তানজিদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নাহিদের পেস–ঝড়ে দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা, ফলে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
নাহিদের গতি, পাকিস্তানের ১১৪ রানে পতন
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ভালো অবস্থানে ছিল পাকিস্তান; ৯.৫ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪১ রান। এরপর হঠাৎই ধস নামে ব্যাটিং অর্ডারে—পরের ৪১ রান তুলতে গিয়ে তারা হারায় ৯ উইকেট, ২৩.৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে ওঠে ৮২/৯।
শেষ পর্যন্ত তরুণ পেসার নাহিদ রানার তোপে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ক্রিকট্র্যাকার ও ইএসপিএনক্রিকইনফোর স্কোরকার্ড অনুযায়ী, নাহিদ ৭ ওভারে ২৪–২৫ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট শিকার করেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। দলের হয়ে মিডল অর্ডারে লড়াই করে ৪৭ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ; শেষ উইকেটে আবরার আহমেদের সঙ্গে তার ৩০ প্লাস জুটিতেই তিন অঙ্ক পেরোয় পাকিস্তান।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভারে ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দেন, বাকি দুটি উইকেট ভাগ করে নেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। পাকিস্তানের ১৯তম ওভারে দলীয় ৭০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারানোর নজির তাদের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে ধসগুলোর একটি হিসেবে পরিসংখ্যান সাইটগুলোতে উল্লেখ করা হচ্ছে।
তানজিদের টি–টোয়েন্টি মেজাজে রান তাড়া
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ক্রিকট্র্যাকার ও অন্যান্য লাইভ স্কোর অনুযায়ী, তিনি মাত্র ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৪২–৪৫ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচ থেকে পাকিস্তানকে কার্যত ছিটকে দেন।
তার ব্যাটিং ছিল পুরোপুরি টি–টোয়েন্টি ঘরানার; নতুন বলে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও অন্য পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে পাওয়ার প্লে’তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই বাঁহাতি ওপেনার। অপর প্রান্তে সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০–৩৩ বলে ২৭ রানের শান্ত ও পরিমিত ইনিংস খেলে দলকে নিরাপদ জয়ের পথে রাখেন।
বাংলাদেশ ২০ ওভারের কিছু বেশি সময়েই ১১৫ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করে জয় নিশ্চিত করে; স্কোরকার্ড অনুযায়ী, এখনো ২০০–এর বেশি বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে স্বাগতিকরা, যা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড় ব্যবধানে অর্জিত আরামদায়ক সফলতার উদাহরণ।
সিরিজ ও আত্মবিশ্বাসের সমীকরণ
এই জয় দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ এবং একই সঙ্গে ২০২৭ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন লড়াইয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ রেটিং পয়েন্টও যোগ করেছে দলটি। ক্রিকেট বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনগুলোতে বলছে, পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন একতরফা জয় দলকে আত্মবিশ্বাসী করবে পরের ম্যাচগুলোতেও। তরুণ পেসার নাহিদ রানা ও তরুণ ওপেনার তানজিদের নৈপুণ্য ভবিষ্যতের জন্য ‘নতুন যুগের সূচনা’র ইঙ্গিত বলেই দেখছেন অনেকে।










