শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দ্বীপরাষ্ট্র ছেশেল” হৃদয়ের অনুভূতি

কাজী এনায়েত উল্লাহ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ পিএম
দ্বীপরাষ্ট্র ছেশেল” হৃদয়ের অনুভূতি

ভারত মহাসাগরের সবুজ ও পাহাড়বেষ্টিত ছোট্ট একটি দেশ ছেশেল। ১১৫টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার। এর বৃহৎ দ্বীপ মাহে তে অবস্থিত রাজধানীর নাম হচ্ছে ভিক্টোরিয়া। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো একটু দূরত্বে হলেও উল্লেখ করার মতো আছে মাদাগাস্কার,দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, মরিশাস, সেই সঙ্গে আরও একটু বেশি দূরত্বে আছে শ্রীলংকা। দেশটির জনসংখ্যা মূলত আফ্রিকান,ভারত এবং শতকরা ১০ ভাগের মতো ইউরোপিয়ান।

১৫০৩ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা তার দ্বিতীয় ভারত অভিযানকালে প্রথম এই দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার করলেও তিনি বেশি দিন এখানে থাকেননি। ১৬০৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের ঘাঁটি স্থাপন করলেও ১৭৩৫ থেকে ১৭৯৪ সাল পর্যন্ত ফরাসিরা এ দেশে তাদের আধিপত‍্য স্থাপন করে। এ সময় আফ্রিকান ক্রীতদাস ও বন্দীদের এ দেশে নিয়ে আসে এবং তাদের দিয়ে সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর মাধ‍্যমে দ্বীপগুলোকে মানুষের বাসযোগ‍্য করার কার্যক্রম শুরু করে। পরে দেশটিতে ১৭৯৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত পুনরায় ব্রিটিশ শাসন কায়েম হয়। ঔপনিবেশিক শক্তির নানা রকম চিহ্ন দেশটিতে এখনো বিদ‍্যমান। আফ্রিকান ক্রীতদাসের প্রথম গ্রুপে ছিলেন ২৬ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। কথিত আছে,ওই নারীই অনেক সন্তানের জন্ম দিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গোড়াপত্তন করেছিলেন। তাই তাকে ছেশেলের মাতা’ বলে সম্মানিত করা হয়। ওই সন্তানদের জন‍্য তৈরি করা এক কক্ষবিশিষ্ট একটি ক্লাস রুমের ভগ্নাবশেষ এখনো সংরক্ষিত আছে, যেখানে ২১ জন ছাত্রের পড়াশোনার ব‍্যবস্থা ছিল। তারা বছরের পর বছর ধরে এ দেশের চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে বাসযোগ‍্য করে তোলেন। ভিক্টোরিয়া,প্রালা ও লা ডিগ হচ্ছে দেশটির প্রধান ভূখণ্ড, যেখানে সময়ের সঙ্গে গড়ে উঠেছে নানা রকম অর্থনৈতিক কার্যক্রম। পরবর্তী সময়ে আরেক ঔপনিবেশিক শক্তি গ্রেট ব্রিটেন বিশ শতকের শুরুতে ফরাসিদের স্থান দখল করে নেয়। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকত প্রালার ‘অন্‌জ লাজিও”আর লা ডিগের ‘অন্‌জ সুর্স দারজঁ’ অন‍্যতম। এগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, সৈকত ঘিরে অবস্থান করছে বৃহৎকার নানা রঙের শিলা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন আসেন এ দুই দ্বীপে সমুদ্রস্নান করতে।

সমগ্র দ্বীপপুঞ্জ ছোট-বড় পাহাড়ের সমষ্টিমাত্র। সমুদ্রে সৃষ্ট মেঘগুলো পাহাড়ের গাঁ ঘেঁষে যখন সূর্যের সোনালি আভায় বিচ্ছুরিত হয়,তখন মনের অনুভূতি বর্ণনাতীত। প্রকৃতির নিয়মে বেড়ে ওঠা নানা প্রজাতির গাছপালা পাহাড়জুড়ে সবুজ দুর্বোধ্য বনাঞ্চলে রূপান্তরিত করছে,যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।
দেশটিতে ট্রপিক্যাল আবহাওয়ার কারণেই ট্রপিক্যাল ফলমূলের সমাহার,যা দেখে ও খেয়ে আমাদের বাংলাদেশের কথা বিশেষভাবে প্রাণে দোলা দেয়।
এখানে বিশেষ দুটি প্রচলিত ব‍্যাপার লক্ষণীয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, এ দেশে এক ধরনের নারকেল পাওয়া যায়,যাকে বলা হয় ‘সামুদ্রিক নারকেল’। বৃহদাকার এই ফলটি দেখতে অনেকটাই মানুষের নিতম্বের মতো। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে,এই নারকেলগাছ দুই রকম হয়, পুরুষ ও মহিলা গাছ। দুই রকম গাছের ফলও দুই ধরনের হয়। তাদের রেণুর মিলনে যে ফল হয়,তা খুবই সুরক্ষিত। বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই নারকেল দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া নিষেধ। এটি একটি জাতীয় সিম্বল। এই সামুদ্রিক নারকেলের প্রতিকৃতি এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনের যে এন্ট্রি বা এক্সিট সিল আছে, তাতেও দেখা যায়। এতেই এই বিশেষ ফলটির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে,এ দেশে এক ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপ আছে, যাদের বয়স ১৫০ থেকে ২০০ বছর। কচ্ছপগুলোর প্রধান খাদ‍্য একধরনের বিশেষ গাছের পাতা। এত বড় কচ্ছপ অনায়াসে কীভাবে পানি ছাড়াও বাস করতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
এ বছর দেশটিতে বেশ ঘটা করে উদযাপিত হচ্ছে বিশেষ কিছু দিবস, যেমন ৬ জুলাই মরিশাস ম‍্যারাথন, ১৪ জুলাই ফরাসি বিপ্লবের বাস্তিল ডে,১৬-১৮ জুলাই আফ্রিকান ফুড ফেয়ার, ৪-৫ সেপ্টেম্বর মিলাদ-উন-নবি, ২২-২৪ সেপ্টেম্বর ইহুদি নববর্ষ রোশসানা,২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর কলম্বো বুক ফেয়ার প্রভৃতি। আন্তর্জাতিকভাবে দিবসগুলো উদযাপিত হয় বিশেষত ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করার জন‍্য।

দেশটিতে ফরাসি ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রভাব খুবই শক্তিশালী, এ কারণেই এক মিশ্র ভাষা ‘ক্রেয়ল’ হচ্ছে এখানকার জাতীয় ভাষা। সেই সঙ্গে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষাও বহুলভাবে প্রচলিত। ভ্রমণকারীদের প্রথম স্থানে ফরাসি ও জার্মান, দ্বিতীয় রাশিয়ান ও ইতালিয়ান    এবং ব্রিটিশরা তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
খ্রিস্টান-অধ‍্যুষিত দেশ হলেও ছেশেলে কোনো রকম ধর্মীয় হিংসা-বিদ্বেষ নেই। মাহেতে চমৎকার চার্চ,মন্দিরের সাথে একটি বৃহৎ এবং একমাত্র মসজিদও লক্ষ করলাম।বর্তমানে দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। দেশটি ১৯৭৬ সালে ব্রিটিশ আধিপত‍্য থেকে মুক্তি লাভ করে এবং স্বাধীনতার এক বছর পরই সামরিক ক্যু সংঘঠিত হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে সাধারণ নির্বাচনে জিতে বামপন্থী একটি দল ক্ষমতায় ছিল দীর্ঘ সময়। তারপর এক ধর্মযাজকের নেতৃত্বে বিগত পাঁচ বছর নতুন সরকার দেশ শাসন করেছে। জনহিতকর বিভিন্ন কার্যকলাপের কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এ সরকারই পরবর্তী পাঁচ বছরের জন‍্য নির্বাচিত হবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন।

ভোটদাতাদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, তবে তা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে। মজার ব‍্যাপার হচ্ছে, ছেশেল অনেক লিবারেল অর্থনীতির একটি দেশ। প্রচুর বিদেশি অফশোর কোম্পানি দেশটিতে তাদের হেডকোয়ার্টার স্থাপন করেছে। আরব আমিরাতের সুলতান বিন নাহিয়ান দেশটিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন, অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় ওনার প্রাসাদ অত‍্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও তা দেখতে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দেশটিতে পুলিশের সংখ্যা দেখলে অবাক হতে হয়। মাত্র ৫০০ জন অফিসারসহ পুলিশ বাহিনী, যারা মূলত তিনটি বিশেষ দ্বীপেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এক সপ্তাহের অবস্থানে পুলিশের মাত্র একটি গাড়ি এবং চারজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পেয়েছি।দেশটির জনসংখ্যা ১ লাখ হলেও মোট গাড়ির সংখ্যা ৫০ হাজারের অধিক। পরিপাটি রাস্তাঘাটে সবাই শৃঙ্খলার সাথেই গাড়ি চালায়। একবারও কোনো হর্নের আওয়াজ শুনতে পাইনি।

অনেক সুনাম নিয়ে দেশটি বিশ্বব‍্যাপী সমাদৃত হওয়ার বিশেষ কারণ হচ্ছে, সরকার ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টি নিয়ে খুবই সচেতন। এখানকার হোটেল এবং সমস্ত ব‍্যবস্থাপনা খুবই ব‍্যয়বহুল। একমাত্র অবস্থাসম্পন্ন ব‍্যক্তিরাই বিশেষত প্রকৃতির এই সৌন্দর্য এবং বিরল ব‍্যবস্থাপনা উপভোগ করতে পারেন। রিসোর্ট এবং বিশ্বের লিডিং হোটেলগোষ্ঠীর অবস্থান এ দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ও কম অবস্থ‍াসম্পন্ন ভ্রমণকারীর সংখ্যা নগণ্যই বলা যায়, যাঁদের উপস্থিতি দেশটির সরকারও চায় না। মূলত বিষয়টা উচ্চ আয়সম্পন্ন ট্যুরিস্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। দেশটিতে সংরক্ষিত দ্বীপগুলোর মতোই প্রশাসনিক আইনশৃঙ্খলার কঠোরতা এবং সঠিক আইন প্রয়োগের কোনো কমতি নেই। তার পরও তরুণ সমাজের একটি অংশের ড্রাগ এবং সাধারণ মানুষের মধ‍্যে মাদকাসক্তি দেশটিতে ক্রমবর্ধমান।

ক‍্যাসিনো এখানে জমজমাট ব‍্যবসা এবং এর সামাজিক ও পারিবারিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষণীয়। মজার একটি ব‍্যাপার হলো,আমার স্ত্রী হিলটন হোটেলে আমাদের কটেজ থেকে লবিতে যাওয়ার পথে দুজন তরুণকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,“আপনারা কি বাঙালি?” এ কথা শুনে কর্মরত ওই দুজনের চোখ একেবারে কপালে উঠে গেল। এই সুদূর ছেশেলে কোনো ইউরোপিয়ান নারীর এভাবে বাংলা ভাষায় বলা কথা শুনে তারা তো অবাক! তারা উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলতেই আমার স্ত্রী আমাকে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন এবং এবার একইভাবে আমারও অবাক হওয়ার পালা। এই সুদূর ছেশেলেও বাংলাদেশি এসে পৌঁছেছে! আমি গেলাম তাদের সঙ্গে কথা বলতে।

একজন নরসিংদীর তুহিন,অন‍্যজন সিলেটের নাহিদ। দুজনই টগবগে তরুণ। আমার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটু আবেগাপ্লুত তারা। এই হোটেলে দুই বছর ধরে কাজ করার সময় এই প্রথম কোনো বাঙালির দেখা পেল তারা। বলল,“আপনি যে বাঙালি, তা দেখে বোঝার উপায় নেই। মনে হচ্ছে ইউরোপিয়ান।” আমি আমার পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললাম, একমাত্র ম‍্যাডাম ছাড়া আমার তিন সন্তান আর আমি বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ফ্রান্সে থাকায় গায়ের রং একটু পাল্টে গেছে। এ কথা শুনে তারা উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠল। পরবর্তী সময়ে পরিচয় হলো আজাদ মিয়া ও মাহমুদুল হাসান রিয়াদের সঙ্গে। শহরে ঘুরতে গিয়ে আমি নিজেই অনুমান করে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ওনারা বাংলাদেশি কি না? দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কাটালেও সেখানে নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ‍্যেও একটি আনন্দ আছে,একটি ভালো লাগা কাজ করে। ভীষণ অবাক হলাম এ কথা জানতে পেরে যে, ১ লাখ অধিবাসীর দেশটিতেও প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির বসবাস। তাঁরা বিভিন্ন কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিয়ে এসেছেন। সার্ভিস, কনস্ট্রাকশন, এগ্রিকালচারের জব অধিকাংশের। বেতন ৭০০ থেকে ১২০০ মার্কিন ডলার।

তাদের মধ্যে সামান‍্য কয়েকজন পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন,যাঁদের আয় তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। কোম্পানির বাসা এবং অনেক ক্ষেত্রে খাওয়াদাওয়ার ব‍্যবস্থাও আছে। তবে সবাই একমত যে আরব দেশগুলোর চেয়ে এখানে বেতন ও খাওয়াদাও‍য়া ভালো। সর্বোপরি এখানকার আবহাওয়া খুব চমৎকার! এখানে আমাদের দেশের কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেই জেনেও অবাক হলাম। কেননা ইউরোপের দেশগুলোয় প্রচুর সামাজিক সাহায‍্য ও সরকারি সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশিরা হাতে প্রচুর সময় পান, তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কোনো কমতি নেই। পক্ষান্তরে ছেশেলে সবাই সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার পর একমাত্র রবিবারই ছুটি, তাই সময় পাওয়া মুশকিল। প্রতিদিন কাজের পর সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে আড্ডা দেয়ার আর কোনো এনার্জি থাকেনা।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মেহেরপুরের জনৈক মাজহারুল ইসলাম প্রথম বাংলাদেশি, যিনি চাকরি নিয়ে এ দেশে আগমন করেন। প্রায় ৩২ বছর দেশটিতে বসবাস করার পর ৩ বছর আগে তিনি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। অত‍্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সবাই ওনাকে স্মরণ করেন। কেননা উনি নিজের এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষকে ছেশেলে আসার ব‍্যাপারে সাহায‍্য ও সহযোগিতা করেছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে কলম্বোতে ট্রানজিট নিয়েই বিশেষত অধিকাংশ মানুষ দেশটিতে আসেন। ভাড়া বর্তমানে শুধু আসা ৬৫ হাজার এবং আসা-যাওয়া ১ লাখ ১০ হাজারের মতো। মরিশাসের বাংলাদেশ দূতাবাস ছেশেলের দায়িত্ব পালন করছে। কনস্যুলার সেবা দেয়ার জন‍্য বছরে একবার সেখান থেকে কেউ একজন আসেন, যা নিতান্তই কম। তাই দেশটিতে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের সার্বিক প্রয়োজনের ব‍্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো সদুত্তর নেই। এ বিষয়ে একটি চাপা আক্ষেপ ও অভিযোগও তাদের মধ‍্যে লক্ষ করলাম।

আরও একটি বিশেষ লক্ষণীয়‍ ব্যাপার হচ্ছে, মোটামুটি সচ্ছলতার মধ‍্যে থেকেও অনেকেই ইউরোপ বা পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যেতে পারাটাই জীবনের স্বার্থকতা বলে মনে করেন। ইউটিউব, ফেসবুক আর গুগলের ক‍ল্যাণে পাশ্চাত্যের চাকচিক্যে পরিপূর্ণ এক আলোকময় জীবনের স্বপ্ন অনেকেরই। তাই চেষ্টা চলছে, যদি মহান আল্লাহ তাআলা সবার মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

লেখক, মহাসচিব,আয়েবা
প‍্যারিস, ফ্রান্স

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক