শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দ্বীপরাষ্ট্র ছেশেল” হৃদয়ের অনুভূতি

কাজী এনায়েত উল্লাহ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ পিএম
দ্বীপরাষ্ট্র ছেশেল” হৃদয়ের অনুভূতি

ভারত মহাসাগরের সবুজ ও পাহাড়বেষ্টিত ছোট্ট একটি দেশ ছেশেল। ১১৫টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার। এর বৃহৎ দ্বীপ মাহে তে অবস্থিত রাজধানীর নাম হচ্ছে ভিক্টোরিয়া। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো একটু দূরত্বে হলেও উল্লেখ করার মতো আছে মাদাগাস্কার,দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, মরিশাস, সেই সঙ্গে আরও একটু বেশি দূরত্বে আছে শ্রীলংকা। দেশটির জনসংখ্যা মূলত আফ্রিকান,ভারত এবং শতকরা ১০ ভাগের মতো ইউরোপিয়ান।

১৫০৩ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা তার দ্বিতীয় ভারত অভিযানকালে প্রথম এই দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার করলেও তিনি বেশি দিন এখানে থাকেননি। ১৬০৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের ঘাঁটি স্থাপন করলেও ১৭৩৫ থেকে ১৭৯৪ সাল পর্যন্ত ফরাসিরা এ দেশে তাদের আধিপত‍্য স্থাপন করে। এ সময় আফ্রিকান ক্রীতদাস ও বন্দীদের এ দেশে নিয়ে আসে এবং তাদের দিয়ে সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর মাধ‍্যমে দ্বীপগুলোকে মানুষের বাসযোগ‍্য করার কার্যক্রম শুরু করে। পরে দেশটিতে ১৭৯৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত পুনরায় ব্রিটিশ শাসন কায়েম হয়। ঔপনিবেশিক শক্তির নানা রকম চিহ্ন দেশটিতে এখনো বিদ‍্যমান। আফ্রিকান ক্রীতদাসের প্রথম গ্রুপে ছিলেন ২৬ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। কথিত আছে,ওই নারীই অনেক সন্তানের জন্ম দিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গোড়াপত্তন করেছিলেন। তাই তাকে ছেশেলের মাতা’ বলে সম্মানিত করা হয়। ওই সন্তানদের জন‍্য তৈরি করা এক কক্ষবিশিষ্ট একটি ক্লাস রুমের ভগ্নাবশেষ এখনো সংরক্ষিত আছে, যেখানে ২১ জন ছাত্রের পড়াশোনার ব‍্যবস্থা ছিল। তারা বছরের পর বছর ধরে এ দেশের চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে বাসযোগ‍্য করে তোলেন। ভিক্টোরিয়া,প্রালা ও লা ডিগ হচ্ছে দেশটির প্রধান ভূখণ্ড, যেখানে সময়ের সঙ্গে গড়ে উঠেছে নানা রকম অর্থনৈতিক কার্যক্রম। পরবর্তী সময়ে আরেক ঔপনিবেশিক শক্তি গ্রেট ব্রিটেন বিশ শতকের শুরুতে ফরাসিদের স্থান দখল করে নেয়। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকত প্রালার ‘অন্‌জ লাজিও”আর লা ডিগের ‘অন্‌জ সুর্স দারজঁ’ অন‍্যতম। এগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, সৈকত ঘিরে অবস্থান করছে বৃহৎকার নানা রঙের শিলা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন আসেন এ দুই দ্বীপে সমুদ্রস্নান করতে।

সমগ্র দ্বীপপুঞ্জ ছোট-বড় পাহাড়ের সমষ্টিমাত্র। সমুদ্রে সৃষ্ট মেঘগুলো পাহাড়ের গাঁ ঘেঁষে যখন সূর্যের সোনালি আভায় বিচ্ছুরিত হয়,তখন মনের অনুভূতি বর্ণনাতীত। প্রকৃতির নিয়মে বেড়ে ওঠা নানা প্রজাতির গাছপালা পাহাড়জুড়ে সবুজ দুর্বোধ্য বনাঞ্চলে রূপান্তরিত করছে,যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।
দেশটিতে ট্রপিক্যাল আবহাওয়ার কারণেই ট্রপিক্যাল ফলমূলের সমাহার,যা দেখে ও খেয়ে আমাদের বাংলাদেশের কথা বিশেষভাবে প্রাণে দোলা দেয়।
এখানে বিশেষ দুটি প্রচলিত ব‍্যাপার লক্ষণীয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, এ দেশে এক ধরনের নারকেল পাওয়া যায়,যাকে বলা হয় ‘সামুদ্রিক নারকেল’। বৃহদাকার এই ফলটি দেখতে অনেকটাই মানুষের নিতম্বের মতো। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে,এই নারকেলগাছ দুই রকম হয়, পুরুষ ও মহিলা গাছ। দুই রকম গাছের ফলও দুই ধরনের হয়। তাদের রেণুর মিলনে যে ফল হয়,তা খুবই সুরক্ষিত। বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই নারকেল দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া নিষেধ। এটি একটি জাতীয় সিম্বল। এই সামুদ্রিক নারকেলের প্রতিকৃতি এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনের যে এন্ট্রি বা এক্সিট সিল আছে, তাতেও দেখা যায়। এতেই এই বিশেষ ফলটির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে,এ দেশে এক ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপ আছে, যাদের বয়স ১৫০ থেকে ২০০ বছর। কচ্ছপগুলোর প্রধান খাদ‍্য একধরনের বিশেষ গাছের পাতা। এত বড় কচ্ছপ অনায়াসে কীভাবে পানি ছাড়াও বাস করতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
এ বছর দেশটিতে বেশ ঘটা করে উদযাপিত হচ্ছে বিশেষ কিছু দিবস, যেমন ৬ জুলাই মরিশাস ম‍্যারাথন, ১৪ জুলাই ফরাসি বিপ্লবের বাস্তিল ডে,১৬-১৮ জুলাই আফ্রিকান ফুড ফেয়ার, ৪-৫ সেপ্টেম্বর মিলাদ-উন-নবি, ২২-২৪ সেপ্টেম্বর ইহুদি নববর্ষ রোশসানা,২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর কলম্বো বুক ফেয়ার প্রভৃতি। আন্তর্জাতিকভাবে দিবসগুলো উদযাপিত হয় বিশেষত ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করার জন‍্য।

দেশটিতে ফরাসি ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রভাব খুবই শক্তিশালী, এ কারণেই এক মিশ্র ভাষা ‘ক্রেয়ল’ হচ্ছে এখানকার জাতীয় ভাষা। সেই সঙ্গে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষাও বহুলভাবে প্রচলিত। ভ্রমণকারীদের প্রথম স্থানে ফরাসি ও জার্মান, দ্বিতীয় রাশিয়ান ও ইতালিয়ান    এবং ব্রিটিশরা তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
খ্রিস্টান-অধ‍্যুষিত দেশ হলেও ছেশেলে কোনো রকম ধর্মীয় হিংসা-বিদ্বেষ নেই। মাহেতে চমৎকার চার্চ,মন্দিরের সাথে একটি বৃহৎ এবং একমাত্র মসজিদও লক্ষ করলাম।বর্তমানে দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। দেশটি ১৯৭৬ সালে ব্রিটিশ আধিপত‍্য থেকে মুক্তি লাভ করে এবং স্বাধীনতার এক বছর পরই সামরিক ক্যু সংঘঠিত হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে সাধারণ নির্বাচনে জিতে বামপন্থী একটি দল ক্ষমতায় ছিল দীর্ঘ সময়। তারপর এক ধর্মযাজকের নেতৃত্বে বিগত পাঁচ বছর নতুন সরকার দেশ শাসন করেছে। জনহিতকর বিভিন্ন কার্যকলাপের কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এ সরকারই পরবর্তী পাঁচ বছরের জন‍্য নির্বাচিত হবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন।

ভোটদাতাদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, তবে তা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে। মজার ব‍্যাপার হচ্ছে, ছেশেল অনেক লিবারেল অর্থনীতির একটি দেশ। প্রচুর বিদেশি অফশোর কোম্পানি দেশটিতে তাদের হেডকোয়ার্টার স্থাপন করেছে। আরব আমিরাতের সুলতান বিন নাহিয়ান দেশটিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন, অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় ওনার প্রাসাদ অত‍্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও তা দেখতে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দেশটিতে পুলিশের সংখ্যা দেখলে অবাক হতে হয়। মাত্র ৫০০ জন অফিসারসহ পুলিশ বাহিনী, যারা মূলত তিনটি বিশেষ দ্বীপেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এক সপ্তাহের অবস্থানে পুলিশের মাত্র একটি গাড়ি এবং চারজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পেয়েছি।দেশটির জনসংখ্যা ১ লাখ হলেও মোট গাড়ির সংখ্যা ৫০ হাজারের অধিক। পরিপাটি রাস্তাঘাটে সবাই শৃঙ্খলার সাথেই গাড়ি চালায়। একবারও কোনো হর্নের আওয়াজ শুনতে পাইনি।

অনেক সুনাম নিয়ে দেশটি বিশ্বব‍্যাপী সমাদৃত হওয়ার বিশেষ কারণ হচ্ছে, সরকার ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টি নিয়ে খুবই সচেতন। এখানকার হোটেল এবং সমস্ত ব‍্যবস্থাপনা খুবই ব‍্যয়বহুল। একমাত্র অবস্থাসম্পন্ন ব‍্যক্তিরাই বিশেষত প্রকৃতির এই সৌন্দর্য এবং বিরল ব‍্যবস্থাপনা উপভোগ করতে পারেন। রিসোর্ট এবং বিশ্বের লিডিং হোটেলগোষ্ঠীর অবস্থান এ দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ও কম অবস্থ‍াসম্পন্ন ভ্রমণকারীর সংখ্যা নগণ্যই বলা যায়, যাঁদের উপস্থিতি দেশটির সরকারও চায় না। মূলত বিষয়টা উচ্চ আয়সম্পন্ন ট্যুরিস্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। দেশটিতে সংরক্ষিত দ্বীপগুলোর মতোই প্রশাসনিক আইনশৃঙ্খলার কঠোরতা এবং সঠিক আইন প্রয়োগের কোনো কমতি নেই। তার পরও তরুণ সমাজের একটি অংশের ড্রাগ এবং সাধারণ মানুষের মধ‍্যে মাদকাসক্তি দেশটিতে ক্রমবর্ধমান।

ক‍্যাসিনো এখানে জমজমাট ব‍্যবসা এবং এর সামাজিক ও পারিবারিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষণীয়। মজার একটি ব‍্যাপার হলো,আমার স্ত্রী হিলটন হোটেলে আমাদের কটেজ থেকে লবিতে যাওয়ার পথে দুজন তরুণকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,“আপনারা কি বাঙালি?” এ কথা শুনে কর্মরত ওই দুজনের চোখ একেবারে কপালে উঠে গেল। এই সুদূর ছেশেলে কোনো ইউরোপিয়ান নারীর এভাবে বাংলা ভাষায় বলা কথা শুনে তারা তো অবাক! তারা উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলতেই আমার স্ত্রী আমাকে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন এবং এবার একইভাবে আমারও অবাক হওয়ার পালা। এই সুদূর ছেশেলেও বাংলাদেশি এসে পৌঁছেছে! আমি গেলাম তাদের সঙ্গে কথা বলতে।

একজন নরসিংদীর তুহিন,অন‍্যজন সিলেটের নাহিদ। দুজনই টগবগে তরুণ। আমার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটু আবেগাপ্লুত তারা। এই হোটেলে দুই বছর ধরে কাজ করার সময় এই প্রথম কোনো বাঙালির দেখা পেল তারা। বলল,“আপনি যে বাঙালি, তা দেখে বোঝার উপায় নেই। মনে হচ্ছে ইউরোপিয়ান।” আমি আমার পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললাম, একমাত্র ম‍্যাডাম ছাড়া আমার তিন সন্তান আর আমি বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ফ্রান্সে থাকায় গায়ের রং একটু পাল্টে গেছে। এ কথা শুনে তারা উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠল। পরবর্তী সময়ে পরিচয় হলো আজাদ মিয়া ও মাহমুদুল হাসান রিয়াদের সঙ্গে। শহরে ঘুরতে গিয়ে আমি নিজেই অনুমান করে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ওনারা বাংলাদেশি কি না? দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কাটালেও সেখানে নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ‍্যেও একটি আনন্দ আছে,একটি ভালো লাগা কাজ করে। ভীষণ অবাক হলাম এ কথা জানতে পেরে যে, ১ লাখ অধিবাসীর দেশটিতেও প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির বসবাস। তাঁরা বিভিন্ন কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিয়ে এসেছেন। সার্ভিস, কনস্ট্রাকশন, এগ্রিকালচারের জব অধিকাংশের। বেতন ৭০০ থেকে ১২০০ মার্কিন ডলার।

তাদের মধ্যে সামান‍্য কয়েকজন পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন,যাঁদের আয় তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। কোম্পানির বাসা এবং অনেক ক্ষেত্রে খাওয়াদাওয়ার ব‍্যবস্থাও আছে। তবে সবাই একমত যে আরব দেশগুলোর চেয়ে এখানে বেতন ও খাওয়াদাও‍য়া ভালো। সর্বোপরি এখানকার আবহাওয়া খুব চমৎকার! এখানে আমাদের দেশের কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেই জেনেও অবাক হলাম। কেননা ইউরোপের দেশগুলোয় প্রচুর সামাজিক সাহায‍্য ও সরকারি সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশিরা হাতে প্রচুর সময় পান, তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কোনো কমতি নেই। পক্ষান্তরে ছেশেলে সবাই সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার পর একমাত্র রবিবারই ছুটি, তাই সময় পাওয়া মুশকিল। প্রতিদিন কাজের পর সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে আড্ডা দেয়ার আর কোনো এনার্জি থাকেনা।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মেহেরপুরের জনৈক মাজহারুল ইসলাম প্রথম বাংলাদেশি, যিনি চাকরি নিয়ে এ দেশে আগমন করেন। প্রায় ৩২ বছর দেশটিতে বসবাস করার পর ৩ বছর আগে তিনি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। অত‍্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সবাই ওনাকে স্মরণ করেন। কেননা উনি নিজের এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষকে ছেশেলে আসার ব‍্যাপারে সাহায‍্য ও সহযোগিতা করেছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে কলম্বোতে ট্রানজিট নিয়েই বিশেষত অধিকাংশ মানুষ দেশটিতে আসেন। ভাড়া বর্তমানে শুধু আসা ৬৫ হাজার এবং আসা-যাওয়া ১ লাখ ১০ হাজারের মতো। মরিশাসের বাংলাদেশ দূতাবাস ছেশেলের দায়িত্ব পালন করছে। কনস্যুলার সেবা দেয়ার জন‍্য বছরে একবার সেখান থেকে কেউ একজন আসেন, যা নিতান্তই কম। তাই দেশটিতে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের সার্বিক প্রয়োজনের ব‍্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো সদুত্তর নেই। এ বিষয়ে একটি চাপা আক্ষেপ ও অভিযোগও তাদের মধ‍্যে লক্ষ করলাম।

আরও একটি বিশেষ লক্ষণীয়‍ ব্যাপার হচ্ছে, মোটামুটি সচ্ছলতার মধ‍্যে থেকেও অনেকেই ইউরোপ বা পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যেতে পারাটাই জীবনের স্বার্থকতা বলে মনে করেন। ইউটিউব, ফেসবুক আর গুগলের ক‍ল্যাণে পাশ্চাত্যের চাকচিক্যে পরিপূর্ণ এক আলোকময় জীবনের স্বপ্ন অনেকেরই। তাই চেষ্টা চলছে, যদি মহান আল্লাহ তাআলা সবার মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

লেখক, মহাসচিব,আয়েবা
প‍্যারিস, ফ্রান্স

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক