শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্থানীয় নাগরিক ও বাংলাদেশিদের সম্মানে বিমাসের ইফতার

ইতালি প্রতিনিধি, প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
স্থানীয় নাগরিক ও বাংলাদেশিদের সম্মানে বিমাসের ইফতার

ইতালির রোমে ইতালিয়ান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে ইফতার ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) ২৫ রমজান ডমুস রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ ইমিগ্রান্টস এসোসিয়েশন (বিমাস) আয়োজিত বিশাল এ আয়োজনে ইতালির মূলধারার শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা,বাংলাদেশি রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দরা ইফতারে অংশ গ্রহণ করেন। প্রথমবারের মত ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠানে ইতালির রড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণ ছিল চমকপ্রদ বাংলা কমিউনিটিতে একই সঙ্গে সকল ধর্মাবলম্বীদের সহাবস্থানের তাগিদ দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।বিমাস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি  ড.মুক্তার হোসেন মার্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটি এম রকিবুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য এবং সাবেক ডেমোক্রেটিক দলের সচিব নিকোলা জিঙ্গারেত্তি,সিনেটর সিসিলিয়া ডি এলিয়া,রোম-১ এর সংসদ সদস্য পাওলো সিয়ানি, লাজিও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান আঞ্চলিক কাউন্সিলর মারিও সারলা,রোমের পাঁচ নং মিউনিসিপ্যালের সভাপতি মুরো কালিসতে।এছাড়াও ১৫ নম্বর মিউনিসিপ্যাল’র প্রেসিডেন্ট দানিয়েলে তরকুয়াতি, ডেমোক্রেটিক দলের রোম শাখার মহাসচিব এনঝো ফস্কি, রোম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এরিকা বাত্তালিয়া এবং বিশেষ দূত এমিলিয়ানো মন্তেভেরদে, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য সংস্থা (এফ এ ও (FAO) এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এবং গ্লোবাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নাফিস আহমেদ খান। উপস্থিত ছিলেন।এসময় বক্তারা রোজার তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন। তারা রোজার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,সিয়াম সাধনার একটি মাস মুসলিম উম্মাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ মাস আমাদের জন্য বিশেষ নেয়ামত। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের এক সেতুবন্ধনের মাস। তাই এই সংযমের মাসে সবাইকে সংযত থাকা প্রয়োজন। তারা বলেন,আজকে যে,তাৎপর্য ইতালীয়দের মাঝে তুলে ধরা হলে তারা রোজাী তাৎপর্য বুঝতে পারবে। এভাবেই এ শান্তির ধর্মের শৃঙ্খলা তুলে ধরা উচিত।অনুষ্ঠানে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। ইতালিতে প্রায় আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটা পাওয়া। এর ফলে অর্থনৈতিক ভাবে যেমন ইতালি লাভবান হচ্ছে অনুরূপ বাংলাদেশও একই ভাবে উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন,বিমাস আয়োজিত আজকের ইফতার  খুবই চমৎকার। এখানে উপস্থিত ইতালিয়ান ও বাংলাদেশ কমিউনিটির একাধিক ব্যক্তিরা রয়েছেন সকলের প্রতি ধন্যবাদ।তিনি আরও বলেন,বিমাস একটি মাইগ্রান্ট এসোসিয়েশন। অভিবাসীদের নানা ইস্যু নিয়ে কাজ করে। মা’ইগ্রান্ট বিভিন্ন দেশেই চলমান এবং দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ায় চলে। ইতালির মোট জনসংখ্যার  ৫ লাখ  অভিবাসীর প্রায় নব্বই ভাগের বেশী অভিবাসীর মধ্যে ত্রিশ ভাগ মুসলিম। বাংলাদেশিদের অবস্থান ছয় নম্বরে থাকলেও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে তৃতীয়। এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশিরা নাম্বার ওয়ান। এসময় রাষ্ট্রদূত বিমাসের কার্যক্রম  নিয়ে বিশেষ আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন বিমাস বাংলা কমিউনিটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে তারা ভাল ভূমিকা নিয়েছেন  যা প্রসংশনীয়।ইফতার অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি ড.মুক্তার হোসেন উপস্থিত ইতালিয়ান রাজনৈতিক অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,২০২২  থেকে চলতি বছর অর্থাৎ আজ পর্যন্ত যেসব বাংলাদেশি (ফ্লস্সি) স্পন্সর ভিসায় ইতালিতে এসেছেন তাদের অনেকেই এখনো বৈধ কাগজ ( সৌর্জন্য) পাননি। তিনি অবগত করেন,যে নুলাসস্তা ,ভিসা নিয়মিত থাকা সত্ত্বেও এখনও তারা স্টে পারমিট পায়নি। আমরা এ বিষয়ের উপর সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছি। আশা করি সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে সমাধান করবেন। রমজানের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হলে আশা করি আপনারা সমাধানের জন্য সহযোগিতার হাড বাড়িয়ে দিবেন।  অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটি ছাড়াও পাকিস্তান,চায়নাসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে  বিএনপি,এনসিপির নেতাকর্মীসহ ইফতারে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করেন।এদিকে আগামী ২২ ও ২৩ ইতালির বহুল আলোচিত সংবিধান সংস্কারের জন্য রেফারেন্ডাম, হ্যা – না ভাোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপস্থিত ইতালিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইতোমধ্যে যারা  ইতালির নাগরিকত্ব রয়েছে তাদের প্রতি  না’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের কাজে সহযোগিতা করার আহবান করেন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক