বাংলাদেশের পেস-স্পিন জুটিতে পাকিস্তান গুটিয়ে গেল ১১৪ রানে
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে দিয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসটি শেষ হয় ৩০.৪ ওভারে, যেখানে ফাহিম আশরাফ একাই দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন।
টস, শুরুর স্থিতিশীলতা আর হঠাৎ ধস
টস জিতে প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যা পরে দারুণভাবে সার্থক প্রমাণিত হয়। শুরুতে তুলনামূলক দেখেশুনে ব্যাটিং করে পাকিস্তান, ৯.৫ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১ রান।
এরপরই দেখা যায় ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়। বিনা উইকেটে ৪১ থেকে পরের ৪১ রান তুলতেই তারা হারায় ৯ উইকেট, অর্থাৎ ৮২ রানে যখন পাকিস্তানের নবম ব্যাটার আউট হন, তখন ইনিংস কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
শেষ জুটিতে ফাহিমের লড়াই
দলের এই বিপর্যয়ের মধ্যেও মধ্যক্রমের ব্যাটার ফাহিম আশরাফ শেষ উইকেটে কিছুটা লড়াই করেন। শেষ ব্যাটার লেগস্পিনার আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন ৩২ রানের জুটি, যা পাকিস্তানকে তিন অংকে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাইভ স্কোর ও ম্যাচ গ্রাফ অনুযায়ী, ফাহিমের ইনিংসটি ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এক মরিয়া প্রয়াস, নইলে ১০০ রান পার করাও কঠিন হয়ে পড়ত পাকিস্তানের জন্য। শেষ পর্যন্ত ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস।
নাহিদ–মিরাজদের বোলিং নৈপুণ্য
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে শুরুতে সাহসী ব্যাটিং করেও দীর্ঘসময় টিকতে পারেননি পাকিস্তানের টপ অর্ডার। নাহিদ রানা তার আগের স্পেলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও আগুনঝরা বোলিং উপহার দেন, ৭ ওভারে ২৪ রানে তুলে নেন ৫ উইকেট; এটিই তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক সাইটে।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও বল হাতে সমান কার্যকর ছিলেন। এনডিটিভি ও অন্যান্য গ্রাফিকাল স্কোর সামারি অনুযায়ী, তিনি ১০ ওভারে ২৯ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট, মধ্য ও নিম্নক্রমে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট ভাগ করে নেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ, যারা শুরু থেকেই কড়া লাইন–লেংথে বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন।
বিশ্বকাপের পথে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ
এই সিরিজটি শুধু দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি খেলায় টিকে থাকার লড়াইও বটে। বিশ্বকাপের মূলপর্বে সরাসরি জায়গা করে নিতে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হবে নির্ধারিত কাট-অফ তারিখ পর্যন্ত।
বর্তমানে বাংলাদেশ আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ম স্থানে আছে বলে জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও একাধিক ক্রীড়া বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়ে বড় ব্যবধানে পয়েন্ট অর্জন করা এবং র্যাঙ্কিংয়ে অন্তত এক–দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়াই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।










