ব্রাইটনে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
যুক্তরাজ্যের ব্রাইটনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গত বুধবার দুপুর ১টায় ব্রাইটনের ‘পোসলেট স্পোর্টস সেন্টারে’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সুদূর প্রবাসে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ একত্রিত হন। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান: সাবেক মেয়র ও বর্তমান কাউন্সিলর (লেবার পার্টি), ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ সিটি কাউন্সিল। মোহাম্মদ শাহজাহান আহমেদ: সভাপতি, ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। মহিউজ্জামান মহী: বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা, লেখক ও সাংবাদিক। ইমদাদুন খান: সিনিয়র সহ-সভাপতি, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি।
এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন মিজানুর রহমান, তাপস ভূঁইয়া, কাকন, মলিন, সুপ্ত, পারভেজ, আরিফ ও শারমিন। আর সাবলীল উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তাপস ভূঁইয়া।
জমকালো সাংস্কৃতিক পর্বে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন যুক্তরাজ্যের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী দেলোয়ার হোসেন দিলু। এছাড়া আরও গান গেয়ে শোনান তাপস, সানোয়ার, শারমিন, আমিনা, শান্ত, শিউলি ও রায়হান শিকদার। বিশেষ করে, শিশুশিল্পী এমরিনের কণ্ঠে মাইকেল জ্যাকসনের একটি জনপ্রিয় গান উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।
গানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন মিজানুর রহমান ও জুয়েল আহমেদ। চমৎকার নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের হাততালি কুড়ান সোনাইরা ও সোবানা।
প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছোট-বড় সবার জন্য ছিল নানান প্রতিযোগিতার আয়োজন। শিশুদের ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে সোনাইরা, দ্বিতীয় আদিব ভূঁইয়া এবং তৃতীয় হয় আয়রা।
নারীদের জন্য আয়োজিত ‘মিউজিক্যাল পিলো’ প্রতিযোগিতায় প্রথম হন আফরোজা আক্তার শিমু, দ্বিতীয় রোমানা আফরিন আলি এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন শামিমা আক্তার পলি। অনুষ্ঠান শেষে আকর্ষণীয় রাফেল ড্র-এর বিজয়ীদের এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ঘরোয়া খাবারের স্বাদ-ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের আয়োজন ছিল উৎসবের অন্যতম মূল আকর্ষণ। প্রবাসীদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি লেম্ব বিরিয়ানি, চিকেন বিরিয়ানি, হালিম, চটপটি, হরেক রকমের কেক, মিষ্টান্ন ও ফলমূলসহ নানা পদের খাবার সবাই মিলে তৃপ্তি সহকারে উপভোগ করেন।
আয়োজকদের প্রতিক্রিয়,আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাখার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।










