শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন এবং এর পরপরই চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে মর্মে জানা গেছে। এটি নতুন সরকারের বৈদেশিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া-কে বেছে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি, লি কিয়াং এবং আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে তাদের মধ্যে প্রথম গন্তব্য হিসেবে তিনি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। ফলে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিবা প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য বেশ সম্মানের মনে করছে। তারা আশা করছেন এ সফরের মাধ্যমে জনাব রহমান মালয়েশিয়া সরকারের নিকট থেকে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দিবে। ব্যবসায়ীরা উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে মনে করেন। আর মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে ইচ্ছুক বাংলাদেশীদের প্রতিক্ষার অবসান হবে বলে তারা আশা করছেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার গুরুত্বপুর্ন মানবিক ইস্যুটির সমাধানে মালয়েশিয়ার সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে বলেও অনেকে আশা করছেন। সব সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মালয়েশিয়া মুসলিম বিশ্বের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিস ( ওআইসি) এবং ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য। ফলে এই সফর মুসলিম বিশ্ব ও আসিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীরে নেবার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বাংলাদেশ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উঠে আসা নানান অনিয়ম, দুর্নীতি , মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের ঋণে অবব্ধ হওয়া, কাজ না পাওয়া, ফোর্সড লেবার এবং মানব পাচারের মতো গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার ৩১ মে ২০২৪ তারিখ থেকে সাধারণ কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে। ফলে, বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার সাধারণ পর্যায়ের শ্রমবাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। জনাব রহমান এর নতুন সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলাপ করেছে। দেশে ফিরে তারা সাধারণ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বেশ আশার সঞ্চার করেছে।

সর্বশেষ মালয়েশিয়ার মানব মন্ত্রীর আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টার আলোচনার পর যৌথ প্রেস স্টেটমেন্টে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় , প্রতারণা , হয়রানি এবং আরও উন্নত ও সহজ সুরক্ষিত প্রযুক্তি প্রয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার নিকট জানতে চেয়েছিল যে, কোন শর্তের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে বেছে নেয় এবং কর্মী প্রেরণের অনুমতি দেয়। সে প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার ১০ টি শর্ত প্রদান করে এবং তৎকালীন সরকার শর্ত শিথিল করার অনুরোধ করলেও মালয়েশিয়া কোনো জবাব দেয় নি কিন্তু মালয়েশিয়ার জবাবের অপেক্ষা না করে নিজেদের মতো করে কয়েকটি শর্ত শিথিল করে ৪২৩ টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের নিকট প্রেরণ করে! বর্তমানে এই তালিকা করা নিয়েও নানান অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সবথেকে স্পর্শকাতর ইস্যু হলো মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ফলে মানব পাচার, অর্থ পাচার ও প্রতারণার মামলা হয়েছে বাংলাদেশের আদালতে, দুর্নীতি দমন কমিশনে এবং পুলিশের নিকট। মামলাগুলো আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরপর হলেও অদ্যাবধি কোনো সিদ্ধান্ত বা বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় মালয়েশিয়া অস্বস্তিকর অনুভূতি প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত আইনানুগ নিষ্পত্তি চেয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সভায় মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরে কর্মী ব্যবস্থাপনায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ সর্বশেষ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে নিয়োগ ও কর্মী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং হয়রানি ও প্রতারণা মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ১ কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে মালয়েশিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বন্ধ শ্রমবাজারে আগে প্রধান মন্ত্রীর সফর বেশ তাৎপর্য বহন করে। অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব কেবল পণ্য নয় শ্রম বিনিয়োগ বেশ গুরুত্বপুর্ন। এরফলে, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রগতি হবে। ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বাণিজ্য ভারসাম্য এখনো মালয়েশিয়ার পক্ষে ধনাত্মক।

বাংলাদেশ প্রধানত তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য, পাটজাত সামগ্রী ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি হয় পাম অয়েল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, ইস্পাত ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে একটি ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে। ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্ক সুবিধা কমে আসতে পারে। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এফটিএ কার্যকর হলে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমে যাবে, আসিয়ান অঞ্চলের বিশাল বাজারে প্রবেশ সহজ হবে, কৃষিপণ্য, হালাল পণ্য, পাটজাত সামগ্রী ও খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়বে, মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে তার উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি, বিমান চলাচল, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৭৭ সালের বাণিজ্য চুক্তি ছিল দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর। পরবর্তীতে সমুদ্র পরিবহন, কারিগরি সহযোগিতা এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিসহ আরও বেশ কয়েকটি সমঝোতা সম্পাদিত হয়।

মালয়েশিয়া সফরকে কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোকে দেখলে ভুল হবে। এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও জড়িত।

আসিয়ান এর সদস্য হতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এ সফরের ফলে সে প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে। শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশাকরা হচ্ছে।

পিতা ও মাতার দেখানো পথে মালয়েশিয়ার পথে পুত্র প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা কেবল একটি সৌজন্য রক্ষার সফর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক কৌশল এবং আঞ্চলিক অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক