শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনে নতুন টানাপোড়েন: আগের তিন নির্বাচনে ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টদের’ও নেয়া হবে না

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৮ পিএম
নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনে নতুন টানাপোড়েন:  আগের তিন নির্বাচনে ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টদের’ও নেয়া হবে না

ফাইল ছবি।

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছে, গত তিনটি নির্বাচনে যারা ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা’ বা ‘ন্যূনতম অংশগ্রহণ’ করেছিলেন, তাদের কাউকেই আগামী নির্বাচনে কোনো ধরনের দায়িত্বে রাখা হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঢালাও ও বাছবিচারহীন। এতে আমলাতন্ত্রে অনিশ্চয়তা ও বিভাজন তৈরি হতে পারে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ‘সর্বজনীন অনাস্থা’ কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমিয়ে দেবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা বাড়াবে।

সাবেক যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার বলেন, “যারা বিতর্কিত ছিলেন বা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, তাদের বাদ দেওয়াই উচিত। কিন্তু সবাইকে একসাথে অযোগ্য ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত নয়। তাহলে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে কারা?” অন্যদিকে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা রাজনৈতিক চাপে থাকেন। তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢালাওভাবে সবাইকে অযোগ্য বলা হলে নিরীহ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং প্রশাসনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।” নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “যারা বিতর্কিত বা পক্ষপাতমূলক হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তারা বাদ পড়বেন—এটা নিশ্চিত। তবে সেটি নির্ধারিত হবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।” প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগে কঠোর মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “যেসব কর্মকর্তা গত তিন নির্বাচনে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন, তাদের কোনো দায়িত্বে রাখা হবে না। যাচাইয়ের সময় তাদের এসিআর, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, কর্মদক্ষতা ও পূর্বের পোস্টিং বিশ্লেষণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “ডিসি, এডিসি, ইউএনও এবং যারা পূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নতুন নির্বাচনে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় কাজ শুরু হয়েছে।” বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ আমলের ডিসি ও এসপি নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, “অতীতের সব কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যারা রাজনৈতিক চাপে অন্যায় করেছেন, তাদের এখন গণতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।” তবে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে ‘বাধ্যতামূলক ও সময়োপযোগী’ বলে সমর্থন জানিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ রিটার্নিং অফিসার, যিনি পুরো জেলার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। সাধারণত জেলা প্রশাসক বা উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই পদে থাকেন। তাদের অধীনে কাজ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও), যারা সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা নির্বাচনের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এদের মধ্যে অনেকেই সরকারি স্কুল, কলেজ বা ব্যাংকের কর্মকর্তা। ফলে গত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের একসাথে বাদ দিলে নতুন জনবল খুঁজে পাওয়া প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের এমন অস্থিরতা ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের উচিত হবে পরিষ্কার মানদণ্ড ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের বাছাই করা।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, “যদি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠীকে সরিয়ে আরেক গোষ্ঠীকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা আমলাতন্ত্রে নতুন বিভাজন তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে।” বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৯টি ভোটকক্ষ থাকবে। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের পাশাপাশি পুলিশ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীও নির্ধারিত ভূমিকা পালন করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা’ থাকা কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়িত হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক