধী জোটের জারলুন আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল গনি আহমদের মালয়েশিয়ার কৃষি, খামার ও মুদি দোকান পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি নাগরিক এবং অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন বিশেষ অভিযানে মোট ২ হাজার ৬৪৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে ১৯ হাজার ১৯২ জনকে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৬৮ জন অবৈধ অভিবাসী এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৯৯ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি, তল্লাশি ও আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিবাসন বিভাগের পরিদর্শন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে এ ধরনের ১১ হাজার ৭৯০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অভিবাসন আইন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ৬৮৫টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্থানে সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ এবং বিদেশি নাগরিকদের বেআইনিভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দেশজুড়ে ধারাবাহিক, কার্যকর ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসী কর্মী নিয়োগে যৌথ নজরদারির উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসী কর্মী নিয়োগে যৌথ নজরদারির উদ্যোগ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে অভিবাসন ব্যবস্থায় যৌথ পরিদর্শন ও নজরদারি চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) ফাঁকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও ন্যায্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে যৌথ পরিদর্শন ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে শ্রমিক অভিবাসনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্রুত একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সফরের অংশ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম শিগগিরই ঢাকা সফর করবেন।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (আসিয়ান) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের আশ্বাস দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টায়ও মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে যৌথ পরিদর্শন ও নজরদারির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ১৮২ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২০ পিএম
বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ১৮২ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন

মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক অভিবাসী (বিদেশি) নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপো থেকে ৯টি দেশের মোট ১৮২ জন আটক ব্যক্তিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ১৮২ জনের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার ৮৫ জন, বাংলাদেশের ৪৫ জন, মিয়ানমারের ২৫ জন, পাকিস্তানের ১৫ জন, ভারতের ৩ জন, থাইল্যান্ডের ৩ জন, কম্বোডিয়ার ৩ জন, শ্রীলঙ্কার ২ জন এবং চীনের ১ জন নাগরিক।

অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ ব্যবহার করে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশের বৈধ পাসপোর্ট ছিল। তবে যাঁদের পাসপোর্ট ছিল না, তাঁদের কয়েকজনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরি ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দেওয়া হয়। এসব নথির ভিত্তিতে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিভাগটি আরও জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো প্রত্যেক ব্যক্তির নাম অভিবাসন বিভাগের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনুযায়ী তাঁরা কোনো উদ্দেশ্যেই পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

এদিকে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে বিশেষ সেবাকেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। সেখান থেকে দেশে ফেরার বিমান টিকিট কেনাসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো ধরনের সেবামূল্য বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোর রেকর্ড ও প্রত্যাবাসন ইউনিটের ০৭-৬৯৯৩৫৪০ নম্বরে যোগাযোগ অথবা অনলাইন অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।

উল্লেখ্য, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ফেরত পাঠানো ১৮২ জনের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৪৫, যা মোট প্রত্যাবাসিত ব্যক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক