শিশুর বদলে যাওয়া আচরণ!
ঈদের সময় শিশুদের “দুইত রায়া” (duit Raya) পাওয়ার আনন্দ একসময় টাকার পরিমাণে নয়, বরং ছোট ছোট খুশির মুহূর্তে ভরপুর ছিল। এমনকি মাত্র ১ রিঙ্গিত পেলেও সেটাই ছিল আনন্দের কারণ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে তাদের মানসিকতা ও আচরণ।
এক Threads পোস্টে @mhd.fnnnn নামে এক ব্যবহারকারী তার পরিবারের রায়া ওপেন হাউসে ঘটে যাওয়া একটি বিস্ময়কর ঘটনার কথা শেয়ার করেন।
তিনি জানান, কিছু অচেনা অতিথি তার বাড়িতে রায়া উপলক্ষে এসেছিল। তিনি শিশুদের প্রত্যেককে ২ রিঙ্গিত করে দেন। কিন্তু একটি শিশু সেই ২ রঙ্গিত ফেরত দিয়ে আরও ১ রিঙ্গিত যোগ করে বলে, “এই নিন, পুরো একটা প্যাকেট বানান।”
এই আচরণে তিনি বিস্মিত ও হতবাক হয়ে পড়েন। তার মতে, এটি শুধু অশোভনই নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের পরিবর্তিত মানসিকতারও ইঙ্গিত দেয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন আজকাল কি শিশুদের ৫ রিঙ্গিত বা ১০ রিঙ্গিত দেওয়াই স্বাভাবিক হয়ে গেছে?
এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু তারই নয়। নাদিয়া নামের আরেকজন জানান, রায়ার প্রথম দিনে শ্বশুরবাড়িতে ওপেন হাউসে কিছু শিশু আসে। তখন ঘরে বরফ না থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু এক শিশু বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে, “বরফ নেই? যাই হোক, আমরা শুধু দুইত রায়া নিতে এসেছি!”
শিশুটির এই রূঢ় আচরণে নাদিয়া বিস্মিত হয়ে জবাব দেন, “যদি শুধু দুইত রায়া নেওয়ার জন্য আসো, তাহলে দুঃখিত এই বাড়ি বন্ধ।”
এ বিষয়ে জাহিরাহ মন্তব্য করেন, বর্তমান সময়ে অনেক শিশু ৫ রিঙ্গিত বা ১০ রিঙ্গিত পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, ফলে ১ রিঙ্গিতের মতো ছোট নোট তাদের কাছে মূল্যহীন মনে হয়।
অন্যদিকে, অনিপে বলেন, শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে সন্তানদের আচরণ ও শিষ্টাচার শেখানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি অতীতের কথা স্মরণ করে বলেন, “আগে কারও বাড়িতে রায়ায় যাওয়ার আগে বাবা-মা আমাদের আচরণ শিখিয়ে দিতেন। সামান্য পানি ফেললেও ভয় পেতাম, অভদ্রতা তো দূরের কথা।”
এই ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় সময় বদলালেও শিষ্টাচার ও সম্মানবোধের শিক্ষা কখনো পুরোনো হয় না।












