রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বার্সেলোনার দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

স্পেনে সক্রিয় ব্লোকাস গোষ্ঠীর ‘নেতা’কে জামিন ছাড়াই কারাগারে প্রেরণ

স্পেন প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম
স্পেনে সক্রিয় ব্লোকাস গোষ্ঠীর ‘নেতা’কে জামিন ছাড়াই কারাগারে প্রেরণ

বার্সেলোনায় গত সপ্তাহের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৩১ অক্টোবর শহরটিতে ব্লোকাস (Blocus) গোষ্ঠীর নামে নতুন কর্মসূচির ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কাতালোনিয়ার পুলিশ। এরই মধ্যে গোষ্ঠীটির স্পেনের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠককে জামিন ছাড়াই সাময়িক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়ার তোরেন্তের একটি আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাটের সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

গার্দিয়া সিভিল শুক্রবার ভ্যালেন্সিয়ার পিকানিয়া এলাকা থেকে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাঁকে স্পেনে ব্লোকাসের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শনিবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁকে বিচারাধীন অবস্থায় জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে তাঁর যোগাযোগের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি কম্পিউটার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। ভ্যালেন্সিয়ার উচ্চ আদালত এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধী সংগঠন গঠন, জনশৃঙ্খলা ভাঙচুরে উসকানি, দোকানে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চুরি এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সহিংসতা সমন্বয়ের অভিযোগ

তদন্তকারীদের দাবি, ওই তরুণ নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে স্পেনে ব্লোকাসের নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন। বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা ও দোকানপাটে লুটপাটের সমন্বয়ে ব্যবহৃত টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো তৈরি ও পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

৩১ অক্টোবর বার্সেলোনার প্লাসা কাতালুনিয়ায় সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্লোকাসের একটি পোস্টার। পোস্টারটিতে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জড়ো হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্লোকাসের নামে আরও কর্মসূচির ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর সম্ভাব্য সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে বার্সেলোনার কেন্দ্রে ৩০০-র বেশি মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে ব্লোকাসের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক বার্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের বার্সেলোনার দাঙ্গায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা কতটা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, মোতায়েন ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য

৩১ অক্টোবর শনিবার ব্লোকাসের নামে বার্সেলোনায় একাধিক সমাবেশের ডাক ছড়িয়ে পড়েছে। প্লাসা কাতালুনিয়া ও পাসেইগ দে লুইস কোম্পানিস এলাকায় বিকেল ৫টায় এবং পাসেইগ দে গ্রাসিয়ায় রাত ৮টায় কর্মসূচির কথা প্রচার করা হয়েছে।

সম্ভাব্য সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাট ঠেকাতে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর ৪ অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। শহরে ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে গণপরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচয় যাচাই এবং তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিপজ্জনক বস্তু ও আতশবাজি জব্দ করাও এ অভিযানের অংশ।

শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার অনেক দোকান তাদের কাচের সামনের অংশ ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করেছে। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে পুলিশ সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়নি।

মাদ্রিদে ৩১শে অক্টোবরের জন্য কর্মসূচি আহ্বান। ছবি- সার্ভিমিডিয়া।

বার্সেলোনার বাইরে কাতালোনিয়ার আরও কয়েকটি শহরেও ব্লোকাসের নামে কর্মসূচির ডাক রয়েছে। লেইদা, বাদালোনা, ইগুয়ালাদা, মাতারো, জিরোনা, তেরাসা, গাভা, ফিগেরেস ও প্লাতজা দারোতে সম্ভাব্য সমাবেশ ঘিরে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহের দাঙ্গায় ১৩৩ জন গ্রেপ্তার

এর আগে ২৪ অক্টোবর শনিবার বার্সেলোনায় একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬০০ জনের বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয়। প্রায় ৩০টি দোকান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়।

এদিকে ব্লোকাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাতালোনিয়ায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে বেলমুন্ট দ’উরজেল ও সান্ত সাদুরনি দ’আনোইয়া থেকে এবং বার্সেলোনা থেকে ১৮ বছর বয়সী আরেক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। ভ্যালেন্সিয়া, টেনেরিফ, মালাগা ও বিলবাওয়েও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, পালমায় ব্লোকাস মায়োর্কা গোষ্ঠীর নামে আয়োজিত কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বার্সেলোনায় নতুন কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি তৎপরতা এবং ব্লোকাসের কথিত সংগঠকের কারাবাসের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি এখন আরও নজরদারিতে রয়েছে। ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচিগুলোতে নতুন করে সহিংসতা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটে কি না, সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

স্পেন

ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে শনিবার বার্সেলোনায় কী ঘটেছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে শনিবার বার্সেলোনায় কী ঘটেছিল

বার্সেলোনার রাস্তায় তরুণদের থামিয়ে তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের ছবি।

বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় গত ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ৩১ অক্টোবর শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় কাতালোনিয়ার পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লোকাস (Blocus) গোষ্ঠীর নামে প্লাসা কাতালুনিয়া, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও পাসেইগ দে গ্রাসিয়ায় সমাবেশের ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর বিকেল থেকেই শহরের কেন্দ্রজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই। দোকানপাটের সামনে বসানো হয় কাঠের ও ধাতব সুরক্ষাপ্যানেল, বন্ধ রাখা হয় কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ এবং সরিয়ে নেওয়া হয় রাস্তার কনটেইনার। দিন শেষে পুলিশের হিসাবে বার্সেলোনায় ১ হাজার ৪৪০ জনকে শনাক্ত করা হয় এবং ১২৭টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। তবে আগের সপ্তাহের মতো বড় ধরনের দাঙ্গা, সংঘবদ্ধ লুটপাট বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান

সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে শনিবার বিকেল ৩টা থেকেই বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় বিশেষ পুলিশি অভিযান শুরু হয়। মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা এবং বার্সেলোনার নগর পুলিশের সদস্যরা প্লাসা কাতালুনিয়া, পোর্টাল দে ল’আঞ্জেল, পাসেইগ দে গ্রাসিয়া, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।

৩CatInfo-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনায় ৫০০-র বেশি মোসোস সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও বিশেষ নজরদারি দলও মাঠে ছিল। শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথ, রেলস্টেশন ও মেট্রোতে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
ব্লোকাসের ডাক ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে দোকানগুলোর প্রস্তুতির ছবি।

পুলিশের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যাঁদের কাছে দোকানের কাচ ভাঙা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাটে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন সরঞ্জাম রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে অনেকের মুখোশ ও ছদ্মবেশী পোশাক পরার বিষয়টিও পুলিশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

প্লাসা কাতালুনিয়ায় সমাবেশের ডাক, কিন্তু বড় জমায়েত হয়নি

ব্লোকাসের প্রচারিত পোস্টার ও অনলাইন বার্তায় শনিবার বিকেল ৫টায় প্লাসা কাতালুনিয়া এবং লুইস কোম্পানিস এলাকায় জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে রাত ৮টায় পাসেইগ দে গ্রাসিয়ার কাসা মিলা বা লা পেদ্রেরার কাছেও আরেকটি কর্মসূচির কথা ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু পুলিশি তৎপরতা, পরিচয় যাচাই এবং আগাম সতর্কতার মধ্যে এসব ঘোষিত কর্মসূচি বড় কোনো সমাবেশে রূপ নেয়নি। লা ভানগার্দিয়ার সরাসরি ঘটনাপ্রবাহের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফের বিকেল ৫টার কর্মসূচিতে কেউ উপস্থিত হয়নি। রাত ৮টায় লা পেদ্রেরার পাশের ঘোষিত জমায়েতও কার্যত ফাঁকা ছিল।

এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে প্লাসা উরকিনাওনা ও গ্লোরিয়েস এলাকায় নতুন জমায়েতের বার্তা ছড়ানোর খবর পায় পুলিশ। সেসব স্থানেও উল্লেখযোগ্য জমায়েতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শনিবারের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো শহরের কেন্দ্রকে আগের সপ্তাহের মতো সংঘর্ষের এলাকায় পরিণত করতে পারেনি।

এক হাজারের বেশি মানুষকে শনাক্ত, জব্দ বিভিন্ন সরঞ্জাম

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পরিচয় যাচাই ও তল্লাশির পরিধি বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৪৫০ জনকে শনাক্ত এবং ১৫টি সন্দেহজনক বস্তু জব্দের কথা জানানো হয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিচয় যাচাইয়ের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছায়।

৩১ অক্টোবরের পুলিশি তৎপরতা ও নিরাপত্তা চৌকির ছবি।

পরবর্তী সময়ে ১ নভেম্বর প্রকাশিত মোসোসের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের অভিযানে বার্সেলোনায় মোট ১ হাজার ৪৪০ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১২৭টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে সম্ভাব্য বিপজ্জনক সরঞ্জাম ও নিষিদ্ধ পদার্থ জব্দের বিষয়ও রয়েছে।

পুলিশি তল্লাশিতে ছুরি বা অন্যান্য ধারালো অস্ত্র, মুখ ঢাকার মুখোশ, আতশবাজি এবং দোকানের কাচ ভাঙতে ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার বার্সেলোনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় মোসোস। তাঁদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অন্যজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যাঁকে পুলিশের কাজে বাধা ও নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আটক করা হয়। তবে এই তিনটি গ্রেপ্তারের সবকটিই ব্লোকাসের ঘোষিত সমাবেশে সহিংসতায় অংশ নেওয়ার কারণে হয়েছে, এমন নয়।

কনটেইনার সরানো, মেট্রো ও বাস চলাচলে বিধিনিষেধ

সম্ভাব্য লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার দুই হাজারের বেশি আবর্জনার কনটেইনার সরিয়ে নেয় বার্সেলোনা নগর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সিউতাত ভেয়া এলাকার ১৩টি, ইশাম্পলের ১৬টি এবং গ্রাসিয়ার একটি, মোট ৩০টি বাইসিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্লাসা কাতালুনিয়া, সান্তস ও পাসেইগ দে গ্রাসিয়া রেলস্টেশনের কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। মেট্রোর এল১ লাইনে উরকিনাওনা ও আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ, এল২ ও এল৩ লাইনে পাসেইগ দে গ্রাসিয়ার কয়েকটি প্রবেশপথ এবং এল৪ লাইনে উরকিনাওনার একটি প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়।

বাস চলাচলেও পরিবর্তন আসে। ভি১৭, ৩৯ ও ৪৭ নম্বর বাসের রুট পরিবর্তন করা হয় এবং কয়েকটি স্টপেজ সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। ডি৫০, ভি১৯, ৬ ও ১৯ নম্বর বাসও নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজে থামেনি।

৩CatInfo জানিয়েছে, রাত ১০টার পর বন্ধ রাখা মেট্রো প্রবেশপথগুলো আবার খুলে দেওয়া হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

আরিবাউ ও করসেগা সড়কে তিনটি কনটেইনারে আগুন

শনিবার বিকেলে বার্সেলোনার আরিবাউ ও করসেগা সড়কের সংযোগস্থলে তিনটি আবর্জনার কনটেইনারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে পাশের একটি বারের বাইরের কিছু আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে লা ভানগার্দিয়া ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার কারণ তখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বা নগর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সঙ্গে ব্লোকাসের কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি। ফলে এটিকে ব্লোকাসের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাতেও পুলিশের নজরদারি, মেয়রের বক্তব্য

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বার্সেলোনার মেয়র জাউমে কোলবোনি নগর পুলিশের সদর দপ্তর থেকে দিনের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শহরে দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে এবং আগের সপ্তাহের সহিংসতা পুনরাবৃত্তি হয়নি। তাঁর মতে, পুলিশ, নগর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাত তখনো শেষ হয়নি এবং পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। শহরে ভাঙচুর ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

লা ভানগার্দিয়ার রাত ১০টার প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্ক দে ত্রিয়ম্ফ ও লা পেদ্রেরার ঘোষিত কর্মসূচিগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি না থাকলেও মোসোস ও নগর পুলিশ রাতভর সতর্ক অবস্থানে ছিল। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সমন্বয় কেন্দ্র থেকেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গত সপ্তাহের ঘটনার তদন্তে নতুন গ্রেপ্তার

৩১ অক্টোবরের নিরাপত্তা অভিযানের পাশাপাশি গত ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় তদন্তও অব্যাহত ছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ব্লোকাসের যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ পরিচালনার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে শনিবার কাব্রেরা দ’আনোইয়া থেকে গ্রেপ্তার করে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। পুলিশের দাবি, তিনি সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি যোগাযোগ গ্রুপের প্রশাসক ছিলেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকটকে ছড়ানো একটি পোস্টারের কিউআর কোডের মাধ্যমে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার তরুণের বিরুদ্ধে আগের শনিবারের সহিংস কর্মকাণ্ড উসকে দেওয়া ও সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ২৪ অক্টোবরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আদালত ও কিশোর বিচারব্যবস্থার কার্যক্রমও চলছিল। লা ভানগার্দিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন কিশোরের বিরুদ্ধে নজরদারি, জমায়েত থেকে দূরে থাকার নির্দেশ এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থার আবেদন করেছে কিশোর আদালতের কৌঁসুলিরা।

কাতালোনিয়াজুড়ে ২ হাজার ২৬৪ জন শনাক্ত

শুধু বার্সেলোনা নয়, ব্লোকাসের নামে কাতালোনিয়ার বিভিন্ন শহরেও কর্মসূচির ডাক ছড়িয়েছিল। বাদালোনা, মাতারো, তেরাসা, গাভা, জিরোনা, ইগুয়ালাদা, লেইদা ও ফিগেরেসে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। এসব এলাকার কিছু স্থানে আগাম সতর্কতামূলকভাবে কনটেইনার ও রাস্তার অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব উদ্ধৃত করে 3CatInfo জানিয়েছে, পুরো কাতালোনিয়ায় মোসোস ও নগর পুলিশ মোট ২ হাজার ২৬৪ জনকে শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে মোসোস ১ হাজার ৮০০ জন এবং নগর পুলিশ ৪৬৪ জনকে শনাক্ত করে। অঞ্চলজুড়ে মোট ১৮১টি প্রশাসনিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয় এবং প্রায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁদের সবার গ্রেপ্তারের সঙ্গে ব্লোকাসের সহিংস কর্মসূচির সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।

শনিবারের ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, ব্যাপক পুলিশি প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বার্সেলোনায় ঘোষিত সমাবেশগুলো বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়নি। তবে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দিনভর এর প্রভাব ছিল। প্রশাসনও জানিয়েছে, ব্লোকাসের নামে নতুন কর্মসূচি বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

| তথ্যসূত্র:** 3CatInfo, La Vanguardia, betevé, Europa Press, EFE, elDiario.es

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনে আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনে আগুন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

 

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশের সহায়তায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের সামনে রেখে পেছনে সরে যান। এ সময় আন্দোলনকারীরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে তাদের ফিরে যেতে হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

 

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিব জানান, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মিরপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশন থেকে জানা যাবে।

 

একই দাবিতে গতকাল শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তাদের অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

একপর্যায়ে শ্রমিকরা মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

 

ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ, মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ, মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ১৮ তলা থেকে পড়ে এক নারী ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত নারীর নাম একতা ভাঙড়ে (৩৩) এবং তাঁর ছেলের নাম মাধব ভাঙড়ে (৬)। তাঁরা পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের থেরগাঁও ওয়াকাড এলাকার অভিজাত আবাসিক কমপ্লেক্স সিগনেচার পার্কে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর ধরে স্বামী মনোজ ভাঙড়ে (৩৫) ও ছেলেকে নিয়ে সেখানে থাকছিলেন একতা।

পরিবারটি ওই আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় থাকত। মনোজ ইয়েরওয়াড়ার একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তিনি কর্মস্থলে চলে যান। সে সময় বাসায় ছিলেন একতা ও মাধব।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভবনের একটি ডাক্ট থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। শব্দের উৎস খুঁজতে নিচে নেমে তাঁরা একতা ও মাধবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ওয়াকাড থানার পুলিশ। পুলিশের পর্যালোচনা করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার আগে একতা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে লিফটে করে ভবনের ১৮ তলায় উঠেছিলেন। পরে ভবনের গ্যালারির রেলিংয়ের কাছে তাঁদের জুতা ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ মা ও ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই নারী ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক