প্রবাসীরা দেশের সম্পদ
কিশোরগঞ্জে প্রবাসীদের অনন্য সংবর্ধনা: প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি”’
পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে আর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হাজার হাজার মাইল দূরে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও নিঃসঙ্গতার জীবন বেছে নেওয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ব্যতিক্রমী এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘কিশোরগঞ্জ জেলা প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে ছুটি কাটাতে দেশে আসা বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীরা অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগ, গর্ব ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য আবহ। বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে প্রবাসীদের নিরলস সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অসামান্য অবদানের কথা। কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাবেদ রহিমের সভাপতিত্বে এবং প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, মালদ্বীপ প্রবাসী ও এইচ আর ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান মো. হাদি ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ হিরন ভুঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সৌদি আরব প্রবাসী মো. রমজানুল কারিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ মো. আশরাফ উদ্দিন দুলাল ও ইনস্ট্রাক্টর মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রবাস জীবনের নানা অনুভূতির কথা তুলে ধরেন দুবাই প্রবাসী নয়ন ভূঁইয়া, সোহেল রানা, আশরাফুল আলম ও সৌদি প্রবাসী ফারুকসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, “প্রবাস জীবনের প্রতিটি দিনই সংগ্রামের। প্রতিটি অর্জনের পেছনে থাকে অসংখ্য ত্যাগ আর স্বজনদের থেকে দূরে থাকার বেদনাময় গল্প। দেশের মাটিতে এমন স্বীকৃতি আমাদের সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে থাকে অগণিত ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের গল্প। সেই নীরব সংগ্রামই দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করছে এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করছে।
তাই প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী নন,তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং উন্নয়নের অকৃত্রিম অংশীদার। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত ১৫ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের ত্যাগের এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়ে প্রবাসীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও আবেগের এক অনন্য মিশেল।
আয়োজকরা জানান, দেশের জন্য নীরবে অবদান রেখে যাওয়া প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সমাজে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা সুদৃঢ় করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরতে এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।













