শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইবেরীয় অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়

উদ্বেগজনক সঙ্কট বদলে দিচ্ছে স্পেন ও পর্তুগালের জীবনযাত্রা

মিরন নাজমুল, স্পেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ পিএম
উদ্বেগজনক সঙ্কট বদলে দিচ্ছে স্পেন ও পর্তুগালের জীবনযাত্রা

ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পর্তুগালের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।

এতে করে স্পেন ও পর্তুগালে ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশগত সংকট তৈরি হচ্ছে যা ভবিষ্যতে পুরো অঞ্চলটির প্রকৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে বদলে দিতে পারে।

উর্বর জমি ধীরে ধীরে শুকিয়ে গিয়ে অনুর্বর ও মরুভূমির মতো হয়ে উঠছে। এটি হঠাৎ করে ঘটে না; বরং দীর্ঘ সময় ধরে অদৃশ্যভাবে শুরু হয়। প্রথমে দেখা যায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছের সংখ্যা কমছে, বুনো ফুল হারিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত পশুচারণ, বন উজাড় এবং পানির অযৌক্তিক ব্যবহার।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মুরসিয়া, আলমেরিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলে ইতোমধ্যে আধা-শুষ্ক পরিবেশের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। একইভাবে, পর্তুগালের আলেন্তেজো অঞ্চলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের কারণে কৃষি ব্যবস্থা চাপে পড়েছে।

এই সংকটের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। আইবেরিয়ান উপদ্বীপ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ ও তীব্র গরম হয়ে উঠছে, আর শীতকাল ছোট ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং যখন বৃষ্টি হয়, তখন তা হঠাৎ ভারী বর্ষণ আকারে হয়, যা মাটিতে পানি সঞ্চয় করার বদলে দ্রুত বন্যা সৃষ্টি করে এবং মাটি ক্ষয় বাড়ায়। গত পঞ্চাশ বছরে স্পেনের কিছু অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, এবং পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টেগাস (তেজো) ও গুয়াডিয়ানা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলোর পানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, এবং মানুষের বাড়তি চাহিদা ও বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ছে।

কৃষি খাত, যা এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির ভিত্তি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অতিরিক্ত চাষাবাদ এবং পশুচারণের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেচের জন্য অতিরিক্ত পানি ব্যবহার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নামিয়ে দিচ্ছে। স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক গ্রিনহাউস কৃষির মাধ্যমে সারা বছর ইউরোপে সবজি সরবরাহ করা হলেও, এর জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাচ্ছে এবং সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঢুকে জমিকে অনুর্বর করে তুলছে। পর্তুগালের আলেন্তেজো অঞ্চলেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে অনেক কৃষক তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী টেকসই কৃষির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য একফসলি চাষ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও ক্ষতিকর।

মরুকরণের প্রভাব শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। গাছপালা ও ঘাসভূমি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। আইবেরিয়ান লিংক্স, ঈগলসহ অনেক প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানলও বাড়ছে। ২০১৭ সালে পর্তুগালে ভয়াবহ দাবানলে ১০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়, যা এই সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। স্পেনেও প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে দাবানল দেখা যায়। গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেলে মাটি পানি শোষণ করতে পারে না, ফলে বন্যা ও খরার একটি চক্র তৈরি হয় যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।

এই সংকট মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলছে। বহু প্রাচীন কৃষি পদ্ধতি ও গ্রামীণ জীবনধারা বিলুপ্তির পথে। গ্রামগুলোতে কাজের অভাব দেখা দেওয়ায় তরুণরা শহরমুখী হচ্ছে, ফলে গ্রামগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ছে। একসময় সবুজে ভরা ক্ষেত এখন অনাবাদি পড়ে আছে, আর পুরোনো বাড়িঘর ভেঙে পড়ছে। জমির সঙ্গে মানুষের যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্পেন ও পর্তুগালে বিজ্ঞানী, কৃষক ও নীতিনির্ধারকরা একসঙ্গে কাজ করছেন। আলমেরিয়ায় পুনর্ব্যবহৃত পানি ও আধুনিক সেচব্যবস্থা ব্যবহার করে পানির অপচয় কমানোর চেষ্টা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গাছ লাগানো ও উদ্ভিদ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। পর্তুগালে মন্টাডো নামে একটি ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে, যেখানে গাছ, পশুপালন ও চাষাবাদ একসঙ্গে করা হয়, যা পরিবেশের জন্য টেকসই। আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে, যেমন স্যাটেলাইট দিয়ে মাটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, ড্রিপ সেচ, সৌরশক্তিচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ এবং খরা সহনশীল ফসল।

এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা যায়, স্পেন ও পর্তুগাল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যেতে পারে। অন্যথায়, এই অঞ্চলগুলো ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে। মরুকরণ শুধু আফ্রিকা বা এশিয়ার সমস্যা নয়; এটি এখন ইউরোপের বাস্তবতা। তাই এখনই পানি ব্যবস্থাপনা, মাটি সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখার জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের পদক্ষেপের ওপর।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক