উজবেকিস্তানের কাছে বড় হারে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এশিয়ান কাপ সমাপ্তি
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ ২০২৬–এ নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪–০ গোলে হেরে শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। চীন ও উত্তর কোরিয়ার পর তৃতীয় ম্যাচেও গোলশূন্য থেকে এবং বড় ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বই হয়ে উঠেছে তাদের বিদায়ের মঞ্চ।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে পার্থের এইচবিএফ পার্ক স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘বি’র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টে আগের দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হেরে ইতিমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে ইতিবাচক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।
খেলার শুরুতেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নামে উজবেকিস্তান, গতি ও শারীরিক গঠনের ব্যবধানে তারা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতি–আক্রমণে সুযোগ খুঁজে গেলেও শেষ তৃতীয়াংশে পাস বিনিময় ও ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থাকার কারণে গোলের দেখা পায়নি।
গোলের ধারা ও স্কোরলাইন
ম্যাচের ১০ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ, উজবেক ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভার শট জালে জড়িয়ে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। দীর্ঘ সময় ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও লড়াইয়ে টিকে ছিল বাংলাদেশ; কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণে তারা ধসে পড়ে।
৬২ মিনিটে উজবেকিস্তানের দ্বিতীয় গোলের পরই ম্যাচ থেকে মানসিকভাবে খানিকটা সরে যেতে থাকে বাংলাদেশ দল। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও দুটি গোল হজম করে পিটার বাটলারের শিষ্যরা, চার্ন্ত গোলগুলোর দুটিই করেন ফরোয়ার্ড দিলদোরা নোজিমোভা, আর বাকি এক গোলের নায়িকা নিলুফার কুদ্রাতোভা বলে ম্যাচ–পরবর্তী পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ও মিস হওয়া সুযোগ
স্কোরলাইন বড় হলেও, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচে তুলনামূলক ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। কয়েকবার ডান ও বাম প্রান্ত দিয়ে উঠে উজবেক ডিফেন্স ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল তারা, কিন্তু বক্সে সঠিক পাস কিংবা ফিনিশিং না থাকায় গোল আদায় করা সম্ভব হয়নি।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের মতো এ দিনও বক্সের বাইরে থেকে একটি দারুণ শটে গোলের চেষ্টা করেন মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমা; উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা অসাধারণ দক্ষতায় সেই শট ফিরিয়ে দেন বলে টুর্নামেন্ট ঘিরে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একইভাবে তিন ম্যাচেই একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার, তবু পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর জালে বল জড়িয়েছে ১১ বার।
টুর্নামেন্টের চিত্র ও বিদায়ের অঙ্ক
গ্রুপ ‘বি’তে আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছিল চীন ও উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তানের জন্য বাংলাদেশ ম্যাচটি ছিল শেষ আটে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করার লড়াই। তিন ম্যাচে সবকটিতে হেরে কোনো গোল না করে এবং মোট ১১ গোল হজম করে বাংলাদেশের মেয়েদের এশিয়ান কাপ অভিযান শেষ হলো গ্রুপপর্বেই।
অন্য দিকে, বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ের একটি স্থান নিশ্চিত করে উজবেকিস্তান নারী দল, যার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এই আসরের নকআউট পর্বে জায়গা পেতে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলা, কড়া প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য মূলধন হয়ে থাকবে—এমনটাই আশা ফুটবল বিশ্লেষকদের।










