টি–টোয়েন্টি শিরোপায় ভারতকে আইসিসির চেয়েও বেশি পুরস্কার দিচ্ছে বিসিসিআই
২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের জন্য আইসিসির মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২০–১২৩ কোটি রুপির সমপরিমাণ ধরা হচ্ছে। আগের আসর ২০২৪ সালের তুলনায় এবার মোট প্রাইজমানি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে আইসিসির ঘোষণায় উল্লেখ ছিল।
অধ্যায় শেষে চ্যাম্পিয়ন ভারত পায় ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি, যা একক দল হিসেবে আইসিসির দেওয়া সর্বোচ্চ অর্থ পুরস্কার। রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড পায় ১৬ লাখ ডলার, আর দুই সেমিফাইনালিস্ট দল পায় ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার করে।
বিসিসিআইয়ের ১৩১ কোটি রুপি ‘বাম্পার’ পুরস্কার
আইসিসির প্রাইজমানি ছাড়াও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিজ উদ্যোগে সূর্যকুমার যাদবের দলকে ১৩১ কোটি রুপি আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যা এই সংস্করণে আইসিসির পুরো প্রাইজপুলের অঙ্কেরও চেয়ে বেশি। বোর্ড সভাপতি জয় শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একক কোনো দলের জন্য ঘোষিত সবচেয়ে বড় নগদ পুরস্কার বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত শর্মাদের ১২৫ কোটি রুপি পুরস্কার দিয়েছিল বিসিসিআই, এবার সেই অঙ্ক আরও ৬ কোটি বাড়িয়ে ১৩১ কোটিতে উন্নীত করা হলো।
আগের পুরস্কারের নজির ও তুলনা
হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ মৌসুমে ভারতের অন্য বড় সাফল্যগুলোর ক্ষেত্রেও বিসিসিআই উদার আর্থিক পুরস্কার দিয়েছিল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ে পুরুষ দলের জন্য দেওয়া হয়েছিল ৫৮ কোটি রুপি, আর নারী বিশ্বকাপ জয়ে নারী দলের খেলোয়াড়রা পেয়েছিলেন ৫১ কোটি রুপি।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৩১ কোটি রুপির ঘোষণাকে ভারতীয় গণমাধ্যম “রেকর্ড–ব্রেকিং” ও “স্ট্যাগারিং” বলে আখ্যা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসির মোট ১৩.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২০ কোটি রুপি) প্রাইজপুলের চেয়ে বেশি পুরস্কার একাই জাতীয় দলকে দিয়ে বোর্ড বিশ্বকাপ জয়কে এক ধরনের কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছে।
ফাইনাল জয়, একাধিক ইতিহাস
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ২৫৫ রান, জবাবে কিউইরা গুটিয়ে যায় ১৫৯ রানে; সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ইনিংস ও জসপ্রিত বুমরাহর চার উইকেট জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত তিনবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দল, একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো কোনো দল সফলভাবে শিরোপা ধরে রাখল এবং প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে ঘরের মাঠে ট্রফি জয়ের কীর্তি গড়ল। বিসিসিআইয়ের ভাষ্যে, এই অর্জন ভারতকে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলগুলোর কাতারে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
আইসিসির প্রাইজমানি কাঠামো যেখানে সকল অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, সেখানে বিসিসিআইয়ের এককভাবে ১৩১ কোটি রুপি পুরস্কার ভারতীয় ক্রিকেটের আর্থিক শক্তি ও বাণিজ্যিক আকর্ষণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের বিপুল পুরস্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, জাতীয় দলের আকর্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের দিকে আরও বেশি টানবে বলেও মনে করছেন ক্রিকেটবিশেষজ্ঞেরা।










