শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কাঁদছে নেপাল

উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই নতুন বন্যার শঙ্কা: মৃত ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৯ এম
উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই নতুন বন্যার শঙ্কা: মৃত ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার

কাঠমান্ডু: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে যখন মরিয়া উদ্ধার অভিযান চলছে, তখনই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর গতিপথে ধ্বংসাবশেষ জমে সৃষ্ট একটি বিশাল ‘ব্যারেজ লেক’-এর পানি দ্রুত বাড়ছে। সেটি ভেঙে গেলে আবারও ভয়াবহ ঢল নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে নেপাল ও চীন। এরই মধ্যে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৩৯২-এ পৌঁছেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪৬৮ জন এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

নেপালের সর্বশেষ সরকারি হিসাবে দেশটিতে ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ৯১০ জন নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। চীনের তিব্বত অঞ্চলে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং সেখানে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও সড়ক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু। বন্যার প্রবল স্রোতে বহু সেতু, রাস্তা, বসতি ও অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় স্থলপথে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্গম এলাকায় পৌঁছাচ্ছে এবং আটকে পড়াদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

নতুন করে বন্যার আশঙ্কাই এখন উদ্ধার অভিযানের গতিপথও বদলে দিচ্ছে। নেপাল-চীন সীমান্তের দুই পাশে ধ্বংসাবশেষে নদীর পানি আটকে নতুন জলাধার তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের তিব্বত অংশে তৈরি একটি হ্রদে আগামী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেটি উপচে বা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাই বাসিন্দা, পর্যটক ও উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক হওয়ায় দুর্যোগটি নেপালের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। নেপালের পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের পথে থাকা ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের একটি বড় অংশ এখনও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে অন্তত ২৮৮ ভারতীয় নাগরিক এখনও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে নিখোঁজের তালিকাটিও স্থির নয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের অনেকের সঙ্গে ধীরে ধীরে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের ৪১ জনের মধ্যে ৩৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের ১১৪ জনের মধ্যে ৬১ জন এখনও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব সংখ্যা দেখাচ্ছে, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হলে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা দ্রুত বদলে যেতে পারে।

নেপালের এই দুর্যোগের আন্তর্জাতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ায়। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে নেপালের জন্য ৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এখন প্রশ্ন শুধু কত মানুষ মারা গেল বা কতজন নিখোঁজ—তা নয়; প্রশ্ন হচ্ছে, হিমালয়ের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূপ্রকৃতিতে এমন দুর্যোগের পরপরই দ্বিতীয় বিপর্যয় ঠেকানোর মতো প্রস্তুতি নেপাল ও চীনের আছে কি না। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, লাংটাং লিরুং এলাকার হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে বরফ ও বিপুল পরিমাণ পাথর নিচে নেমে আসে এবং এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের স্রোত নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বিপর্যস্ত করে।

জলবায়ু পরিবর্তনও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, নির্দিষ্ট এই ধসের সরাসরি কারণ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে এখনই চূড়ান্তভাবে দায়ী করা যাচ্ছে না। তবে হিমবাহ গলে যাওয়া, পারমাফ্রস্ট দুর্বল হওয়া এবং উচ্চ হিমালয়ের ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার প্রবণতা উষ্ণ পৃথিবীতে বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, নেপালের এবারের সংকট এখন আর একটি ‘বন্যার পর উদ্ধার অভিযান’-এ সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধান, অন্যদিকে নতুন ব্যারেজ লেক ভেঙে দ্বিতীয় দফার বন্যার আশঙ্কা—দুই সংকট একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে নেপাল ও চীনকে। আর শত শত বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ থাকার কারণে আগামী কয়েক দিন এই উদ্ধার অভিযান শুধু নেপালের জন্য নয়, ভারতসহ বহু দেশের জন্যও বড় উদ্বেগের কেন্দ্র হয়ে থাকবে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক