দুবাই এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফায় হামলার খবরটি গুজব: প্রবাসীদের মাঝে উদ্বেগ
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে ছড়ানো ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা ওই ভিডিওতে দুবাই এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফায় ভয়াবহ আগুনের দৃশ্য দেখা গেলেও বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বর্তমানে দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
গুজব বনাম বাস্তব পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সুযোগসন্ধানী চক্র এসব এডিট করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ আমিরাতের আইন অনুযায়ী এটি গুরুতর অপরাধ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তারা কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
কঠোর আইনি ব্যবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ানো সরাসরি ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র শামিল। এ ধরনের অপরাধের জন্য বিপুল অংকের জরিমানা ও দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রবাসীদের আতঙ্ক ও নিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষের এমন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে দুবাইয়ে বসবাসরত সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা আতঙ্ক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সচেতন প্রবাসীরা মনে করছেন, এসব গুজবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও বসবাসের পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যারা দেশ থেকে আরব আমিরাত নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ ও ভিডিও প্রচার করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন যাচাই না করে কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার না করা হয়।













